offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৯ · টপিক ১২

মৌমাছি বা পিঁপড়ার কামড়ে চুন এবং অতিরিক্ত এসিডিটিতে অ্যান্টাসিডের ব্যবহার

  • দৈনন্দিন জীবনে অম্ল ও ক্ষার প্রশমনের ভূমিকা

পড়ার নোট

কামড়ের জ্বালাপোড়া ও প্রশমনের ধারণা

প্রশমন হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব কমে যাওয়ার প্রক্রিয়া। দৈনন্দিন জীবনে অম্লীয় পদার্থের প্রভাব বোঝাতে পিঁপড়ার কামড়ের উদাহরণ ব্যবহার করা যায়। কিছু পিঁপড়ার নিঃসৃত পদার্থে ফরমিক এসিড থাকে, যা ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।

চুন ক্ষারীয় হওয়ায় অম্লীয় পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে। বেকিং সোডাও অম্লত্ব কমাতে পারে; তবে এসিডের সঙ্গে এর বিক্রিয়ায় লবণ ও পানির পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। তাই এই বিক্রিয়ায় শুধু লবণ ও পানি উৎপন্ন হয় লিখলে উত্তর অসম্পূর্ণ হবে।

মৌমাছি ও সব পিঁপড়ার বিষকে একই ফরমিক এসিড ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কামড় বা হুলের প্রতিক্রিয়া শুধু এসিডের উপস্থিতি দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। বাংলাদেশের বাড়ির উঠানে পিঁপড়ার কামড় পরিচিত ঘটনা হলেও ক্ষার দিয়ে এসিড প্রশমনের ধারণাকে সব কামড়ের চিকিৎসার নিয়ম মনে করা যাবে না।

পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড ও এন্টাসিড

পাকস্থলীতে হজমে সাহায্য করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড তৈরি হয়। এই এসিডের স্বাভাবিক উপস্থিতি প্রয়োজনীয়। কিন্তু অতিরিক্ত এসিডে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া হতে পারে। এন্টাসিড হলো পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড প্রশমনে ব্যবহৃত ওষুধ। এতে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মতো ক্ষারীয় উপাদান থাকে।

Mg(OH)2+2HCl⟶MgCl2+2H2OMg(OH)_2+2HCl\longrightarrow MgCl_2+2H_2O

Al(OH)3+3HCl⟶AlCl3+3H2OAl(OH)_3+3HCl\longrightarrow AlCl_3+3H_2O

এখানে Mg(OH)2Mg(OH)_2 ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, Al(OH)3Al(OH)_3 অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, HClHCl হাইড্রোক্লোরিক এসিড, MgCl2MgCl_2 ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড, AlCl3AlCl_3 অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড এবং H2OH_2O পানি। রাসায়নিক সংকেতগুলোর SI একক নেই।

মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়ায় ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড থাকে। সমীকরণে দেখা যায়, এন্টাসিডের উপাদান এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে। উদ্দেশ্য অতিরিক্ত এসিড কমানো, হজমের জন্য প্রয়োজনীয় সব এসিড দূর করা নয়।

সাধারণ ভুল হলো যেকোনো ক্ষারককে এন্টাসিডের বিকল্প ভাবা। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মতো তীব্র ক্ষারক টিস্যু ক্ষয় করে। তাই রান্নাঘর বা পরীক্ষাগারের ক্ষারক ওষুধের বিকল্প নয়।

মনে রাখো: এন্টাসিডের নির্দিষ্ট ক্ষারীয় উপাদান পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড প্রশমিত করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বগুড়ায় এক দাওয়াত খাওয়ার পর শাকিলের পেটে অতিরিক্ত গ্যাস ও জ্বালাপোড়া (এসিডিটি) শুরু হলে তাকে এন্টাসিড (antacid) সেবন করতে বলা হলো। এন্টাসিড কীভাবে পেটের অতিরিক্ত এসিডিটি প্রশমিত করে স্বস্তি দেয়? রাসায়নিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খাদ্য পরিপাকের জন্য পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) ক্ষরিত হলে পেটে অস্বস্তি ও এসিডিটি দেখা দেয়। এন্টাসিড হলো মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)₂] এবং অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)₃] এর মৃদু ক্ষারীয় মিশ্রণ। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত ক্ষতিকর হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে প্রশমন (neutralization) বিক্রিয়া করে নিরপেক্ষ লবণ ও পানি তৈরি করে অতিরিক্ত অম্লত্ব দূর করে এবং দ্রুত স্বস্তি দেয়।

    1. পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাকের জন্য নিঃসৃত হাইড্রোক্লোরিক এসিডের (HCl) মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এসিডিটি সৃষ্টি হয়।
    2. এন্টাসিডে থাকা মৃদু ক্ষারক Mg(OH)₂ ও Al(OH)₃ পাকস্থলীর অতিরিক্ত HCl এর সাথে প্রশমন বিক্রিয়া ঘটায়: Mg(OH)₂ + 2HCl → MgCl₂ + 2H₂O।
    Mg(OH)2+2HCl→MgCl2+2H2O\text{Mg(OH)}_2 + 2\text{HCl} \rightarrow \text{MgCl}_2 + 2\text{H}_2\text{O}
    1. এই বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার পরস্পরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ লবণ ও পানি উৎপন্ন করায় পাকস্থলীর অম্লত্ব স্বাভাবিক হয় ও রোগী স্বস্তি পায়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো