পড়ার নোট
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।
১. শস্য উন্নয়নে: Bacillus thuringiensis (Bt) ব্যাকটেরিয়ার জিন প্রবেশ করিয়ে বিটি ভুট্টা, বিটি কটন ও বিটি ধানের মতো পোকা প্রতিরোধী শস্য তৈরি হয়েছে; বাংলাদেশে বিটি কটন ও বিটি বেগুন চাষ হচ্ছে। ভাইরাস প্রতিরোধী টমেটো ও পেঁপে, আগাছানাশক সহনশীল সয়াবিন, ভুট্টা ও তুলা এবং বিটা-ক্যারোটিনযুক্ত ধানও তৈরি হয়েছে।
২. প্রাণীর উন্নয়নে: গরুর দুধে প্রোটিন বাড়াতে প্রোটিন C জিন স্থানান্তর (এখনো গবেষণা পর্যায়ে); আকার ও মাংস বাড়াতে মানুষের বৃদ্ধি হরমোন তৈরির জিন ভেড়ায় স্থানান্তর; পশমের পরিমাণ ও মান বাড়াতে ভেড়ায় দুটি ব্যাকটেরিয়ার জিন (CysE ও CysM) স্থানান্তর।
৩. মৎস্য উন্নয়নে: স্যামন মাছের বৃদ্ধি হরমোনের জিন ক্যাটফিশ, কার্প, লইট্টা ও নাইলোটিকায় স্থানান্তর করে মাছের আকার প্রায় শতাংশ বাড়ানো সম্ভব।
৪. চিকিৎসায়: জিন পরিবর্তিত ইস্ট থেকে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ঔষধ (ইন্টারফেরন) তৈরি হচ্ছে। জিন পরিবর্তিত E. coli ও ইস্ট থেকে বাণিজ্যিকভাবে ডায়াবেটিসের চিকিৎসার ইনসুলিন, মানুষের বৃদ্ধি হরমোন ও শ্বেত রক্তকণিকার বৃদ্ধি ত্বরান্বিতকারী উপাদান তৈরি হচ্ছে। বৃদ্ধি হরমোন ও অন্যান্য উপাদান খর্বাকৃতি, ভাইরাসজনিত রোগ, ক্যান্সার ও এইডসের চিকিৎসায় বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়।
৫. পরিবেশ সংরক্ষণে: পেট্রোলিয়াম শিল্প, শোধনাগার ও কয়লাখনি এলাকা দূষণমুক্ত করতে এবং শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। একজন গবেষক এমন Pseudomonas ব্যাকটেরিয়া তৈরি করেছেন, যা যেকোনো পরিবেশে তেল ও হাইড্রোকার্বন ভাঙতে পারে।
উদাহরণ: কোনো মাছের আকার শতাংশ বাড়লে গ্রামের মাছ হবে গ্রাম। ভরের SI একক কিলোগ্রাম; গ্রাম kg।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে জিন প্রকৌশলের ব্যবহার শুধু কৃষিতে। কৃষি ছাড়াও প্রাণী, মাছ, চিকিৎসা ও পরিবেশ, সব ক্ষেত্রেই এর প্রয়োগ আছে।
মনে রাখো: জিন প্রকৌশল শস্য, প্রাণী, মাছ, চিকিৎসা ও পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে; বিটি ফসল, জিন পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়ার ইনসুলিন ও তেলভুক Pseudomonas এর পরিচিত উদাহরণ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।