পড়ার নোট
প্রশমন বিক্রিয়া হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া। এতে বিক্রিয়ায় অংশ নেওয়া এসিড ও ক্ষারক তাদের নিজস্ব ধর্ম হারায়। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন ও ক্ষারের হাইড্রোক্সাইড আয়ন যুক্ত হয়ে পানি তৈরি করে। তাই অতিরিক্ত অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব কমাতে এই বিক্রিয়া কাজে লাগে।
এখানে হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং পানি। এগুলো পদার্থের রাসায়নিক সংকেত; এদের SI একক নেই।
নির্দিষ্ট অনুপাত মেনে প্রশমন ঘটে। ওপরের সমীকরণে এক মোল এসিডের জন্য এক মোল ক্ষার দরকার। কিন্তু সালফিউরিক এসিডের ক্ষেত্রে অনুপাত আলাদা:
এখানে সালফিউরিক এসিড এবং সোডিয়াম সালফেট।
একটি উদাহরণে, ৩ মোল সালফিউরিক এসিড সম্পূর্ণ প্রশমিত করতে কত সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড লাগবে?
- প্রথমে সমীকরণ থেকে দেখি, ১ মোল এসিডের জন্য ২ মোল ক্ষার লাগে।
- তাই ৩ মোল এসিডের জন্য প্রয়োজন মোল ক্ষার।
- এখানে পদার্থের পরিমাণের SI একক মোল। এটি বিক্রিয়ার হিসাব, ব্যবহারিকভাবে রাসায়নিক মেশানোর নির্দেশ নয়।
দৈনন্দিন জীবনে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার আছে। পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড এন্টাসিডের ক্ষারীয় উপাদান প্রশমিত করে। মিষ্টি খাওয়ার পর মুখের ব্যাকটেরিয়া খাদ্য থেকে জৈব এসিড তৈরি করতে পারে। এই এসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে; টুথপেস্টের ক্ষারীয় উপাদান তা প্রশমনে সাহায্য করে।
কৃষিজমি অতিরিক্ত অম্লীয় হলে চুন ব্যবহার করে অম্লত্ব কমানো হয়। এতে ফসলের উপযোগী অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য হয়। আবার এসিডযুক্ত শিল্পবর্জ্য শোধনে উপযুক্ত ক্ষারক দিয়ে অম্লত্ব কমানো যায়। তবে শুধু প্রশমন করলেই বর্জ্যের সব ক্ষতিকর পদার্থ দূর হয় না।
একটি সাধারণ ভুল হলো সমান আয়তনের যেকোনো এসিড ও ক্ষার মেশালেই সম্পূর্ণ প্রশমন হবে ভাবা। প্রকৃতপক্ষে তাদের পরিমাণ, ঘনমাত্রা ও বিক্রিয়ার অনুপাত বিবেচনা করতে হয়। সব লবণের দ্রবণও নিরপেক্ষ নয়।
মনে রাখো: সম্পূর্ণ প্রশমনের জন্য নির্দিষ্ট এসিড ও ক্ষারকের সঠিক অনুপাত দরকার।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।