পড়ার নোট
আমাদের দেহকোষে প্রতিনিয়ত অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়া চলে, যাকে বিপাক বলে। এসব বিক্রিয়ার কিছু উৎপাদ দেহের কাজে লাগে, কিন্তু কিছু উৎপাদ বিষাক্ত। এগুলো দেহে দীর্ঘদিন জমে থাকলে নানা রোগ, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
রেচন ও রেচনতন্ত্র
যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় বিপাকের ফলে উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে বের করে দেওয়া হয়, তাকে রেচন বলে। যে তন্ত্রের মাধ্যমে এই বর্জ্য দেহ থেকে বের হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক। শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রাখতে বৃক্ক অতিরিক্ত পানি, লবণ ও জৈব পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেয়। বৃক্কের গঠনগত ও কার্যকরী একক নেফ্রন।
রেচনতন্ত্রের অংশ
- বৃক্ক: রক্ত ছেঁকে মূত্র তৈরি করে।
- ইউরেটার: বৃক্ক থেকে মূত্র মূত্রথলিতে নেয়।
- মূত্রথলি: মূত্র সাময়িকভাবে জমা রাখে।
- ইউরেথ্রা: মূত্র দেহের বাইরে বের করে।
শুধু বৃক্কই নয়
শ্বসনে গ্লুকোজ ভেঙে যে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়, রক্ত তা ফুসফুসে বয়ে নেয় এবং ফুসফুস থেকে তা দেহের বাইরে যায়। তেমনি বৃক্ক নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য ও অতিরিক্ত এসিড বের করে দেয়।
উদাহরণ: নিচের ঘটনাগুলোর কোনটি রেচন?
| ঘটনা | রেচন কি না | কারণ |
|---|---|---|
| প্রস্রাবের সাথে ইউরিয়া বের হওয়া | হ্যাঁ | বিপাকে তৈরি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য |
| নিঃশ্বাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হওয়া | হ্যাঁ | শ্বসনে কোষে তৈরি বর্জ্য |
| মলের সাথে না-হজম হওয়া আঁশ বের হওয়া | না | এটি কোষের বিপাকে তৈরি হয়নি, খাদ্যের অপাচ্য অংশ |
সাধারণ ভুল হলো মলত্যাগকে রেচন বলা। মলের বেশির ভাগ অংশ খাদ্যের অপাচ্য অংশ, যা কখনো দেহকোষে প্রবেশই করেনি; রেচন হলো কোষের বিপাকে তৈরি বর্জ্য বের করা।
মনে রাখো: রেচন হলো বিপাকে তৈরি নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য দেহ থেকে বের করার প্রক্রিয়া; মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক, আর এর কার্যকরী একক নেফ্রন।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।