পড়ার নোট
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা
কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা বলে। এর প্রতীক । এটি মৌলের স্থায়ী পরিচয়: হাইড্রোজেনের প্রোটন একটি, অক্সিজেনের আটটি। নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রনের সংখ্যাও প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়। তবে মৌলের পরিচয় নির্ধারণের মূল ভিত্তি প্রোটন।
নিউক্লিয়াসের প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ভরসংখ্যা বলে। সূত্র । এখানে ভরসংখ্যা, প্রোটন সংখ্যা এবং নিউট্রন সংখ্যা। সবগুলোই কণিকার গণনা; এগুলোর কোনো SI একক নেই। ভরসংখ্যা সব সময় পূর্ণসংখ্যা, কারণ কণিকা গোনা হচ্ছে।
পরমাণুর সংক্ষিপ্ত প্রকাশ ; এখানে মৌলের প্রতীক। প্রতীকের বাঁয়ে উপরে ভরসংখ্যা এবং নিচে পারমাণবিক সংখ্যা বসে। যেমন, -এ 11টি প্রোটন ও 12টি নিউট্রন আছে। রান্নার লবণের গঠনে সোডিয়াম থাকলেও এই প্রতীক একটি সোডিয়াম পরমাণুর পরিচয় নির্দেশ করে।
একটি নতুন উদাহরণে অক্সিজেন পরমাণুর 8টি প্রোটন ও 10টি নিউট্রন দেওয়া থাকলে:
- প্রথমে প্রোটন গুনে পাই ।
- এরপর যোগ করি: ।
- তাই প্রতীক ; নিরপেক্ষ হলে ইলেকট্রনও 8টি।
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর
কার্বন-12 পরমাণুর ভরের বারো ভাগের এক ভাগের তুলনায় কোনো মৌলের পরমাণুর ভর কত গুণ, তা হলো আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর। পরমাণুর প্রকৃত ভর অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এই তুলনা ব্যবহার করা সুবিধাজনক।
সূত্র । এখানে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর, পরমাণুর ভর এবং কার্বন-12 পরমাণুর ভরের বারো ভাগের এক ভাগ। ভর দুটির SI একক kg; । দুটি ভরের অনুপাত হওয়ায় -এর একক নেই।
একাধিক আইসোটোপ থাকলে প্রাকৃতিক প্রাচুর্য অনুযায়ী গড় নেওয়া হয়। ক্লোরিন-35-এর প্রাচুর্য 75% এবং ক্লোরিন-37-এর 25% ধরলে । বেশি পরিমাণে থাকা আইসোটোপ গড়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
সাধারণ ভুল হলো, 35.5-কে একটি পরমাণুর ভরসংখ্যা ভাবা বা আপেক্ষিক ভরের পাশে গ্রাম লেখা। একটি পরমাণুতে ভগ্নাংশ প্রোটন বা নিউট্রন থাকে না।
মনে রাখো: পারমাণবিক সংখ্যা পরিচয় দেয়, ভরসংখ্যা কণিকা গোনে, আর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ভরের তুলনা প্রকাশ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।