পড়ার নোট
বিপাকের ফলে তৈরি যেসব অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদার্থ দেহ থেকে বের করে দিতে হয়, সেগুলোই রেচন পদার্থ। মানুষের রেচন পদার্থের বেশির ভাগ নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য, আর এগুলো প্রধানত মূত্র হিসেবে দেহ থেকে বের হয়।
প্রধান রেচন পদার্থ
- ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ও ক্রিয়েটিনিন: নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য, বৃক্ক মূত্রের মাধ্যমে বের করে।
- বিভিন্ন লবণ: সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদির অতিরিক্ত অংশ।
- অতিরিক্ত পানি: মূত্রের মাধ্যমে বের হয়।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড: শ্বসনে তৈরি, ফুসফুস দিয়ে বের হয়।
মূত্রের উপাদান
স্বাভাবিক মূত্রের প্রায় 95% পানি; বাকি অংশে থাকে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন লবণ। ইউরোক্রোম নামের রঞ্জক পদার্থের কারণে মূত্রের রং হালকা হলুদ। বেশি প্রোটিন খেলে মূত্রের অম্লতা বাড়ে, আর ফলমূল ও শাকসবজি সাধারণত মূত্রকে ক্ষারীয় করে।
কোন বর্জ্য কোন অঙ্গ দিয়ে বের হয়
| রেচন পদার্থ | অঙ্গ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| কার্বন ডাই-অক্সাইড | ফুসফুস | রক্ত বয়ে আনে, নিঃশ্বাসে বের হয় |
| নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য | বৃক্ক | মূত্রের সাথে |
| ইউরিয়া, ইউরিক এসিড | বৃক্ক | মূত্রের সাথে |
| অতিরিক্ত পানি | বৃক্ক | প্রধানত মূত্রের সাথে |
উদাহরণ: একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ দিনে প্রায় 1500 mL মূত্র ত্যাগ করেন। এর 95% পানি হলে কত mL পানি আর কত mL অন্যান্য পদার্থ? পানি mL; অন্যান্য পদার্থ mL। এই অল্প অংশেই ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও লবণ থাকে।
সাধারণ ভুল হলো মূত্রের হলুদ রঙকে সবসময় রোগের লক্ষণ ভাবা। হালকা হলুদ রং ইউরোক্রোমের কারণে স্বাভাবিক।
মনে রাখো: রেচন পদার্থ মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন), সাথে অতিরিক্ত লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড; মূত্রের প্রায় 95% পানি, আর ইউরোক্রোম একে হালকা হলুদ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।