পড়ার নোট
দেহের রেচন পদার্থের বেশির ভাগই নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য, অর্থাৎ যে বর্জ্যের অণুতে নাইট্রোজেন থাকে। এগুলো দেহের কোনো কাজে লাগে না, বরং জমে থাকলে রোগ সৃষ্টি করে।
প্রধান নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য
- ইউরিয়া: প্রধান নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য; যকৃতে তৈরি হয়।
- ইউরিক এসিড: মূত্রের একটি উপাদান।
- অ্যামোনিয়া: অত্যন্ত বিষাক্ত।
- ক্রিয়েটিনিন: মূত্রের একটি উপাদান; বৃক্ক বিকল হলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়।
উৎস
এই বর্জ্যগুলো মূলত প্রোটিন বিপাক থেকে আসে, কারণ প্রোটিনের গঠনে নাইট্রোজেন থাকে। শর্করা ও চর্বি ভাঙলে প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়, নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য নয়।
দেহ থেকে অপসারণ
নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য রক্তে মিশে বৃক্কে আসে। প্রতিটি নেফ্রন জটিল প্রক্রিয়ায় অবিরাম মূত্র তৈরি করে, আর এসব বর্জ্য মূত্রের সাথে বের হয়। মূত্র সংগ্রাহী নালিকা, পেলভিস ও ইউরেটার হয়ে মূত্রথলিতে জমে এবং ইউরেথ্রা দিয়ে বের হয়।
খাদ্য ও মূত্রের অম্লতা
অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে মূত্রের অম্লতা বাড়ে। অন্যদিকে ফলমূল ও শাকসবজি সাধারণত মূত্রকে ক্ষারীয় করে।
উদাহরণ: নিচের রেচন পদার্থগুলোর কোনটি নাইট্রোজেনঘটিত?
| পদার্থ | নাইট্রোজেনঘটিত? | অপসারণের অঙ্গ |
|---|---|---|
| ইউরিয়া | হ্যাঁ | বৃক্ক |
| ইউরিক এসিড | হ্যাঁ | বৃক্ক |
| ক্রিয়েটিনিন | হ্যাঁ | বৃক্ক |
| কার্বন ডাই-অক্সাইড | না | ফুসফুস |
| অতিরিক্ত পানি | না | বৃক্ক |
তিনটি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যই বৃক্ক দিয়ে বের হয়; কার্বন ডাই-অক্সাইড রেচন পদার্থ হলেও নাইট্রোজেনঘটিত নয়।
সাধারণ ভুল হলো সব রেচন পদার্থকে নাইট্রোজেনঘটিত ভাবা। কার্বন ডাই-অক্সাইড, অতিরিক্ত পানি ও লবণও রেচন পদার্থ, কিন্তু এগুলোতে নাইট্রোজেন নেই।
মনে রাখো: নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন) মূলত প্রোটিন বিপাক থেকে আসে এবং বৃক্ক তা মূত্রের সাথে বের করে; রক্তে ক্রিয়েটিনিন বাড়া বৃক্ক বিকলের একটি লক্ষণ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।