offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১৪ · টপিক ৭

শস্য উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

পড়ার নোট

শস্য উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রচলিত প্রজননের চেয়ে কার্যকর, কারণ কাঙ্ক্ষিত জিন দূরবর্তী প্রজাতি থেকেও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে আনা যায় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত জিন সঙ্গে আসে না।

পোকা প্রতিরোধী শস্য: Bacillus thuringiensis (Bt) নামের ব্যাকটেরিয়ার জিন শস্যে প্রবেশ করিয়ে তৈরি শস্যকে বিটি শস্য বলে, যেমন বিটি ভুট্টা, বিটি কটন এবং চীনের বিটি ধান। বাংলাদেশে বর্তমানে বিটি কটন ও বিটি বেগুন চাষ হচ্ছে। এসব ফসল লেপিডোপটেরা (মথবর্গীয়) এবং কলিওপটেরা (গুবরে পোকাবর্গীয়) ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম।

ভাইরাস প্রতিরোধী শস্য: ভাইরাল কোট প্রোটিন জিন স্থানান্তর করে টমেটো মোজাইক ভাইরাস, টোবাকো মোজাইক ভাইরাস ও টোবাকো মাইল্ড গ্রিন মোজাইক ভাইরাস প্রতিরোধী জাত তৈরি হয়েছে। রিং স্পট ভাইরাস প্রতিরোধী পেঁপেও উদ্ভাবিত হয়েছে। লেট ব্লাইট ছত্রাক প্রতিরোধী জিন স্থানান্তর করে আলুর নতুন জাত তৈরির গবেষণা চলছে।

আগাছানাশক সহনশীল শস্য: ব্যাকটেরিয়া থেকে আগাছানাশক সহনশীল জিন এনে টমেটো, সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা ও ক্যানোলার সহনশীল জাত তৈরি হয়েছে।

একাধিক বৈশিষ্ট্য: একই উদ্ভিদে একাধিক বৈশিষ্ট্য যোগ করা যায়; যেমন ভুট্টা ও তুলায় আগাছানাশক সহনশীলতা ও পোকা প্রতিরোধ একসঙ্গে।

পুষ্টিমান বৃদ্ধি: ধানে বিটা-ক্যারোটিন (ভিটামিন এ) জিন স্থানান্তর করা হয়েছে; এমন চাল খেলে আলাদা ভিটামিন এ খাওয়ার দরকার হয় না। ধানে আয়রন যোগ করার এবং লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল জাত তৈরির চেষ্টাও চলছে।

উদাহরণ: একজন বেগুনচাষিকে আগে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে মৌসুমজুড়ে বারবার কীটনাশক দিতে হতো। বিটি বেগুনের গাছে Bt জিন থাকায় পোকা গাছ খেলে মারা যায়, ফলে কীটনাশক কম লাগে, খরচ কমে এবং পরিবেশের ক্ষতিও কমে।

সাধারণ ভুল হলো বিটি শস্যকে সব রোগ বা সব পোকা প্রতিরোধী ভাবা। Bt জিন নির্দিষ্ট বর্গের পোকার বিরুদ্ধে কাজ করে; ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য আলাদা জিন লাগে।

মনে রাখো: জিন প্রকৌশলে পোকা প্রতিরোধী (বিটি), ভাইরাস প্রতিরোধী, আগাছানাশক সহনশীল ও পুষ্টিমান বাড়ানো শস্য তৈরি হয়েছে; বাংলাদেশে বিটি কটন ও বিটি বেগুন চাষ হচ্ছে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ব্যাকটেরিয়া থেকে মানব ইনসুলিন উৎপাদন: রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তিচালিয়ে দেখো

    বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ঢাকার বারডেম (BIRDEM) হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, বহু রোগীর রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। ইনসুলিন মূলত ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত একটি প্রোটিন হরমোন, যার A শৃঙ্খলে ২১টি এবং B শৃঙ্খলে ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। অতীতে গরু বা শূকরের অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন সংগ্রহ করা হতো, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং তা মানুষের শরীরে মারাত্মক অ্যালার্জি সৃষ্টি করত। বর্তমানে জীবপ্রযুক্তির রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ (rDNA) কৌশলে নিরীহ ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে কারখানায় ১০০% খাঁটি মানব ইনসুলিন তৈরি করা হয়। মানুষের অগ্ন্যাশয় কোষ থেকে ইনসুলিন তৈরির জিন ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিডে যুক্ত করার পর, এককোষী এই ব্যাকটেরিয়া কীভাবে অবিকল মানুষের মতো ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিডযুক্ত মানব ইনসুলিন তৈরি করতে পারে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. যশোর ও নরসিংদীর কৃষকরা প্রচলিত জাতের পরিবর্তে জিন প্রকৌশলজাত 'বিটি বেগুন' (Bt brinjal) চাষ করে কোন বাস্তব সুবিধাটি সরাসরি ভোগ করেন?

    1. ক

      গাছগুলো মাটিতে রাসায়নিক ইউরিয়া সারের ব্যবহার ছাড়াই নিজে থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে দ্রুত বৃদ্ধি পায়

    2. খ

      ডগা ও ফল ছিদ্রকারী ক্ষতিকর পোকা নিজে থেকেই মারা যায় ফলে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করার খরচ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুলাংশে কমে যায়

    3. গ

      বেগুনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে উজ্জ্বল সোনালি বর্ণ ধারণ করে এবং রান্নার পর মিষ্টি স্বাদযুক্ত হয়

    4. ঘ

      ক্ষেতে যেকোনো আগাছানাশক ছিটানো হলেও বেগুন গাছ নষ্ট না হয়ে শুধুমাত্র আগাছাগুলো পুড়ে যায়

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ডগা ও ফল ছিদ্রকারী ক্ষতিকর পোকা নিজে থেকেই মারা যায় ফলে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করার খরচ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুলাংশে কমে যায়

    1. বিটি বেগুনে মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া Bacillus thuringiensis থেকে একটি স্ফটিকাকার প্রোটিন তৈরির জিন (Cry জিন) সংযোজন করা হয়েছে।
    2. বেগুনের মারাত্মক ক্ষতিকর ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা গাছের পাতা বা ফল খেলে এই প্রোটিন পোকার অন্ত্রে বিষাক্ত ছিদ্র সৃষ্টি করে পোকাটিকে মেরে ফেলে। এর ফলে কৃষকদের বারবার কীটনাশক স্প্রে করতে হয় না, উৎপাদন ব্যয় কমে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো