offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৯ · টপিক ১১

প্রশমন বিক্রিয়ার গুরুত্ব

পড়ার নোট

প্রশমন বিক্রিয়া হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া। এতে বিক্রিয়ায় অংশ নেওয়া এসিড ও ক্ষারক তাদের নিজস্ব ধর্ম হারায়। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন ও ক্ষারের হাইড্রোক্সাইড আয়ন যুক্ত হয়ে পানি তৈরি করে। তাই অতিরিক্ত অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব কমাতে এই বিক্রিয়া কাজে লাগে।

HCl+NaOH⟶NaCl+H2OHCl+NaOH\longrightarrow NaCl+H_2O

এখানে HClHCl হাইড্রোক্লোরিক এসিড, NaOHNaOH সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, NaClNaCl সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং H2OH_2O পানি। এগুলো পদার্থের রাসায়নিক সংকেত; এদের SI একক নেই।

নির্দিষ্ট অনুপাত মেনে প্রশমন ঘটে। ওপরের সমীকরণে এক মোল এসিডের জন্য এক মোল ক্ষার দরকার। কিন্তু সালফিউরিক এসিডের ক্ষেত্রে অনুপাত আলাদা:

H2SO4+2NaOH⟶Na2SO4+2H2OH_2SO_4+2NaOH\longrightarrow Na_2SO_4+2H_2O

এখানে H2SO4H_2SO_4 সালফিউরিক এসিড এবং Na2SO4Na_2SO_4 সোডিয়াম সালফেট।

একটি উদাহরণে, ৩ মোল সালফিউরিক এসিড সম্পূর্ণ প্রশমিত করতে কত সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড লাগবে?

  • প্রথমে সমীকরণ থেকে দেখি, ১ মোল এসিডের জন্য ২ মোল ক্ষার লাগে।
  • তাই ৩ মোল এসিডের জন্য প্রয়োজন 3×2=63\times2=6 মোল ক্ষার।
  • এখানে পদার্থের পরিমাণের SI একক মোল। এটি বিক্রিয়ার হিসাব, ব্যবহারিকভাবে রাসায়নিক মেশানোর নির্দেশ নয়।

দৈনন্দিন জীবনে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার আছে। পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড এন্টাসিডের ক্ষারীয় উপাদান প্রশমিত করে। মিষ্টি খাওয়ার পর মুখের ব্যাকটেরিয়া খাদ্য থেকে জৈব এসিড তৈরি করতে পারে। এই এসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে; টুথপেস্টের ক্ষারীয় উপাদান তা প্রশমনে সাহায্য করে।

কৃষিজমি অতিরিক্ত অম্লীয় হলে চুন ব্যবহার করে অম্লত্ব কমানো হয়। এতে ফসলের উপযোগী অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য হয়। আবার এসিডযুক্ত শিল্পবর্জ্য শোধনে উপযুক্ত ক্ষারক দিয়ে অম্লত্ব কমানো যায়। তবে শুধু প্রশমন করলেই বর্জ্যের সব ক্ষতিকর পদার্থ দূর হয় না।

একটি সাধারণ ভুল হলো সমান আয়তনের যেকোনো এসিড ও ক্ষার মেশালেই সম্পূর্ণ প্রশমন হবে ভাবা। প্রকৃতপক্ষে তাদের পরিমাণ, ঘনমাত্রা ও বিক্রিয়ার অনুপাত বিবেচনা করতে হয়। সব লবণের দ্রবণও নিরপেক্ষ নয়।

মনে রাখো: সম্পূর্ণ প্রশমনের জন্য নির্দিষ্ট এসিড ও ক্ষারকের সঠিক অনুপাত দরকার।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • এসিড–ক্ষার প্রশমন ও pH পরিবর্তনচালিয়ে দেখো

    বিদ্যালয়ের রসায়ন গবেষণাগারে একটি কনিক্যাল ফ্লাস্কে ২৫ mL ০.১ mol/L ঘনমাত্রার হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) নেওয়া হলো এবং নির্দেশক হিসেবে কয়েক ফোঁটা ফেনলফথ্যালিন যোগ করা হলো। এরপর ব্যুরেট থেকে ফোঁটা ফোঁটা করে ০.১ mol/L ঘনমাত্রার সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার দ্রবণ যোগ করা হতে লাগল। যখন ঠিক ২৫ mL NaOH যোগ করা হলো, তখন এসিড ও ক্ষার একে অপরকে পুরোপুরি প্রশমিত করল (তুল্যতা বিন্দু বা equivalence point)। এই তুল্যতা বিন্দুতে মিশ্রণটির pH কত হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. চাঁদপুরের একটি বিদ্যালয়ের রসায়ন পরীক্ষাগারে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর একটি কনিক্যাল ফ্লাস্কে ৩০ mL আয়তনের ০.১ mol/L ঘনমাত্রার সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) দ্রবণ নিল। সংঘটিত প্রশমন বিক্রিয়াটি হলো: H₂SO₄ + 2NaOH → Na₂SO₄ + 2H₂O। এই এসিড দ্রবণকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করতে ০.১৫ mol/L ঘনমাত্রার সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) দ্রবণের ঠিক কত মিলিলিটার (mL) প্রয়োজন হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪০ mL

