পড়ার নোট
যেকোনো বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদ তৈরি হয়, কিন্তু সব বিক্রিয়ার সময় সমান নয়। কিছু বিক্রিয়া সেকেন্ডেরও কম সময়ে শেষ হয়, আবার কিছুতে অনেক বছর লাগে। একক সময়ে বিক্রিয়ক থেকে যে পরিমাণ উৎপাদ তৈরি হয়, তাকে বিক্রিয়ার হার বলে। কম সময়ে শেষ হওয়া বিক্রিয়ার হার বেশি, বেশি সময় লাগা বিক্রিয়ার হার কম।
গবেষণাগারের দ্রুত বিক্রিয়া: দ্রবণে যোগ করলে সেকেন্ডেরও কম সময়ে সাদা অধঃক্ষেপ তৈরি হয়।
প্রকৃতির ধীর বিক্রিয়া: খোলা বাতাসে একটি লোহার সেতুতে মরিচা পড়তে বছরের পর বছর লাগে। মোমবাতি জ্বলা তুলনামূলক মাঝারি গতির, আর বোমার বিস্ফোরণ অত্যন্ত দ্রুত বিক্রিয়ার উদাহরণ।
তাপমাত্রার প্রভাবের পরীক্ষা: চারটি টেস্টটিউবে (–) সামান্য সোডিয়াম কার্বনেট () বা কাপড় কাচার সোডা নাও। ও এ সাধারণ পানি, ও এ গরম পানি দাও। এরপর শুধু ও এ mL লেবুর রস বা ভিনেগার যোগ করো। এসিড থাকায় শুধু ও এ কার্বন ডাই-অক্সাইডের বুদবুদ ওঠে, আর গরম পানির নম্বরে বুদবুদ সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ একই সময়ে সব টিউবে সমান উৎপাদ হয় না; তাপমাত্রা বাড়ালে বিক্রিয়ার হার বাড়ে।
উদাহরণ: একটি বিক্রিয়ায় সেকেন্ডে mL গ্যাস এবং আরেকটিতে সেকেন্ডে mL গ্যাস তৈরি হলো। প্রথমটির হার mL/s, দ্বিতীয়টির mL/s; তাই প্রথমটি দ্রুত। সময়ের SI একক সেকেন্ড (s)।
সাধারণ ভুল হলো মোট উৎপাদের পরিমাণকেই হার ভাবা। হার মানে একক সময়ে কতটা উৎপাদ; সমান উৎপাদ হলেও যে বিক্রিয়ায় কম সময় লাগে, তার হার বেশি।
মনে রাখো: বিক্রিয়ার হার হলো একক সময়ে তৈরি উৎপাদের পরিমাণ; গবেষণাগারের অধঃক্ষেপণ মুহূর্তে ঘটে, প্রকৃতির মরিচা পড়ায় বছর লাগে, আর গরম পানিতে বিক্রিয়া দ্রুত হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।