পড়ার নোট
দলগত কাজ: ঠান্ডা ও গরম পানিতে বিক্রিয়ার হারের তুলনা
রাসায়নিক বিক্রিয়া সব সময় একই গতিতে হয় না। কিছু বিক্রিয়া খুব দ্রুত হয়, আবার কিছু হয় খুব ধীরে। বিক্রিয়া কত তাড়াতাড়ি হচ্ছে তার পরিমাপকে বলা হয় বিক্রিয়ার হার। এটি নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর, যেমন তাপমাত্রা।
তাপমাত্রা বাড়ালে বিক্রিয়ার হার সাধারণত বাড়ে। কারণ তাপ দিলে বিক্রিয়ক অণুগুলো বেশি শক্তি পায় এবং বেশি দ্রুত নড়াচড়া করে। ফলে তাদের মধ্যে ধাক্কা বা সংঘর্ষের সংখ্যা বাড়ে, আর বিক্রিয়া তাড়াতাড়ি হয়।
উদাহরণ: ধরো, তুমি একটি ট্যাবলেট পানিতে ফেলছ। গরম পানিতে ট্যাবলেটটি দ্রুত গলে যায় এবং বুদবুদ তৈরি হয়, কিন্তু ঠান্ডা পানিতে এটি ধীরে ধীরে গলে। এর কারণ হলো গরম পানিতে বিক্রিয়ার হার বেশি।
পরীক্ষার ধারণা: সোডিয়াম কার্বনেট এবং লেবুর রস (সাইট্রিক এসিড) মিশালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই বিক্রিয়া গরম পানিতে দ্রুত হবে, কারণ তাপমাত্রা বেশি। ঠান্ডা পানিতে একই বিক্রিয়া ধীরে হবে।
বিক্রিয়াটি:
- : সোডিয়াম কার্বনেট, একক: mol
- : সাইট্রিক এসিড, একক: mol
- : কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস, একক: mol
কাজের ধাপ:
- দুটি গ্লাসে সমান পরিমাণ সোডিয়াম কার্বনেট রাখো।
- একটিতে ঠান্ডা পানি, অন্যটিতে গরম পানি দাও।
- উভয়ে সমান পরিমাণ লেবুর রস যোগ করো।
- কোন গ্লাসে বেশি বুদবুদ তৈরি হচ্ছে লক্ষ করো।
কাজের ফলাফল: গরম পানির গ্লাসে বুদবুদ দ্রুত ও বেশি উৎপন্ন হবে। অর্থাৎ বিক্রিয়ার হার বেশি।
মনে রাখো: তাপমাত্রা বাড়ালে বিক্রিয়ার হার বাড়ে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।