পড়ার নোট
ঘরে, কৃষিতে ও শিল্পে আমরা অনেক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করি। এগুলো সঠিক মাত্রায় ও সঠিক উপায়ে ব্যবহার করলে উপকার পাই, আর অযথা বা বেশি ব্যবহার করলে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয়।
মাটি দূষণ রোধে
- সার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত মাত্রায় দাও; অতিরিক্ত সার মাটির pH বদলে দেয়।
- মাটির pH জেনে তবেই উপযুক্ত যৌগ দাও: অম্লীয় মাটিতে চুনাপাথর, ক্ষারীয় মাটিতে অ্যামোনিয়াম সালফেট।
- ভারী ধাতুযুক্ত শিল্পবর্জ্য খোলা জমিতে ফেলা যাবে না; এগুলো মাটি থেকে ফসলে ঢোকে।
পানি দূষণ রোধে
- পুকুর, জলাশয় বা নদীর ধারে সাবান-ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড় কাচা থেকে বিরত থাকো; এতে পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে মাছ মারা যায়।
- প্রয়োজনের বেশি সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার কোরো না।
- ট্যানারি, রং, কীটনাশক এবং সাবান-ডিটারজেন্ট কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদী বা খালে না ফেলে ক্ষতিকর অংশ সরিয়ে তবেই ছাড়তে হবে।
- খেতের অতিরিক্ত সার বৃষ্টির পানির সাথে জলাশয়ে যায়, তাই সার কম ও সঠিক সময়ে দাও।
বায়ু দূষণ রোধে
- অ্যামোনিয়াযুক্ত গ্লাস ক্লিনার বা ব্লিচিং পাউডার আলো-বাতাসপূর্ণ জায়গায় ব্যবহার করো এবং মুখে-নাকে মাস্ক পরো।
- রাসায়নিক দ্রব্যের পাত্রের মুখ বন্ধ রাখো, যাতে গ্যাস বাতাসে না ছড়ায়।
খাদ্যে রাসায়নিক
ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা খাদ্য সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহার করা যাবে না; শুধু অনুমোদিত সংরক্ষক যেমন ভিনেগার, লবণ, চিনি ও সোডিয়াম বেনজোয়েট ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ: একটি গ্রামে সবাই পুকুরঘাটে ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড় কাচে, আর কিছুদিন পর পুকুরে জলজ উদ্ভিদ বেড়ে মাছ মরতে শুরু করল। কারণ, ডিটারজেন্টের ট্রাইসোডিয়াম ফসফেট উদ্ভিদের সারের কাজ করেছে; উদ্ভিদ দ্রবীভূত অক্সিজেন খরচ করায় মাছ মারা গেছে। সমাধান: পুকুরঘাটে কাপড় না কেচে পুকুর থেকে দূরে কাচা, যাতে ডিটারজেন্টমিশ্রিত পানি পুকুরে না যায়, এবং ডিটারজেন্ট পরিমিত ব্যবহার করা।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে বেশি সার দিলে বেশি ফসল হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ফসলে কাজে লাগে না, বরং মাটি ও পানি দূষিত করে।
মনে রাখো: রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত মাত্রায়, সঠিক জায়গায় ও সতর্কতার সাথে ব্যবহার করলে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ রোধ করা যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।