বাষ্পায়ন কী?
যেকোনো তাপমাত্রায় তরলের উপরিতল থেকে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হওয়াকে বাষ্পায়ন বলে। ভেজা কাপড় রোদে না থাকলেও শুকায়, উঠানের পানি মাটিতে না ঢুকলেও উধাও হয়: সবই বাষ্পায়ন। উপরিতলের যে অণুগুলোর শক্তি বেশি, তারাই বেরিয়ে যায়; ফলে বাকি তরলের গড় শক্তি কমে, আর তরল ঠান্ডা হয়।
স্ফুটন কী?
তাপ দিতে দিতে তরলের তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট মানে পৌঁছালে তরলের ভেতর থেকেও বাষ্প তৈরি হয়ে বুদবুদ আকারে উঠে আসে। একে স্ফুটন বলে, আর সেই তাপমাত্রাকে স্ফুটনাঙ্ক বলে। স্বাভাবিক বায়ুচাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০ °C। স্ফুটন চলাকালে যত তাপ দাও, তাপমাত্রা ১০০ °C-তেই থাকে; সেই তাপ পানিকে বাষ্পে রূপ দিতে খরচ হয় (বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ)।
বাস্তব জীবনে
- মাটির কলসির গায়ের অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে পানি চুঁইয়ে বাইরে আসে আর বাষ্পায়িত হয়। বাষ্পায়নে তাপ লাগে, সেই তাপ কলসির পানি থেকে নেওয়া হয়, তাই কলসির পানি ঠান্ডা থাকে।
- গরমে ঘাম শুকালে শরীর ঠান্ডা লাগে একই কারণে।
- পাহাড়ের ওপর বায়ুচাপ কম, তাই সেখানে পানি ১০০ °C-এর কম তাপমাত্রাতেই ফোটে, আর ভাত সিদ্ধ হতে সময় লাগে।
মিল কোথায়
- দুটিতেই তরল বাষ্পে পরিণত হয়।
- দুটিতেই তাপ শোষিত হয় (বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ)।
সাধারণ ভুল
- "বাষ্পায়ন কেবল ১০০ °C-এ হয়" লেখা। ১০০ °C হলো পানির স্ফুটনাঙ্ক; বাষ্পায়ন যেকোনো তাপমাত্রায় হয়।
- স্ফুটনের সময় তাপমাত্রা বাড়তেই থাকে ভাবা। স্ফুটন চলাকালে তাপমাত্রা স্থির থাকে।