পড়ার নোট
একটি বহুপদীকে লব এবং আরেকটি বহুপদীকে হর ধরে গঠিত ভগ্নাংশকে মূলদ ভগ্নাংশ বলে। যেমন । কোনো ভগ্নাংশকে একাধিক সরল ভগ্নাংশের যোগফল রূপে লিখলে, ওই ছোট ভগ্নাংশগুলোর প্রত্যেকটিকে মূল ভগ্নাংশের আংশিক ভগ্নাংশ বলে।
লব এর মাত্রা হর এর মাত্রার চেয়ে ছোটো হলে ভগ্নাংশটি প্রকৃত ভগ্নাংশ। লবের মাত্রা হরের মাত্রার সমান বা বড়ো হলে তা অপ্রকৃত ভগ্নাংশ। আংশিক ভগ্নাংশের নিয়ম প্রকৃত ভগ্নাংশে সরাসরি খাটে। তাই অপ্রকৃত ভগ্নাংশ হলে আগে লবকে হর দিয়ে ভাগ করে একটি বহুপদী (ভাগফল) ও একটি প্রকৃত ভগ্নাংশের যোগফল বানাতে হয়।
হরের উৎপাদক কেমন, তার ওপর পদ্ধতি নির্ভর করে: হরে পুনরাবৃত্তিহীন একঘাতবিশিষ্ট উৎপাদক, পুনরাবৃত্ত একঘাতবিশিষ্ট উৎপাদক, অথবা দ্বিঘাতবিশিষ্ট উৎপাদক থাকতে পারে। সরল ক্ষেত্রে হর পুনরাবৃত্তিহীন একঘাতবিশিষ্ট উৎপাদকে বিভক্ত থাকে।
সরল ক্ষেত্রের ধাপ
- হরকে একঘাতবিশিষ্ট উৎপাদকে ভাঙো।
- প্রতিটি উৎপাদক এর জন্য একটি পদ ধরে অভেদ লেখো।
- উভয়পক্ষকে পুরো হর দিয়ে গুণ করো; ফলে পাওয়া অভেদটি এর সকল মানের জন্য সত্য।
- প্রতিটি উৎপাদককে শূন্য করে এমন এর মান বসিয়ে , ইত্যাদি ধ্রুবক নির্ণয় করো।
উদাহরণ: কে আংশিক ভগ্নাংশে প্রকাশ করো।
ধরি, । উভয়পক্ষকে দিয়ে গুণ করে পাই ।
বসালে , তাই । বসালে , তাই । সুতরাং । ডানপক্ষকে আবার এক হরে যোগ করলে পাওয়া যায়, অর্থাৎ উত্তর ঠিক আছে।
অপ্রকৃত ভগ্নাংশের উদাহরণ: । এখানে লব ও হর দুটিরই মাত্রা 2। ভাগ করলে পাই । এরপর একই পদ্ধতিতে । তাই পুরো উত্তর ।
এখানে চলক এবং , ধ্রুবক সংখ্যা; এগুলো কোনো ভৌত রাশি নয়, তাই কোনো একক নেই।
সাধারণ ভুল হলো অপ্রকৃত ভগ্নাংশে ভাগ না করেই সরাসরি ধরে নেওয়া; তখন অভেদ মেলে না। আরেকটি ভুল হলো উৎপাদকের চিহ্ন উল্টে ফেলা: কে শূন্য করতে বসাতে হয়, নয়।
মনে রাখো: আগে ভগ্নাংশটি প্রকৃত কি না দেখো; তারপর হরের প্রতিটি একঘাতবিশিষ্ট উৎপাদকের জন্য একটি করে আংশিক ভগ্নাংশ ধরো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।