পড়ার নোট
আমরা খাবারের সাথে নানা ধরনের খনিজ লবণ গ্রহণ করি, যেমন সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) ও পটাশিয়াম ক্লোরাইড। দেহের কাজের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ লবণ দরকার; প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ রেচন পদার্থ হিসেবে দেহ থেকে বের করে দিতে হয়।
বৃক্ক কীভাবে লবণের ভারসাম্য রাখে
- নেফ্রনের গ্লোমেরুলাসে রক্ত ছাঁকার সময় পানি, ইউরিয়া ও গ্লুকোজের সাথে খনিজ লবণও বৃক্ক নালিকায় আসে।
- বৃক্ক নালিকা দিয়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ আবার রক্তে ফিরে যায়।
- অতিরিক্ত লবণ মূত্রের সাথে থেকে যায় এবং দেহ থেকে বের হয়।
এভাবে বৃক্ক রক্তে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদির ভারসাম্য বজায় রাখে। লবণের সাথে পানির ভারসাম্যও জড়িত, তাই বৃক্ক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া গরমে ঘামের সাথেও দেহ থেকে কিছু পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
লবণ নিয়ে সতর্কতা: স্যালাইন
অনেকে ডায়রিয়া বা বমি না থাকলেও গরমে ঘামলে, ক্লান্ত লাগলে বা কোনো কারণ ছাড়াই খাবার স্যালাইন খান। এটি ঠিক নয়, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য; এতে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি হতে পারে। ডায়রিয়া বা বমিতেও চিকিৎসকের পরামর্শমতো নির্দিষ্ট পরিমাণে স্যালাইন খেতে হয়।
উদাহরণ: ফুটবল খেলার পর রবিন খুব ঘেমে গেছে ও ক্লান্ত লাগছে; তার ডায়রিয়া বা বমি নেই। সে কী পান করবে?
| বিকল্প | উপযুক্ত কি না | কারণ |
|---|---|---|
| খাবার স্যালাইন | না | ডায়রিয়া বা বমি ছাড়া অপ্রয়োজনীয় লবণ |
| পানিতে লেবুর রস ও এক চিমটি লবণ | হ্যাঁ | সাধারণ ক্লান্তি ও ঘামে যথেষ্ট |
| ডায়াবেটিস না থাকলে তার সাথে সামান্য চিনি | হ্যাঁ | বাড়তি শক্তি দেয় |
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে বেশি লবণ বা স্যালাইন খেলে সবসময় উপকার হয়। অতিরিক্ত লবণ বের করতে বৃক্কের উপর চাপ পড়ে।
মনে রাখো: প্রয়োজনের অতিরিক্ত খনিজ লবণ রেচন পদার্থ; বৃক্ক প্রয়োজনীয় লবণ রক্তে ফিরিয়ে নিয়ে বাকিটা মূত্রের সাথে বের করে, আর অকারণে স্যালাইন খাওয়া ঠিক নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।