পড়ার নোট
কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করার সময় বস্তুটি যদি বলের দিকে দূরত্ব সরে যায়, তবে ঐ বলের করা কাজ:
এখানে হলো কাজ (একক জুল, J), হলো প্রযুক্ত বল (একক নিউটন, N) এবং হলো বলের দিকে সরণ (একক মিটার, m)। এই বইয়ে শুধু সেসব ক্ষেত্র আলোচনা করা হয় যেখানে বল ও সরণ একই রেখা বরাবর।
হিসাবের নিয়ম:
- সরণ বলের দিকে হলে কাজ ধনাত্মক: ।
- সরণ বলের বিপরীত দিকে হলে কাজ ঋণাত্মক: । যেমন চলন্ত বস্তুকে থামাতে গিয়ে সেটি তোমাকে পেছনে ঠেলে নিলে তোমার বল ঋণাত্মক কাজ করে।
- বল সরিয়ে নেওয়ার পর বস্তু আরও কিছু দূর গেলে, সেই অংশে ঐ বল কোনো কাজ করে না।
- কোনো বস্তুকে উচ্চতায় তুলতে তার ওজন এর সমান বল উপরের দিকে লাগে, তাই কাজ ।
উদাহরণ 1: একজন রিকশাচালক রিকশাকে 200 N বল দিয়ে টেনে 50 m নিয়ে গেলেন। ঘর্ষণ বল বিপরীত দিকে 150 N।
- চালকের বল দিয়ে কাজ J kJ।
- ঘর্ষণ বল দিয়ে কাজ J।
চালকের কাজে রিকশা শক্তি পেয়েছে, আর ঘর্ষণের ঋণাত্মক কাজে তার একটি অংশ তাপ হিসেবে ক্ষয় হয়েছে।
উদাহরণ 2: 60 kg ভরের একজন শিক্ষার্থী সিঁড়ি দিয়ে 5 তলা উপরে উঠল; প্রতি তলার উচ্চতা 3 m। মোট উচ্চতা m। ওজন N। তাই কাজ J kJ।
লক্ষ করো, কাজের হিসাবে সময়ের কোনো ভূমিকা নেই: শিক্ষার্থী দৌড়ে উঠুক বা ধীরে, কাজ একই। কত দ্রুত কাজ হলো, সেটি মাপে ক্ষমতা।
সাধারণ ভুল হলো এর জায়গায় মোট চলা পথ বসানো, যদিও তার কিছু অংশে বল প্রয়োগই করা হয়নি। কেবল যতটুকু দূরত্ব বল প্রয়োগ অবস্থায় অতিক্রম হয়েছে, সেটিই নিতে হবে।
মনে রাখো: কাজ ; সরণ বলের দিকে হলে কাজ ধনাত্মক, বিপরীত দিকে হলে ঋণাত্মক, আর উপরে তুলতে কাজ ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।