পড়ার নোট
বাষ্পায়ন হলো তরলের উপরিভাগ থেকে যেকোনো তাপমাত্রায় বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া। এতে তরলকে স্ফুটনাঙ্কে পৌঁছাতে হয় না। বাষ্পে পরিণত হওয়ার জন্য অণুগুলোর শক্তি প্রয়োজন। এই শক্তি তরল নিজে এবং সংস্পর্শে থাকা বস্তু বা পরিবেশ থেকে তাপ হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে তাপ সরবরাহকারী তরল ও বস্তু শীতল হয়। এভাবেই বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে।
তরল থেকে বাষ্পে পরিবর্তনের জন্য নেওয়া তাপ হলো বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ। এই তাপ অবস্থার পরিবর্তনে ব্যবহৃত হয়। তাই বাষ্পায়নের জন্য তাপ গ্রহণ করা হচ্ছে মানেই তরলের তাপমাত্রা বাড়ছে, এমন নয়। বাইরে থেকে যথেষ্ট তাপ সরবরাহ না হলে তরলের নিজের শক্তি কমে এবং তাপমাত্রা নেমে যায়।
অণুর গতির সাহায্যেও ঘটনাটি বোঝা যায়। তরলের সব অণুর গতিশক্তি সমান নয়। উপরিভাগের যেসব অণুর যথেষ্ট গতিশক্তি আছে, তারা পারস্পরিক আকর্ষণ অতিক্রম করে বেরিয়ে যেতে পারে। তুলনামূলক বেশি শক্তির অণু বেরিয়ে গেলে অবশিষ্ট অণুগুলোর গড় গতিশক্তি কমে। তাপমাত্রা অণুগুলোর গড় গতিশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তরল ঠান্ডা হয়।
গরমের দিনে মাঠে খেলার পর ঘামে ভেজা শরীরে বাতাস লাগলে আরাম হয়। ঘামের পানি বাষ্প হওয়ার জন্য শরীর থেকে সুপ্ততাপ নেয়। ভিড়ভরা আবদ্ধ স্থান থেকে খোলা জায়গায় এলেও একই কারণে শরীর জুড়িয়ে যায়। পাখার বাতাস ঘামের বাষ্পায়ন বাড়ায়, তাই শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটে।
মাটির কলসির ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে সামান্য পানি বাইরে আসে। সেই পানি বাষ্প হওয়ার সময় কলসি ও ভেতরের পানি থেকে তাপ নেয়। ফলে ভেতরের পানি ঠান্ডা থাকে। এখানে পানি বাইরে এসে শুধু হারিয়ে যাচ্ছে না; বাষ্পায়নের মাধ্যমে তাপও সরিয়ে নিচ্ছে।
উল্টো প্রক্রিয়ায়, ঘনীভবন বা বাষ্প থেকে তরলে পরিবর্তনের সময় সুপ্ততাপ বের হয়। একই তাপমাত্রার ফুটন্ত পানির তুলনায় সমপরিমাণ বাষ্প বেশি পোড়াতে পারে, কারণ ঘনীভবনের সময় অতিরিক্ত তাপ দেয়। সমুদ্রের জলীয় বাষ্প উপরে উঠে জলকণায় পরিণত হলে মুক্ত তাপ ঘূর্ণিঝড়ে শক্তি জোগায়।
সাধারণ ভুল: ঘাম জমলেই শরীর ঠান্ডা হয় ভাবা। শীতলতার মূল কারণ ঘামের বাষ্পায়নের সময় শরীর থেকে তাপ গ্রহণ।
মনে রাখো: বাষ্পায়ন তরল ও তার আশপাশ থেকে সুপ্ততাপ গ্রহণ করে, তাই শীতলতা সৃষ্টি হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।