পড়ার নোট
ইউরিয়া মানুষের প্রধান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থ এবং মূত্রের একটি প্রধান উপাদান।
কোথা থেকে আসে
আমরা যে প্রোটিন খাই, তা পরিপাক হয়ে অ্যামাইনো এসিড হিসেবে দেহে শোষিত হয়। দেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিড ভাঙলে তার নাইট্রোজেন থেকে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়, যা অত্যন্ত বিষাক্ত। যকৃৎ এই অ্যামোনিয়াকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর ইউরিয়ায় পরিণত করে। অর্থাৎ ইউরিয়া তৈরি হয় যকৃতে, বৃক্কে নয়।
কীভাবে বের হয়
- যকৃতে তৈরি ইউরিয়া রক্তে মিশে সারা দেহে ঘোরে।
- রেনাল ধমনী দিয়ে রক্ত বৃক্কে আসে।
- নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে; ইউরিয়া, পানি, গ্লুকোজ ও লবণ রক্ত থেকে ছেঁকে বৃক্ক নালিকায় আসে।
- গ্লুকোজ ও প্রয়োজনীয় লবণ আবার রক্তে ফিরে যায়, কিন্তু ইউরিয়া মূত্রের সাথে থেকে যায়।
- ইউরিয়ামুক্ত পরিশোধিত রক্ত রেনাল শিরা দিয়ে বৃক্ক থেকে বের হয়।
জমে গেলে কী হয়
বৃক্ক ঠিকমতো কাজ না করলে ইউরিয়াসহ নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য রক্তে জমতে থাকে, যা দেহের জন্য ক্ষতিকর। তখন ডায়ালাইসিস যন্ত্র দিয়ে রক্ত থেকে ইউরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ আলাদা করতে হয়।
খাদ্যের সাথে সম্পর্ক
খাদ্যে প্রোটিন বেশি হলে বেশি অ্যামাইনো এসিড ভাঙে, ফলে বেশি ইউরিয়া তৈরি হয় এবং বৃক্ককে বেশি কাজ করতে হয়।
উদাহরণ: রেনাল ধমনী ও রেনাল শিরার রক্তের তুলনা করো।
| বৈশিষ্ট্য | রেনাল ধমনী (বৃক্কে ঢোকে) | রেনাল শিরা (বৃক্ক থেকে বের হয়) |
|---|---|---|
| ইউরিয়ার পরিমাণ | বেশি | অনেক কম |
| গ্লুকোজ | থাকে | থাকে (ফিরে আসে) |
বৃক্কে ঢোকার আগে ও পরে রক্তে ইউরিয়ার পার্থক্যই বলে দেয় যে বৃক্ক ইউরিয়া সরিয়েছে।
সাধারণ ভুল হলো বলা "ইউরিয়া বৃক্কে তৈরি হয়"। বৃক্ক ইউরিয়া তৈরি করে না, শুধু রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে; ইউরিয়া তৈরি হয় যকৃতে।
মনে রাখো: ইউরিয়া প্রধান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থ, যা যকৃতে অ্যামোনিয়া থেকে তৈরি হয় এবং বৃক্কের গ্লোমেরুলাসে ছেঁকে মূত্রের সাথে বের হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।