offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১৪ · টপিক ৫

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উদ্দেশ্য

পড়ার নোট

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি সর্বাধুনিক জীবপ্রযুক্তি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব সৃষ্টি করা, যা দিয়ে মানুষ সর্বোত্তমভাবে লাভবান হতে পারে। এর নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলো:

  • ক্ষতিকর পোকা, ভাইরাস ও রোগ প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন।
  • আগাছানাশক সহনশীল, লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল ফসল তৈরি।
  • ফসলের পুষ্টিমান বাড়ানো, যেমন ধানে বিটা-ক্যারোটিন যোগ করা।
  • পশুর দুধে প্রোটিন, মাংস ও পশমের পরিমাণ ও মান বাড়ানো; মাছের আকার বাড়ানো।
  • ইনসুলিন, হরমোন ও টিকার মতো জীবনরক্ষাকারী ঔষধ উৎপাদন।
  • পরিবেশ দূষণ কমানো।

প্রচলিত প্রজননের সঙ্গে তুলনা: এই উদ্দেশ্যগুলো পূরণে জিন প্রকৌশল প্রচলিত প্রজননের চেয়ে বেশি কার্যকর।

বিষয়প্রচলিত প্রজননজিন প্রকৌশল
জিন স্থানান্তরএকই বা খুব নিকটবর্তী প্রজাতিতে সীমাবদ্ধনিকটবর্তী বা দূরবর্তী যেকোনো প্রজাতিতে
সময়অনেক বেশিখুব দ্রুত
অনাকাঙ্ক্ষিত জিনসঙ্গে চলে যেতে পারেযাওয়ার সম্ভাবনা নেই
জীবনিরাপত্তাকোনো নিয়মে নিয়ন্ত্রিত নয়আন্তর্জাতিক নিয়মে নিয়ন্ত্রিত
বিষাক্ততা পরীক্ষাকরা হয় নাকরা হয়

উদাহরণ: কোনো কৃষক প্রচলিত উপায়ে দুটি বেগুনের জাত সংকরায়ণ করে পোকা প্রতিরোধী জাত পেতে চাইলে অনেক মৌসুম লাগতে পারে, আর সঙ্গে খারাপ বৈশিষ্ট্যও চলে আসতে পারে। অথচ Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট জিন সরাসরি বেগুনে স্থানান্তর করে অল্প সময়েই বিটি বেগুন তৈরি করা গেছে; ব্যাকটেরিয়া আর বেগুন সম্পূর্ণ দূরবর্তী জীব হলেও জিন প্রকৌশলে এটি সম্ভব।

সাধারণ ভুল হলো জিন প্রকৌশলকে ঝুঁকিহীন ভাবা। জিন পরিবর্তিত জীব পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে বলেই আন্তর্জাতিক জীবনিরাপত্তা নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়।

মনে রাখো: জিন প্রকৌশলের মূল উদ্দেশ্য নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যের জীব সৃষ্টি করে মানুষের সর্বোত্তম কল্যাণ; এটি প্রচলিত প্রজননের চেয়ে দ্রুত, নির্ভুল ও দূরবর্তী প্রজাতিতেও কার্যকর।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিতে কাঙ্ক্ষিত জিন স্থানান্তরের জন্য ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিডকে (plasmid) আদর্শ বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয় কেন? দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    প্লাজমিড হলো ব্যাকটেরিয়ার মূল ক্রোমোজোমের বাইরে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র, বৃত্তাকার, দ্বিসূত্রক এবং স্ব-বিভাজনক্ষম ডিএনএ অণু, যা পোষক ব্যাকটেরিয়ার অভ্যন্তরে স্বাধীনভাবে দ্রুত প্রতিরূপ সৃষ্টি (replication) করে কাঙ্ক্ষিত জিনের অসংখ্য কপি তৈরি করতে পারে। এছাড়া প্লাজমিডে সুনির্দিষ্ট রেস্ট্রিকশন সাইট এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী চিহ্নিতকারী (marker) জিন থাকে, ফলে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কেটে বহিরাগত কাঙ্ক্ষিত জিন সহজে সংযুক্ত করা যায় এবং রিকম্বিনেন্ট ব্যাকটেরিয়াকে সহজেই শনাক্ত ও পৃথক করা সম্ভব হয়।

    1. প্লাজমিডের প্রথম প্রধান সুবিধা হলো এর স্বাধীনভাবে প্রতিরূপ সৃষ্টির ক্ষমতা (self-replication); এটি মূল ক্রোমোজোমের ওপর নির্ভর না করেই পোষক কোষে দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি করে বহিরাগত জিনের বহু অনুলিপি তৈরি করতে পারে।
    2. দ্বিতীয় প্রধান সুবিধা হলো এতে নির্দিষ্ট রেস্ট্রিকশন সাইট ও মার্কার জিন উপস্থিত থাকে; ফলে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কাঙ্ক্ষিত জিন সহজেই প্লাজমিডে প্রবেশ করানো যায় এবং রূপান্তর প্রক্রিয়ার পর সফল রিকম্বিনেন্ট কোষগুলো নির্বাচন করা সহজ হয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো