offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ১৬

বাষ্পায়নের উপর নিয়ামকের প্রভাব

পড়ার নোট

ভেজা কাপড় শুকানোর সময় কাপড়ের পানি বাষ্প হয়ে বাতাসে চলে যায়। এই বাষ্পায়নের হার বলতে বোঝায় বাষ্পায়ন কত দ্রুত ঘটছে। একই পরিমাণ পানি সব অবস্থায় একই সময়ে শুকায় না। তরল ও তার আশপাশের অবস্থার পরিবর্তনে এই হার বদলে যায়। কোনো একটি বিষয়ের প্রভাব তুলনা করার সময় অন্য বিষয়গুলো একই রাখতে হয়।

  • বাতাসের প্রবাহ: তরলের ওপর দিয়ে বাতাসের প্রবাহ বাড়লে বাষ্পায়ন বাড়ে। প্রবাহিত বাতাস তরলের কাছাকাছি জমে থাকা বাষ্প সরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে আরও অণু বাষ্প হয়ে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। তাই পাখার বাতাসে ভেজা জামা তুলনামূলক দ্রুত শুকায়।
  • তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল: বাতাসের সংস্পর্শে থাকা উপরিভাগ যত বড়, তত বেশি অণু একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তাই গ্লাসের পানি বড় থালায় ঢাললে দ্রুত শুকায়। কাপড় ভাঁজ করে রাখার বদলে ভালো করে মেলে দেওয়ার কারণও এটি।
  • তরলের প্রকৃতি: স্ফুটনাঙ্ক কম এমন তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশি হয়। অণুগুলো কত সহজে তরল ছেড়ে বেরোতে পারে, তা তরলের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। সহজে বাষ্প হয় এমন উদ্বায়ী তরল দ্রুত বাষ্পায়িত হয়। তাই একই পরিবেশে সব তরল সমান দ্রুত শুকায় না।
  • বাতাসের চাপ: চাপ কমলে তরল থেকে অণু বেরিয়ে যাওয়া সহজ হয় এবং বাষ্পায়নের হার বাড়ে। শূন্যস্থানে বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি হয়। খাদ্য সংরক্ষণের জন্য শুকানোর সময় পাম্প দিয়ে বাতাস সরিয়ে চাপ কমানো হয়।
  • উষ্ণতা: তরল এবং তার কাছাকাছি বাতাসের উষ্ণতা বাড়লে বাষ্পায়ন বাড়ে। বেশি শক্তি পেয়ে আরও বেশি অণু তরল থেকে মুক্ত হতে পারে। তাই রোদে মেলে দেওয়া কাপড় সাধারণত দ্রুত শুকায়।
  • বায়ুর শুষ্কতা: বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকলে বায়ু শুষ্ক থাকে। শুষ্ক বাতাসে পানি দ্রুত বাষ্পায়িত হয়। বর্ষার আর্দ্র বাতাসে কাপড় দেরিতে শুকায়; শীতের শুষ্ক দিনে ঘরের ছায়াতেও শুকাতে পারে।

সাধারণ ভুল: শুধু গরম হলেই কাপড় দ্রুত শুকাবে ভাবা। উষ্ণতার পাশাপাশি আর্দ্রতা, বাতাসের প্রবাহ ও উন্মুক্ত ক্ষেত্রফলও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশের বর্ষায় গরম থাকলেও কাপড় শুকাতে দেরি হতে পারে।

মনে রাখো: প্রবাহ, উপরিভাগের ক্ষেত্রফল, উষ্ণতা ও শুষ্কতা বাড়লে এবং চাপ কমলে বাষ্পায়ন বাড়ে; তরলের প্রকৃতিও এর হার নির্ধারণ করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • গরমে মাটির কলসির পানি ঠান্ডা থাকে কেন?চালিয়ে দেখো

    চৈত্রের দুপুরে স্টিলের জগের পানি গরম, কিন্তু মাটির কলসির পানি বেশ ঠান্ডা। দাদি বলেন, মাটি নিজেই ঠান্ডা জিনিস। কলসির গায়ে হাত দিলে ভেজা ভেজা লাগে। কলসির পানি ঠান্ডা থাকার আসল কারণ কী, আর বর্ষার ভ্যাপসা দিনে কি এটা একইভাবে কাজ করবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. গ্রীষ্মকালে মাটির তৈরি কলসিতে রাখা পানি বেশ ঠান্ডা থাকে কেন? এর পেছনে বাষ্পায়নের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    মাটির কলসির গায়ে অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রন্ধ্র বা ছিদ্র থাকে, যা দিয়ে পানি ধীরে ধীরে চুইয়ে বাইরের পৃষ্ঠে চলে আসে। এই পানি বাইরের তলে এসে বাষ্পায়িত (evaporate) হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ কলসি ও ভেতরের পানি থেকে গ্রহণ করে। ফলে ভেতরের পানির অভ্যন্তরীণ তাপ কমে যায় এবং তা বেশ ঠান্ডা থাকে।

    1. মাটির পাত্রের রন্ধ্র দিয়ে পানি বাইরে চুইয়ে এসে বাষ্পায়নের পৃষ্ঠ তৈরি করে।
    2. বাষ্পায়নের জন্য সুপ্ততাপ ভেতরের পানি থেকে শোষিত হওয়ায় পানির তাপমাত্রা হ্রাস পায় ও ঠান্ডা অনুভূত হয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো