offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৯ · টপিক ১৪

পাথর বা টিস্যু পেপারের উপর এসিডের প্রভাব পর্যবেক্ষণ

  • এসিড বৃষ্টির কারণ
  • এসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব

পড়ার নোট

পাথরের ওপর এসিডের প্রভাব

মার্বেল বা চুনাপাথরের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, যা এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে। এই বিক্রিয়া পাথরের ক্ষয় এবং গ্যাসের বুদ্‌বুদ দেখে বোঝা যায়। তবে সব ধরনের পাথরের গঠন একই নয়।

শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পর্যবেক্ষণের ধাপগুলো হলো:

  • একটি পাত্রে ছোট মার্বেল বা চুনাপাথরের টুকরা রাখো। একই ধরনের আরেকটি টুকরা তুলনার জন্য আলাদা রাখো।
  • প্রথম টুকরায় শিক্ষক অল্প লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড দেবেন। দ্বিতীয়টিতে শুধু পানি দাও।
  • বুদ্‌বুদ তৈরি হচ্ছে কি না এবং পৃষ্ঠের পরিবর্তন হচ্ছে কি না লক্ষ করো।
  • দুটি টুকরার পর্যবেক্ষণ লিখে তুলনা করো; এসিড বা বিক্রিয়ার মিশ্রণ স্পর্শ করবে না।

CaCO3+2HCl⟶CaCl2+H2O+CO2↑CaCO_3+2HCl\longrightarrow CaCl_2+H_2O+CO_2\uparrow

এখানে CaCO3CaCO_3 ক্যালসিয়াম কার্বনেট, HClHCl হাইড্রোক্লোরিক এসিড, CaCl2CaCl_2 ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, H2OH_2O পানি এবং CO2CO_2 কার্বন ডাই-অক্সাইড। ঊর্ধ্বমুখী তির গ্যাস নির্গমন বোঝায়। রাসায়নিক সংকেতের SI একক নেই।

ডিমের খোসাতেও ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে। তাই রান্নাঘরের ভিনেগারের সঙ্গে খোসার বিক্রিয়ায় বুদ্‌বুদ দেখা যেতে পারে। তবে ভিনেগারে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে না; ওপরের সমীকরণটি ভিনেগারের বিক্রিয়ার সমীকরণ নয়।

টিস্যু পেপার ও পরিবেশের ক্ষতি

টিস্যু পেপার ও সুতি কাপড়ে সেলুলোজ নামের উপাদান থাকে। এসিডের প্রভাবে এদের তন্তু দুর্বল হতে পারে। একই মাপের টিস্যুর একটি অংশে পানি এবং অন্য অংশে শিক্ষকের নির্বাচিত লঘু এসিড দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর অবস্থা তুলনা করা যায়। শুধু ভেজার কারণেও টিস্যু দুর্বল হয়, তাই পানি দেওয়া অংশটির সঙ্গে তুলনা জরুরি।

গাঢ় সালফিউরিক এসিড কাগজ থেকে পানি অপসারণ করে কালো করতে পারে; এটি বাড়িতে করার পরীক্ষা নয়। এই ঘটনাকে শুধু জারণ বলা ঠিক নয়।

বাতাসের সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড বৃষ্টির পানিতে এসিড তৈরি করে। এমন বৃষ্টি দীর্ঘদিন পড়লে ভবন, মার্বেলের অলংকরণ, ধাতব রেলিং এবং উদ্ভিদের ক্ষতি হয়। বাংলাদেশের কোনো পুরোনো স্থাপনার পাথরের কাজ রক্ষা করা তাই অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ ভুল হলো পরীক্ষাগারের এসিডের দ্রুত প্রভাবকে বৃষ্টির তাৎক্ষণিক প্রভাব ভাবা। বাস্তবে এসিডের ঘনমাত্রা, সংস্পর্শের সময় ও পদার্থের ধরন ফল নির্ধারণ করে।

মনে রাখো: তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ এসিডের ক্ষয়কারী প্রভাব বুঝতে সাহায্য করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ইটভাটার ধোঁয়া ও এসিড বৃষ্টির pHচালিয়ে দেখো

    গাজীপুরের ইটভাটা এলাকার বাতাসে কয়লা পোড়ানোর ধোঁয়া থেকে প্রচুর সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড মিশে থাকে। বৃষ্টির পানিতে এই গ্যাসগুলো দ্রবীভূত হয়ে লঘু এসিড দ্রবণ তৈরি করে। বর্তমানে সংগৃহীত একটি বৃষ্টির পানির নমুনায় এসিডের ঘনমাত্রা ০.০০০২ mol/L এবং pH হলো ৩.৭০। কিন্তু ইটভাটার সাধারণ এসিড বৃষ্টির পানিতে এসিডের ঘনমাত্রা থাকে ০.০০০১ mol/L এবং এর pH ঠিক ৪.০। বাতাসে দূষণ বৃদ্ধি পেয়ে বৃষ্টির পানিতে এসিডের ঘনমাত্রা যদি এই pH ৪.০ বৃষ্টির চেয়ে ঠিক ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ০.০০১ mol/L হয়, তবে বৃষ্টির পানির নতুন pH কত হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ঢাকার সাভার ও টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে প্রচুর সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂) ও নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO₂) বাতাসে মিশে। বৃষ্টির পানির pH মান সাধারণত কত এর নিচে নেমে এলে তাকে এসিড বৃষ্টি (acid rain) বলা হয়?

    1. ক

      ৫.৬

    2. খ

      ৭.০

    3. গ

      ২.০

    4. ঘ

      ৮.৫

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ৫.৬

    1. স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলে থাকা CO₂ বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে মৃদু কার্বনিক এসিড তৈরি করায় স্বাভাবিক বৃষ্টির পানির pH প্রায় ৫.৬ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকে।
    2. বাতাসে SO₂ ও NO₂ গ্যাস বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে তীব্র সালফিউরিক ও নাইট্রিক এসিড উৎপন্ন করলে পানির pH ৫.৬ এর নিচে নেমে যায়, যাকে পাঠ্যপুস্তক অনুসারে এসিড বৃষ্টি বলে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো