পড়ার নোট
মাটির pH মাটি কতটা এসিডিক বা ক্ষারীয়, তা বোঝায়। গাছ মাটি থেকে পানি ও বিভিন্ন আয়ন গ্রহণ করে পুষ্টি পায়। মাটির এসিডিক বা ক্ষারীয় অবস্থা এই পুষ্টি গ্রহণে প্রভাব ফেলে। তাই জমিতে শুধু বেশি সার দিলেই ভালো ফলন হবে না; মাটির অবস্থা অনুযায়ী সার নির্বাচন করতে হবে।
সাধারণভাবে উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণের জন্য মাটির pH ৬.০–৮.০ উপযোগী। তবে সব ফসলের চাহিদা এক নয়। অতিরিক্ত এসিডিক বা বেশি ক্ষারীয় মাটিতে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের স্বাভাবিক শোষণ ব্যাহত হতে পারে। ফলে মাটিতে উপাদান উপস্থিত থাকলেও গাছ যথেষ্ট পরিমাণে নিতে পারে না।
মাটিতে উপকারী অণুজীবও থাকে। pH ৩.০-এর নিচে বা ১০.০-এর ওপরে গেলে এসব অণুজীব মারা যেতে পারে। এতে মাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই pH পরিমাপ ফসল নির্বাচন, সার বাছাই এবং জমির উৎপাদনক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মাটির pH প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে পরিমিত চুন, যেমন ক্যালসিয়াম অক্সাইড, ব্যবহার করে মাটির এসিড প্রশমিত করা হয়। বিক্রিয়াটি বোঝাতে লেখা যায় । এখানে ক্যালসিয়াম অক্সাইড হাইড্রোজেন আয়নের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম আয়ন ও পানি তৈরি করে। সংকেতগুলো রাসায়নিক পদার্থ ও আয়ন বোঝায়, তাই এদের SI একক নেই। হাইড্রোজেন আয়ন কমলে pH বাড়ে। চুনাপাথর বা ক্যালসিয়াম কার্বনেটও মাটির এসিড কমাতে ব্যবহৃত হয়।
মাটির pH বেশি হলে পরিমিত অ্যামোনিয়াম সালফেট বা অ্যামোনিয়াম ফসফেট সার ব্যবহার করে pH কমানো যায়। জৈব পদার্থের পচনও মাটির pH-এ প্রভাব ফেলতে পারে; তবে শুধু গোবর দিলেই সব ক্ষারীয় মাটি ঠিক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বাংলাদেশের একটি সবজিজমির অনুশীলনী পরীক্ষায় pH ৫.২ পাওয়া গেল ধরা যাক। প্রথম ধাপে ৭-এর সঙ্গে তুলনা করে মাটিকে এসিডিক বলবে। দ্বিতীয় ধাপে দেখবে, মানটি সাধারণ উপযোগী সীমা ৬.০–৮.০-এর নিচে। তৃতীয় ধাপে মাটি পরীক্ষার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিমিত চুনের প্রয়োজন বিবেচনা করবে এবং পরে আবার pH মাপবে।
সাধারণ ভুল হলো, শুধু pH দেখে চুনের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা পরের pH বলে দেওয়া। এই একটি মান থেকে সেই হিসাব করা যায় না; অতিরিক্ত চুনও ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
মনে রাখো: আগে মাটির pH জানো, তারপর উপযুক্ত সার বা চুন বেছে নাও; বেশি ব্যবহার মানেই বেশি ফলন নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।