offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ১২ · টপিক ৬

সাবান প্রস্তুতি

পড়ার নোট

তেল বা চর্বির সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায় সাবান ও গ্লিসারিন তৈরি হয়; এই প্রক্রিয়াকে সাবানীকরণ বলে। হাতে-কলমে সাবান তৈরি করে এটি যাচাই করা যায়।

অনুমিত সিদ্ধান্ত: তেল বা চর্বির সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায় সাবান উৎপন্ন হবে, এবং উৎপন্ন সাবানের pH 7 এর বেশি হবে।

উপকরণ: নারকেল তেল, কস্টিক সোডা, NaCl এর সম্পৃক্ত দ্রবণ, বাজারের সাবান ও কেরোসিন। যন্ত্রপাতি: বুনসেন বার্নার বা স্পিরিট ল্যাম্প, 400 mL এর 2টি বিকার, 2টি টেস্টটিউব, একটি বড়ো চীনামাটির বাটি, নাড়ানি কাঠি, স্প্যাচুলা, 10 mL মাপার সিলিন্ডার, ফানেল ও ফিল্টার পেপার।

সতর্কতা: উচ্চ তাপমাত্রায় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড খুব ক্ষয়কারী, তাই সাবধানে নাড়াচাড়া করো যেন ছিটকে না পড়ে। তৈরি সাবান হাতে বা গায়ে ব্যবহার করবে না।

কার্যপদ্ধতি:

  1. পানিভর্তি বিকারে একটি স্টিম বাথ বানিয়ে তার উপর চীনামাটির বাটি বসাও।
  2. বাটিতে 5 mL নারকেল তেল বা 5 g চর্বি এবং 30 mL সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ নাও।
  3. মিশ্রণটি স্টিম বাথে 30 মিনিট ফুটাও; মাঝে মাঝে নাড়ো এবং বাষ্প হয়ে যাওয়া পানির ঘাটতি পূরণ করো। তেল বা চর্বি সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়ে আঠালো পদার্থ তৈরি হবে।
  4. তাপ দেওয়া বন্ধ করে মিশ্রণ ঠান্ডা হতে দাও।
  5. ঠান্ডা মিশ্রণে 50 mL NaCl এর সম্পৃক্ত দ্রবণ যোগ করে সারা রাত রেখে দাও। NaCl যোগ করলে সাবান আলাদা হয়ে উপরে ভেসে ওঠে, গ্লিসারিন নিচে থাকে।
  6. পরদিন ফিল্টার পেপারে ছেঁকে পরিস্রুত ফেলে দাও এবং সাবান শুকাতে দাও।

উৎপন্ন সাবানের পরীক্ষা: টেস্টটিউবের তিন ভাগের এক ভাগ পানিতে সাবানের টুকরা দিয়ে মুখ বন্ধ করে ঝাঁকাও এবং ফেনা হয় কি না দেখো। তারপর 2–3 ফোঁটা কেরোসিন (গ্রিজ হিসেবে ধরে নাও) দিয়ে আবার ঝাঁকিয়ে দেখো, সাবান তেলকে পানিতে মিশিয়ে দিচ্ছে কি না। শেষে সাবানের pH মাপো, এবং একই পরীক্ষা বাজারের সাবান দিয়ে করে তুলনা করো।

উদাহরণ: একটি দল 10 mL নারকেল তেল দিয়ে সাবান বানাতে চায়। একই অনুপাত রাখতে কত সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ লাগবে? মূল অনুপাত 5 mL তেল: 30 mL দ্রবণ = 1: 6। তাই 10×6=6010 \times 6 = 60 mL সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ লাগবে।

সাধারণ ভুল হলো তেল ও ক্ষারের অনুপাত না মানা। তেল বেশি হলে সাবান তেলতেলে হয়, আর ক্ষার বেশি থাকলে সাবান দেহের জন্য ক্ষতিকর হয়।

মনে রাখো: তেল বা চর্বি + ক্ষার → সাবান + গ্লিসারিন; সম্পৃক্ত NaCl দ্রবণ যোগ করলে সাবান আলাদা হয়, আর সাবানের pH 7 এর বেশি।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • সয়াবিন তেল থেকে সাবান তৈরিচালিয়ে দেখো

    নারায়ণগঞ্জের এক ছোট সাবান কারখানায় বড় কড়াইতে তেল আর কস্টিক সোডার দ্রবণ মিশিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দেওয়া হয়। শাওন ভাবল, এত জ্বাল দেওয়ার কী দরকার, তেল আর সোডা মেশালেই তো সঙ্গে সঙ্গে সাবান হয়ে যাওয়ার কথা। টেস্টটিউবে সয়াবিন তেলে কস্টিক সোডা দিয়ে, তাপ ছাড়া ও তাপ দিয়ে, কী দেখা যাবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. সোডিয়াম ক্লোরাইডের দ্রবণ যোগ করায় কোন পরিবর্তনটি ঘটবে?

    1. ক

      গ্লিসারল পৃথক হয়ে ওপরে ভেসে উঠবে

    2. খ

      সাবান পৃথক হয়ে ওপরে ভেসে উঠবে

    3. গ

      সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড তলায় জমা হবে

    4. ঘ

      নারিকেল তেল পুনরায় তৈরি হয়ে ভাসবে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) সাবান পৃথক হয়ে ওপরে ভেসে উঠবে

    1. নারিকেল তেল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সাবান ও গ্লিসারল উৎপন্ন করে।
    2. সম্পৃক্ত সোডিয়াম ক্লোরাইডের দ্রবণে সাবানের দ্রাব্যতা কমে যায়। ফলে সাবান পৃথক হয়ে ওপরে ভেসে ওঠে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো