offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৩ · টপিক ৫

পরমাণু সম্পর্কে ধারণার বিকাশ

পড়ার নোট

আমাদের চারপাশের পানি, বাতাস, গাছপালা ও লোহার জিনিস কী দিয়ে তৈরি—এই প্রশ্ন থেকেই পরমাণু সম্পর্কে ধারণার শুরু। চোখে একটি বস্তু একটানা মনে হলেও তার ভেতরে অতি ক্ষুদ্র কণা রয়েছে। পরমাণু হলো কোনো মৌলের এমন ক্ষুদ্রতম কণা, যাতে সেই মৌলের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর পরিচয়ও ভিন্ন।

প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকেরা মনে করতেন, মাটি, পানি, বায়ু ও আগুন মৌলিক পদার্থ এবং অন্য সব বস্তু এগুলোর মিশ্রণে তৈরি। এটি ছিল প্রকৃতিকে বোঝার একটি প্রাথমিক চেষ্টা। তবে কোনো ব্যাখ্যা প্রচলিত থাকলেই সেটি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক ধারণা হয়ে যায় না।

গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস বলেছিলেন, পদার্থের একটি অতি ক্ষুদ্র ও অবিভাজ্য একক আছে। তিনি এর নাম দেন এটম। তখন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার সাহায্যে এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। এরিস্টটলও এর বিরোধিতা করেছিলেন। ফলে ধারণাটি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

1803 সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন ডাল্টন বিভিন্ন পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে পরমাণু সম্পর্কে মতবাদ দেন। তিনি বলেন, পদার্থ অসংখ্য ক্ষুদ্র, অবিভাজ্য কণা দিয়ে গঠিত। ডেমোক্রিটাসের ব্যবহৃত এটম নামটিই তিনি গ্রহণ করেন। এখানে বড় পরিবর্তন হলো, পদার্থের গঠন ব্যাখ্যা করতে শুধু অনুমানের বদলে পরীক্ষার ফল ব্যবহার করা।

পরবর্তী গবেষণায় জানা যায়, পরমাণুও আরও ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে তৈরি। এই কণিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। তাই পদার্থ পরমাণু দিয়ে গঠিত—এই ধারণা টিকে থাকলেও পরমাণু সম্পূর্ণ অবিভাজ্য—এই বক্তব্য সংশোধিত হয়। নতুন প্রমাণ পুরোনো ধারণাকে আরও নির্ভুল করতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বাড়ির একটি লোহার পেরেক ভাবো। সেটির ছোট টুকরোও লোহা থাকে। লোহার পরিচয় বহনকারী পরমাণুর ভেতরেও আবার ক্ষুদ্রতর কণিকা আছে। তবে একটি ইলেকট্রনকে লোহার ক্ষুদ্র টুকরো বলা যায় না; সেটি নিজে লোহার বৈশিষ্ট্য বহন করে না।

সাধারণ ভুল হলো, ডাল্টনের সব বক্তব্য এখনো অপরিবর্তিতভাবে সঠিক ভাবা। তাঁর মতবাদ পরীক্ষাভিত্তিক পরমাণু ধারণার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কিন্তু অবিভাজ্যতার বক্তব্য পরে সংশোধিত হয়েছে।

মনে রাখো: পদার্থ পরমাণু দিয়ে গঠিত, আর পরমাণু নিজেও আরও ক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে তৈরি।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো