offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৮ · টপিক ২

রেচন পদার্থ

পড়ার নোট

বিপাকের ফলে তৈরি যেসব অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদার্থ দেহ থেকে বের করে দিতে হয়, সেগুলোই রেচন পদার্থ। মানুষের রেচন পদার্থের বেশির ভাগ নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য, আর এগুলো প্রধানত মূত্র হিসেবে দেহ থেকে বের হয়।

প্রধান রেচন পদার্থ

  • ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ও ক্রিয়েটিনিন: নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য, বৃক্ক মূত্রের মাধ্যমে বের করে।
  • বিভিন্ন লবণ: সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদির অতিরিক্ত অংশ।
  • অতিরিক্ত পানি: মূত্রের মাধ্যমে বের হয়।
  • কার্বন ডাই-অক্সাইড: শ্বসনে তৈরি, ফুসফুস দিয়ে বের হয়।

মূত্রের উপাদান

স্বাভাবিক মূত্রের প্রায় 95% পানি; বাকি অংশে থাকে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন লবণ। ইউরোক্রোম নামের রঞ্জক পদার্থের কারণে মূত্রের রং হালকা হলুদ। বেশি প্রোটিন খেলে মূত্রের অম্লতা বাড়ে, আর ফলমূল ও শাকসবজি সাধারণত মূত্রকে ক্ষারীয় করে।

কোন বর্জ্য কোন অঙ্গ দিয়ে বের হয়

রেচন পদার্থঅঙ্গমন্তব্য
কার্বন ডাই-অক্সাইডফুসফুসরক্ত বয়ে আনে, নিঃশ্বাসে বের হয়
নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যবৃক্কমূত্রের সাথে
ইউরিয়া, ইউরিক এসিডবৃক্কমূত্রের সাথে
অতিরিক্ত পানিবৃক্কপ্রধানত মূত্রের সাথে

উদাহরণ: একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ দিনে প্রায় 1500 mL মূত্র ত্যাগ করেন। এর 95% পানি হলে কত mL পানি আর কত mL অন্যান্য পদার্থ? পানি =1500×95100=1425= 1500 \times \frac{95}{100} = 1425 mL; অন্যান্য পদার্থ =1500−1425=75= 1500 - 1425 = 75 mL। এই অল্প অংশেই ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও লবণ থাকে।

সাধারণ ভুল হলো মূত্রের হলুদ রঙকে সবসময় রোগের লক্ষণ ভাবা। হালকা হলুদ রং ইউরোক্রোমের কারণে স্বাভাবিক।

মনে রাখো: রেচন পদার্থ মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন), সাথে অতিরিক্ত লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড; মূত্রের প্রায় 95% পানি, আর ইউরোক্রোম একে হালকা হলুদ করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. চট্টগ্রামের একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকে একজন সুস্থ ব্যক্তির ২৪ ঘণ্টার নির্গত মূত্র সংগ্রহ করে পরিমাপ করা হলো এবং দেখা গেল তার মোট মূত্রের আয়তন ১.৫ L। এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তক অনুসারে স্বাভাবিক মানব মূত্রের শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ হলো পানি এবং বাকি ৫ ভাগ বিভিন্ন নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন) ও খনিজ লবণ। ওই ব্যক্তির একদিনে নির্গত মোট মূত্রে পানির পরিমাণ কত লিটার (L)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ১.৪২৫ L

    1. মোট নির্গত মূত্রের আয়তন V = ১.৫ L এবং মূত্রে পানির আনুপাতিক হার = ৯৫% = ০.৯৫।
    Vurine=1.5 L,Water percentage=95%V_{\text{urine}} = 1.5\text{ L},\quad \text{Water percentage} = 95\%
    1. মূত্রে বিদ্যমান পানির মোট আয়তন = মোট মূত্রের আয়তন × ৯৫% = ১.৫ L × ০.৯৫ = ১.৪২৫ L।
    Vwater=1.5 L×0.95=1.425 LV_{\text{water}} = 1.5\text{ L} \times 0.95 = 1.425\text{ L}
  2. কোন রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির কারণে সুস্থ মানুষের মূত্রের স্বাভাবিক বর্ণ হালকা হলুদ হয়?

    1. ক

      বিলিরুবিন (Bilirubin)

    2. খ

      হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin)

    3. গ

      ইউরোক্রোম (Urochrome)

    4. ঘ

      মেলানিন (Melanin)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) ইউরোক্রোম (Urochrome)

    1. এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তক অনুসারে, মূত্রে ইউরোক্রোম (urochrome) নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে এর স্বাভাবিক রং হালকা হলুদ দেখায়।
    2. বিলিরুবিন হলো যকৃতে উৎপন্ন পিত্তরঞ্জক যা জন্ডিস হলে মূত্রকে অস্বাভাবিক গাঢ় হলুদ করে, কিন্তু স্বাভাবিক মূত্রের হালকা হলুদ রঙের জন্য ইউরোক্রোম দায়ী।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো