পড়ার নোট
কার্বন ডাই-অক্সাইড একটি রেচন পদার্থ, কারণ এটি দেহকোষের বিপাকে তৈরি হয় এবং দেহের কোনো কাজে লাগে না। তবে এটি নাইট্রোজেনঘটিত নয়, আর একে বৃক্ক নয়, ফুসফুস বের করে।
কোথায় তৈরি হয়
প্রতিটি দেহকোষে শ্বসন চলে। শ্বসনে গ্লুকোজ অক্সিজেনের সাহায্যে ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়, সাথে তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি:
এখানে গ্লুকোজ, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি।
কীভাবে বের হয়
- কোষে তৈরি কার্বন ডাই-অক্সাইড রক্তে মেশে।
- রক্ত তা বয়ে ফুসফুসে নিয়ে যায়।
- ফুসফুস থেকে নিঃশ্বাসের সাথে তা দেহের বাইরে বের হয়।
কেন বের করা জরুরি
শ্বসন অবিরাম চলে, তাই কার্বন ডাই-অক্সাইডও অবিরাম তৈরি হয়। এটি দেহে জমতে থাকলে ক্ষতিকর হয়, তাই প্রতিটি নিঃশ্বাসে তা বের করে দেওয়া দরকার। দৌড়ালে বা ব্যায়াম করলে কোষে শ্বসন বাড়ে, বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়, তাই তখন আমরা দ্রুত ও গভীরভাবে শ্বাস নিই।
উদাহরণ: সমীকরণ অনুযায়ী 1টি গ্লুকোজ অণু ভাঙলে 6টি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু তৈরি হয়। একটি কোষে 5টি গ্লুকোজ অণু ভাঙলে কতটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু তৈরি হবে? টি। সমীকরণের দুই পাশে পরমাণু গোনো: কার্বন , হাইড্রোজেন , অক্সিজেন এবং ।
| রেচন পদার্থ | কোথায় তৈরি | অপসারণের অঙ্গ | নাইট্রোজেনঘটিত? |
|---|---|---|---|
| কার্বন ডাই-অক্সাইড | সব দেহকোষে, শ্বসনে | ফুসফুস | না |
| ইউরিয়া | যকৃতে | বৃক্ক | হ্যাঁ |
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে রেচন মানেই শুধু মূত্র। নিঃশ্বাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হওয়াও রেচন।
মনে রাখো: কার্বন ডাই-অক্সাইড শ্বসনে সব দেহকোষে তৈরি হওয়া রেচন পদার্থ; রক্ত তা ফুসফুসে বয়ে নেয় এবং নিঃশ্বাসের সাথে তা বের হয়, তবে এটি নাইট্রোজেনঘটিত নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।