পড়ার নোট
এসিড বৃষ্টি হলো বায়ুর বিভিন্ন এসিড উৎপাদনকারী অক্সাইড পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করার ফলে অম্লীয় হয়ে পড়া বৃষ্টি। স্বাভাবিক বৃষ্টির পানিও কিছুটা অম্লীয়। কারণ বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দুর্বল কার্বনিক এসিড তৈরি করে।
এখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি এবং কার্বনিক এসিড। রাসায়নিক সংকেতগুলোর SI একক নেই। স্বাভাবিক বৃষ্টির পানির pH প্রায় ৫–৬ হতে পারে। pH অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব বোঝানোর একটি এককবিহীন মান।
প্রাকৃতিকভাবেও নাইট্রোজেনের অক্সাইড তৈরি হয়। বজ্রপাতের সময় উচ্চ তাপমাত্রায় বাতাসের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বিক্রিয়া করে নাইট্রোজেন মনোক্সাইড তৈরি করে। এটি আরও অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়।
এখানে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস এসিড এবং নাইট্রিক এসিড।
মানুষের কর্মকাণ্ডে এই অম্লত্ব অনেক বেড়ে যেতে পারে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইটভাটা, শিল্পকারখানা ও যানবাহনে জ্বালানি পোড়ানো হয়। সালফার ও নাইট্রোজেনযুক্ত কয়লা বা পেট্রোলিয়াম পোড়ালে এসব মৌলের অক্সাইড বাতাসে মেশে। সালফার ডাই-অক্সাইড থেকে পানিতে সালফিউরাস এসিড এবং অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সালফিউরিক এসিড তৈরি হতে পারে।
এখানে সালফার ডাই-অক্সাইড, অক্সিজেন এবং সালফিউরিক এসিড। ফলে বৃষ্টির pH কখনো ৪ বা তারও নিচে নামে।
বাংলাদেশের ইটভাটার আশপাশের ধানক্ষেত ও মাছের পুকুর দিয়ে ক্ষতির বিষয়টি বোঝা যায়। অম্লীয় বৃষ্টি মাটির pH কমিয়ে ফসলের বৃদ্ধি, পুষ্টি গ্রহণ ও উপকারী অণুজীবের কাজে বাধা দিতে পারে। পুকুরের পানির pH কমলে মাছ ও অন্য জলজ প্রাণীর উপযোগী পরিবেশ নষ্ট হয়।
এসিড বৃষ্টি ভবন, ধাতব সেতু, মার্বেলের স্থাপনা ও ভাস্কর্য ক্ষয় করে। এতে মেরামতের ব্যয় বাড়ে। এর জন্য দায়ী বায়ুদূষকগুলো শ্বাসতন্ত্রেরও ক্ষতি করতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো সব বৃষ্টিকে নিরপেক্ষ ধরা, অথবা সামান্য অম্লীয় স্বাভাবিক বৃষ্টি ও অতিরিক্ত দূষিত এসিড বৃষ্টিকে একই মাত্রার ক্ষতিকর ভাবা।
মনে রাখো: দূষক অক্সাইড বৃষ্টির অম্লত্ব বাড়িয়ে মাটি, জলজ জীবন ও স্থাপনার ক্ষতি করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।