পড়ার নোট
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি সর্বাধুনিক জীবপ্রযুক্তি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব সৃষ্টি করা, যা দিয়ে মানুষ সর্বোত্তমভাবে লাভবান হতে পারে। এর নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলো:
- ক্ষতিকর পোকা, ভাইরাস ও রোগ প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন।
- আগাছানাশক সহনশীল, লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল ফসল তৈরি।
- ফসলের পুষ্টিমান বাড়ানো, যেমন ধানে বিটা-ক্যারোটিন যোগ করা।
- পশুর দুধে প্রোটিন, মাংস ও পশমের পরিমাণ ও মান বাড়ানো; মাছের আকার বাড়ানো।
- ইনসুলিন, হরমোন ও টিকার মতো জীবনরক্ষাকারী ঔষধ উৎপাদন।
- পরিবেশ দূষণ কমানো।
প্রচলিত প্রজননের সঙ্গে তুলনা: এই উদ্দেশ্যগুলো পূরণে জিন প্রকৌশল প্রচলিত প্রজননের চেয়ে বেশি কার্যকর।
| বিষয় | প্রচলিত প্রজনন | জিন প্রকৌশল |
|---|---|---|
| জিন স্থানান্তর | একই বা খুব নিকটবর্তী প্রজাতিতে সীমাবদ্ধ | নিকটবর্তী বা দূরবর্তী যেকোনো প্রজাতিতে |
| সময় | অনেক বেশি | খুব দ্রুত |
| অনাকাঙ্ক্ষিত জিন | সঙ্গে চলে যেতে পারে | যাওয়ার সম্ভাবনা নেই |
| জীবনিরাপত্তা | কোনো নিয়মে নিয়ন্ত্রিত নয় | আন্তর্জাতিক নিয়মে নিয়ন্ত্রিত |
| বিষাক্ততা পরীক্ষা | করা হয় না | করা হয় |
উদাহরণ: কোনো কৃষক প্রচলিত উপায়ে দুটি বেগুনের জাত সংকরায়ণ করে পোকা প্রতিরোধী জাত পেতে চাইলে অনেক মৌসুম লাগতে পারে, আর সঙ্গে খারাপ বৈশিষ্ট্যও চলে আসতে পারে। অথচ Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট জিন সরাসরি বেগুনে স্থানান্তর করে অল্প সময়েই বিটি বেগুন তৈরি করা গেছে; ব্যাকটেরিয়া আর বেগুন সম্পূর্ণ দূরবর্তী জীব হলেও জিন প্রকৌশলে এটি সম্ভব।
সাধারণ ভুল হলো জিন প্রকৌশলকে ঝুঁকিহীন ভাবা। জিন পরিবর্তিত জীব পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে বলেই আন্তর্জাতিক জীবনিরাপত্তা নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়।
মনে রাখো: জিন প্রকৌশলের মূল উদ্দেশ্য নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যের জীব সৃষ্টি করে মানুষের সর্বোত্তম কল্যাণ; এটি প্রচলিত প্রজননের চেয়ে দ্রুত, নির্ভুল ও দূরবর্তী প্রজাতিতেও কার্যকর।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।