পড়ার নোট
আমাদের চারপাশের অনেক জিনিস রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে প্রতিনিয়ত নষ্ট বা ক্ষয় হচ্ছে। এই বাড়ির কাজে নিজের ঘরে এমন পরিবর্তন খুঁজে বের করে কোন বিক্রিয়ার কারণে তা ঘটছে, তা ব্যাখ্যা করতে হয়।
কোথায় খুঁজবে:
- লোহার জিনিস: ছুরি, কাঁচি, দা, তালা বা জানালার গ্রিলে মরিচা। লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে মরিচা তৈরি করে। মরিচা ভঙ্গুর, তাই এর ভেতর দিয়ে বাতাস ও জলীয় বাষ্প ঢুকে আরও ভেতরের লোহাকে ক্ষয় করে; এভাবে পুরো জিনিসটি নষ্ট হয়ে যায়।
- বর্ষায় পিচ্ছিল ছাদ ও উঠান: বর্ষাকালে ছাদ ও উঠানে যে পিচ্ছিল পদার্থ জমে, তা ক্ষারীয়।
- তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের জিনিস: এদের উপর অক্সাইডের স্তর পড়ে, কিন্তু এই স্তর ভেতরের ধাতুকে রক্ষা করে। তাই সব পরিবর্তনই ক্ষতিকর নয়।
কীভাবে লিখবে: একটি সারণি বানাও: জিনিসের নাম, কী পরিবর্তন দেখা গেল, কোন পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া হলো, বিক্রিয়াটি কোন ধরনের, এবং তা থামানোর উপায় কী।
উদাহরণ: রান্নাঘরের একটি লোহার কড়াই কয়েক দিন ভেজা অবস্থায় পড়ে থাকায় লালচে বাদামি দাগ পড়েছে। পর্যবেক্ষণ: মরিচা। বিক্রিয়ক: লোহা, অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্প। ধরন: জারণ-বিজারণ, কারণ লোহা ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়। প্রতিকার: ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে রাখা, যাতে পানি ও বাতাসের সংস্পর্শ কমে। আরেকটি সারি: পিচ্ছিল উঠান; পিচ্ছিল পদার্থ ক্ষারীয়; প্রতিকার হিসেবে এসিডধর্মী বালু () ছড়ালে তা প্রশমিত হয়।
রসায়নের জ্ঞান ব্যবহার করে এমন ক্ষয় আগে থেকেই ঠেকানো যায় এবং অনেক জিনিস বাঁচানো যায়।
সাধারণ ভুল হলো যেকোনো রং বা চেহারার পরিবর্তনকেই রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে লিখে ফেলা। নতুন পদার্থ তৈরি হয়েছে কি না, এবং কোন পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া হয়েছে, তা যুক্তিসহ দেখাতে হয়।
মনে রাখো: দৈনন্দিন জিনিসের ক্ষয়ের পেছনে সাধারণত বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া থাকে; কারণ জানলে প্রতিকারও ঠিক করা যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।