পড়ার নোট
শস্য উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রচলিত প্রজননের চেয়ে কার্যকর, কারণ কাঙ্ক্ষিত জিন দূরবর্তী প্রজাতি থেকেও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে আনা যায় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত জিন সঙ্গে আসে না।
পোকা প্রতিরোধী শস্য: Bacillus thuringiensis (Bt) নামের ব্যাকটেরিয়ার জিন শস্যে প্রবেশ করিয়ে তৈরি শস্যকে বিটি শস্য বলে, যেমন বিটি ভুট্টা, বিটি কটন এবং চীনের বিটি ধান। বাংলাদেশে বর্তমানে বিটি কটন ও বিটি বেগুন চাষ হচ্ছে। এসব ফসল লেপিডোপটেরা (মথবর্গীয়) এবং কলিওপটেরা (গুবরে পোকাবর্গীয়) ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম।
ভাইরাস প্রতিরোধী শস্য: ভাইরাল কোট প্রোটিন জিন স্থানান্তর করে টমেটো মোজাইক ভাইরাস, টোবাকো মোজাইক ভাইরাস ও টোবাকো মাইল্ড গ্রিন মোজাইক ভাইরাস প্রতিরোধী জাত তৈরি হয়েছে। রিং স্পট ভাইরাস প্রতিরোধী পেঁপেও উদ্ভাবিত হয়েছে। লেট ব্লাইট ছত্রাক প্রতিরোধী জিন স্থানান্তর করে আলুর নতুন জাত তৈরির গবেষণা চলছে।
আগাছানাশক সহনশীল শস্য: ব্যাকটেরিয়া থেকে আগাছানাশক সহনশীল জিন এনে টমেটো, সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা ও ক্যানোলার সহনশীল জাত তৈরি হয়েছে।
একাধিক বৈশিষ্ট্য: একই উদ্ভিদে একাধিক বৈশিষ্ট্য যোগ করা যায়; যেমন ভুট্টা ও তুলায় আগাছানাশক সহনশীলতা ও পোকা প্রতিরোধ একসঙ্গে।
পুষ্টিমান বৃদ্ধি: ধানে বিটা-ক্যারোটিন (ভিটামিন এ) জিন স্থানান্তর করা হয়েছে; এমন চাল খেলে আলাদা ভিটামিন এ খাওয়ার দরকার হয় না। ধানে আয়রন যোগ করার এবং লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল জাত তৈরির চেষ্টাও চলছে।
উদাহরণ: একজন বেগুনচাষিকে আগে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে মৌসুমজুড়ে বারবার কীটনাশক দিতে হতো। বিটি বেগুনের গাছে Bt জিন থাকায় পোকা গাছ খেলে মারা যায়, ফলে কীটনাশক কম লাগে, খরচ কমে এবং পরিবেশের ক্ষতিও কমে।
সাধারণ ভুল হলো বিটি শস্যকে সব রোগ বা সব পোকা প্রতিরোধী ভাবা। Bt জিন নির্দিষ্ট বর্গের পোকার বিরুদ্ধে কাজ করে; ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য আলাদা জিন লাগে।
মনে রাখো: জিন প্রকৌশলে পোকা প্রতিরোধী (বিটি), ভাইরাস প্রতিরোধী, আগাছানাশক সহনশীল ও পুষ্টিমান বাড়ানো শস্য তৈরি হয়েছে; বাংলাদেশে বিটি কটন ও বিটি বেগুন চাষ হচ্ছে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।