পড়ার নোট
মরিচা পড়া হলো লোহার সঙ্গে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের বিক্রিয়া:
; এরপর এই ফেরিক হাইড্রোক্সাইড থেকে পানিযুক্ত ফেরিক অক্সাইড বা মরিচা () তৈরি হয়।
মরিচায় পানির অণুর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়, তাই এর সংকেত , যেখানে পূর্ণসংখ্যা। মরিচা ভঙ্গুর বলে বাতাস ও জলীয় বাষ্প এর ভেতর দিয়ে গিয়ে ভেতরের লোহাকেও ক্ষয় করে।
মরিচা পড়তে অক্সিজেন ও পানি দুটিই লাগে। তাই রোধের মূল কৌশল হলো লোহাকে এদের সংস্পর্শ থেকে আলাদা রাখা:
- রং করা: লোহার জিনিসের বাইরে রং দিলে বাতাসের সংস্পর্শ বন্ধ হয়।
- গ্যালভানাইজিং: লোহার উপর দস্তার প্রলেপ দেওয়া।
- টিন প্লেটিং: লোহার উপর টিনের প্রলেপ দেওয়া।
- ইলেকট্রোপ্লেটিং: তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে লোহার উপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেওয়া।
- তেলে রাখা: সেলাইয়ের সুই নারিকেল তেলে রাখা হয়, যাতে অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া না হয়।
উদাহরণ: বাড়ির লোহার গেটে প্রতি কয়েক বছর পরপর রং করা হয়। রঙের স্তর যতদিন অক্ষত থাকে, ততদিন লোহা বাতাস ও পানির সংস্পর্শে আসে না। কোথাও রং উঠে গেলে সেখান থেকে মরিচা শুরু হয় এবং ভঙ্গুর মরিচার নিচ দিয়ে ছড়ায়; তাই উঠে যাওয়া জায়গা পরিষ্কার করে আবার রং দিতে হয়।
তুলনা: তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের উপর যে অক্সাইড স্তর পড়ে, তা নিজেই প্রলেপের মতো কাজ করে ভেতরের ধাতুকে রক্ষা করে। লোহার মরিচা তা পারে না, তাই লোহায় বাইরে থেকে প্রলেপ দিতে হয়।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে শুধু পানি বা শুধু বাতাসেই মরিচা পড়ে। দুটির সংস্পর্শ একসঙ্গে লাগে; শুকনো অবস্থায় রাখলে মরিচা অনেক কম হয়।
মনে রাখো: মরিচা রোধে লোহাকে অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শ থেকে আলাদা রাখতে হয়: রং, দস্তা বা টিনের প্রলেপ, ইলেকট্রোপ্লেটিং বা তেলের আস্তরণ দিয়ে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।