পড়ার নোট
একটি অণুতে কোন কোন মৌলের কতটি করে পরমাণু আছে, তা প্রকাশ করে অণুর সংকেত। সংকেত লেখার জন্য মৌলের প্রতীক এবং প্রয়োজনমতো প্রতীকের নিচে ডান পাশে ছোট সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। এই ছোট সংখ্যা তার ঠিক আগের মৌলের পরমাণুর সংখ্যা বোঝায়। একটি পরমাণু থাকলে ১ লেখা হয় না।
হাইড্রোজেন অণুর সংকেত । এতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু আছে। পানির সংকেত ; এতে দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে। এখানে H হাইড্রোজেন এবং O অক্সিজেনের প্রতীক। পানির সংকেতের ২ শুধু H-এর জন্য প্রযোজ্য, O-এর জন্য নয়।
কয়েকটি পরিচিত সংকেত পড়ার অনুশীলন করো:
- নাইট্রোজেন : দুটি নাইট্রোজেন পরমাণু।
- অ্যামোনিয়া : একটি নাইট্রোজেন ও তিনটি হাইড্রোজেন পরমাণু।
- ক্লোরিন : দুটি ক্লোরিন পরমাণু।
- সালফিউরিক এসিড : দুটি হাইড্রোজেন, একটি সালফার ও চারটি অক্সিজেন পরমাণু।
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড : একটি হাইড্রোজেন ও একটি ক্লোরিন পরমাণু।
এখানে N, Cl ও S যথাক্রমে নাইট্রোজেন, ক্লোরিন ও সালফারের প্রতীক। রাসায়নিক সংকেতের অক্ষরগুলো ভৌত রাশির চলক নয়। নিচের সংখ্যাগুলো পরমাণুর গণনা, তাই এদের কোনো SI একক নেই। সালফিউরিক এসিডের এক অণুতে মোট পরমাণু টি।
বাংলাদেশের রান্নাঘরে ব্যবহৃত পানির অণুর সংকেতও । পানি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে পানির নিজস্ব অণুর গঠন বদলায় না। যানবাহনের সিসা-এসিড ব্যাটারিতে ব্যবহৃত এসিড হলো সালফিউরিক এসিড।
এবার ৫টি অ্যামোনিয়া অণুতে মোট পরমাণু গুনে দেখি:
- এক অণুতে নাইট্রোজেন ১টি, তাই ৫ অণুতে টি।
- এক অণুতে হাইড্রোজেন ৩টি, তাই ৫ অণুতে টি।
- মোট পরমাণু টি। এই সংখ্যাগুলো এককবিহীন গণনা।
সাধারণ ভুল হলো নিচের ছোট সংখ্যাকে পুরো অণুর সংখ্যা মনে করা, অথবা সংখ্যা না থাকলে পরমাণু নেই ভাবা। যেমন অ্যামোনিয়ায় N-এর পাশে সংখ্যা নেই বলে নাইট্রোজেন শূন্য নয়, একটি। সংকেত পড়তে প্রতিটি প্রতীক আলাদা করে তার নিজস্ব সংখ্যাটি মিলিয়ে নেবে।
মনে রাখো: সংকেতের প্রতিটি প্রতীক মৌলের পরিচয় এবং তার নিচের সংখ্যা এক অণুতে সেই মৌলের পরমাণুর সংখ্যা জানায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।