    1. বিক্রিয়ার সমতাকৃত সমীকরণ: H₂SO₄ + 2NaOH → Na₂SO₄ + 2H₂O। সমীকরণ অনুসারে ১ মোল H₂SO₄ কে প্রশমিত করতে ২ মোল NaOH প্রয়োজন হয়।
    H2SO4+2NaOH→Na2SO4+2H2O\text{H}_2\text{SO}_4 + 2\text{NaOH} \rightarrow \text{Na}_2\text{SO}_4 + 2\text{H}_2\text{O}
    1. এসিডের মোলের সংখ্যা n_A = V_A × S_A = (৩০ ⁄ ১০০০) L × ০.১ mol/L = ০.০০৩ mol। অতএব প্রয়োজনীয় ক্ষারের মোলের সংখ্যা n_B = ২ × n_A = ২ × ০.০০৩ = ০.০০৬ mol।
    nB=2×nA=2×(0.030×0.1)=0.006 moln_B = 2 \times n_A = 2 \times (0.030 \times 0.1) = 0.006\text{ mol}
    1. প্রয়োজনীয় NaOH দ্রবণের আয়তন V_B = n_B ⁄ S_B = ০.০০৬ mol ⁄ ০.১৫ mol/L = ০.০৪ L = ৪০ mL।
    VB=0.0060.15=0.04 L=40 mLV_B = \frac{0.006}{0.15} = 0.04\text{ L} = 40\text{ mL}
  2. বগুড়ায় এক দাওয়াত খাওয়ার পর শাকিলের পেটে অতিরিক্ত গ্যাস ও জ্বালাপোড়া (এসিডিটি) শুরু হলে তাকে এন্টাসিড (antacid) সেবন করতে বলা হলো। এন্টাসিড কীভাবে পেটের অতিরিক্ত এসিডিটি প্রশমিত করে স্বস্তি দেয়? রাসায়নিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খাদ্য পরিপাকের জন্য পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) ক্ষরিত হলে পেটে অস্বস্তি ও এসিডিটি দেখা দেয়। এন্টাসিড হলো মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)₂] এবং অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)₃] এর মৃদু ক্ষারীয় মিশ্রণ। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত ক্ষতিকর হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে প্রশমন (neutralization) বিক্রিয়া করে নিরপেক্ষ লবণ ও পানি তৈরি করে অতিরিক্ত অম্লত্ব দূর করে এবং দ্রুত স্বস্তি দেয়।

    1. পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাকের জন্য নিঃসৃত হাইড্রোক্লোরিক এসিডের (HCl) মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এসিডিটি সৃষ্টি হয়।
    2. এন্টাসিডে থাকা মৃদু ক্ষারক Mg(OH)₂ ও Al(OH)₃ পাকস্থলীর অতিরিক্ত HCl এর সাথে প্রশমন বিক্রিয়া ঘটায়: Mg(OH)₂ + 2HCl → MgCl₂ + 2H₂O।
    Mg(OH)2+2HCl→MgCl2+2H2O\text{Mg(OH)}_2 + 2\text{HCl} \rightarrow \text{MgCl}_2 + 2\text{H}_2\text{O}
    1. এই বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার পরস্পরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ লবণ ও পানি উৎপন্ন করায় পাকস্থলীর অম্লত্ব স্বাভাবিক হয় ও রোগী স্বস্তি পায়।
  3. প্রশমনের জন্য কত ভরের ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড প্রয়োজন?

    1. ক

      ৩.৭ g

    2. খ

      ১৪.৮ g

    3. গ

      ৭.৪ g

    4. ঘ

      ৭.৩ g

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) ৭.৪ g

    1. বিক্রিয়ায় ১ mol ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সঙ্গে ২ mol হাইড্রোক্লোরিক অম্ল বিক্রিয়া করে।
    Ca(OH)2+2HCl→CaCl2+2H2O\mathrm{Ca(OH)_2 + 2HCl \rightarrow CaCl_2 + 2H_2O}
    1. হাইড্রোক্লোরিক অম্লের মোলার ভর ৩৬.৫ g/mol এবং ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মোলার ভর ৭৪ g/mol। তাই ৭৩ g অম্লের জন্য ৭৪ g ক্ষার প্রয়োজন।
    2. সুতরাং প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ভর ৭.৪ g।
    m=74×7.373 g=7.4 gm=\frac{74\times7.3}{73}\,\mathrm{g}=7.4\,\mathrm{g}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো