পড়ার নোট
শিল্পকারখানার বর্জ্য ও ঘরের রাসায়নিক বর্জ্য পরিবেশ দূষিত করে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের দেহে ঢুকে ক্ষতি করে।
ভারী ধাতু
বাংলাদেশে ট্যানারি (চামড়া প্রক্রিয়াকরণ), রং ও কীটনাশক শিল্প থেকে ক্রোমিয়াম (Cr), লেড (Pb), মার্কারি (Hg) ও ক্যাডমিয়ামের (Cd) মতো ভারী ধাতু শিল্পবর্জ্য হিসেবে নির্গত হয়। এগুলো মাটি ও পানিতে মেশে, সেই মাটিতে জন্মানো উদ্ভিদে ঢোকে। ঐ উদ্ভিদের ফল বা সবজি খেলে ভারী ধাতু আমাদের দেহে প্রবেশ করে বৃক্ক (কিডনি) ও যকৃতের ক্ষতি করে, এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। পানিতে মিশলে মাছের মাধ্যমেও এগুলো খাদ্যে আসতে পারে।
সাবান ও ডিটারজেন্ট কারখানার বর্জ্য
সাবান ও ডিটারজেন্ট কারখানা থেকে প্রচুর কস্টিক সোডা (NaOH) মাটি ও পানিতে যায়। পানিতে NaOH মিশলে পানির ক্ষারত্ব বেড়ে যায়, ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ ঠিকমতো বাঁচতে পারে না।
ঘরের সাবান ও ডিটারজেন্ট
- পুকুর, জলাশয় বা নদীর ধারে কাপড় কাচলে সাবানের ফেনা পানির দ্রবীভূত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে তার পরিমাণ কমায়; ফলে জলজ উদ্ভিদ ও মাছ মারা যায়।
- ডিটারজেন্টে থাকে ট্রাইসোডিয়াম ফসফেট (), যা উদ্ভিদের জন্য ভালো সারের মতো কাজ করে। পুকুরে উদ্ভিদ বেড়ে যায়, তারা দ্রবীভূত অক্সিজেন খরচ করে, আর অক্সিজেনের অভাবে মাছ মারা যায়।
রং ও কীটনাশক
শিল্পের রং ও কীটনাশক কারখানার বর্জ্যে ভারী ধাতু থাকে। এসব রঙিন বর্জ্য সরাসরি নদী বা খালে ফেললে পানি দূষিত হয় এবং ভারী ধাতু খাদ্যশৃঙ্খলে ঢোকে।
উদাহরণ: একটি ট্যানারির পাশের নদীর পানি দিয়ে সেচ দেওয়া জমির সবজিতে ক্রোমিয়াম পাওয়া গেল। ক্রোমিয়াম কোথা থেকে এল এবং কী ক্ষতি করবে? ট্যানারির বর্জ্যের ক্রোমিয়াম নদীর পানি থেকে মাটিতে, মাটি থেকে সবজিতে গেছে। এই সবজি নিয়মিত খেলে ক্রোমিয়াম দেহে জমে কিডনি ও যকৃতের ক্ষতি করবে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে বর্জ্য পানিতে মিশে পাতলা হয়ে গেলে আর ক্ষতি করে না। ভারী ধাতু মাটি ও উদ্ভিদে জমে খাদ্যের মাধ্যমে আবার আমাদের কাছে ফেরে।
মনে রাখো: ট্যানারি, রং ও কীটনাশক শিল্পের ভারী ধাতু খাদ্যের মাধ্যমে দেহে ঢুকে কিডনি ও যকৃতের ক্ষতি করে, আর সাবান-ডিটারজেন্ট পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন কমিয়ে মাছ মেরে ফেলে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।