পড়ার নোট
সমীকরণে চলকের বর্গমূলযুক্ত রাশি থাকলে তাকে মূল চিহ্ন সংবলিত সমীকরণ বা বর্গমূলবিশিষ্ট সমীকরণ বলে, যেমন । উভয় পক্ষ বর্গ করে বর্গমূল চিহ্নমুক্ত নতুন সমীকরণ পাওয়া যায়। কিন্তু নতুন সমীকরণের সব মূল অনেক সময় প্রদত্ত সমীকরণকে সিদ্ধ করে না। এমন মূলকে অবান্তর মূল বলে।
কেন এমন হয়? বর্গ করলে চিহ্নের তথ্য হারিয়ে যায়: এবং । কিন্তু চিহ্ন সবসময় অঋণাত্মক বর্গমূল বোঝায়। তাই বর্গ করার পর যে মান আসে, তার কিছু মূল সমীকরণে খাটে না।
সমাধানের ধাপ:
- সম্ভব হলে বর্গমূলযুক্ত পদটিকে এক পাশে আলাদা করো।
- উভয় পক্ষ বর্গ করো; দরকার হলে আবার আলাদা করে পুনরায় বর্গ করো।
- নতুন সমীকরণ সমাধান করো।
- প্রতিটি মান প্রদত্ত সমীকরণে বসিয়ে শুদ্ধি পরীক্ষা করো; যেগুলো সিদ্ধ করে শুধু সেগুলোই সমাধান।
উদাহরণ: সমাধান করো।
উভয় পক্ষ বর্গ করে , বা , বা । তাই বা ।
শুদ্ধি পরীক্ষা: হলে বামপক্ষ , ডানপক্ষ ; সমান। হলে বামপক্ষ , কিন্তু ডানপক্ষ ; সমান নয়। সুতরাং অবান্তর মূল এবং নির্ণেয় সমাধান ।
তিনটি বর্গমূলযুক্ত পদ থাকলে, যেমন , একবার বর্গ করে বর্গমূলযুক্ত পদ আলাদা করে আবার বর্গ করতে হয়; এক্ষেত্রে পাওয়া যায় এবং শুদ্ধি পরীক্ষায় উভয় পক্ষ হয়।
সাধারণ ভুল হলো বর্গ করে পাওয়া দুটি মানই উত্তর হিসেবে লিখে দেওয়া। শুদ্ধি পরীক্ষা ছাড়া এ ধরনের সমীকরণের সমাধান সম্পূর্ণ হয় না।
মনে রাখো: মূল চিহ্ন সংবলিত সমীকরণে বর্গ করলে অবান্তর মূল আসতে পারে; তাই প্রতিটি মান প্রদত্ত সমীকরণে বসিয়ে শুদ্ধি পরীক্ষা করতে হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।