পড়ার নোট
কোনো জীব থেকে নির্দিষ্ট জিনসহ DNA এর অংশ নিয়ে কাঙ্ক্ষিত জীবে স্থানান্তরের কৌশলকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জিন প্রকৌশল বলে। সহজ কথায়, নতুন বৈশিষ্ট্য তৈরির জন্য জীবের DNA পরিবর্তন করাই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। জিন স্থানান্তরের সব কৌশলকে একসঙ্গে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি বলে। এক জীবের DNA এর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে অন্য জীবের DNA তে জুড়ে দিলে পরের DNA টিকে রিকম্বিনেন্ট DNA বলে। এ প্রযুক্তিতে ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষে, উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে এবং প্রাণী থেকে উদ্ভিদে DNA স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে।
নতুন বৈশিষ্ট্যের জীবকে GMO (Genetically Modified Organism) বা ট্রান্সজেনিক জীব বলে। তবে দুটি এক নয়: মিউটেশনসহ যেকোনো উপায়ে জিনের পরিবর্তনকে জেনেটিক মডিফিকেশন বলে, আর ভিন্ন প্রজাতি বা জাত থেকে আনা এক বা একাধিক জিন যে জীবের জিনোমে প্রবেশ করানো হয়েছে, সেটিই ট্রান্সজেনিক।
রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরির ধাপ (মানুষের অন্ত্রের Escherichia coli ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা থেকে বেশিরভাগ কৌশল এসেছে):
- দাতা জীব থেকে কাঙ্ক্ষিত জিনসহ DNA এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে বাহক হিসেবে প্লাজমিড আলাদা করা হয়। প্লাজমিড হলো ব্যাকটেরিয়া কোষে ক্রোমোজোমের বাইরের স্বতন্ত্র DNA, যা নিজে নিজে বিভাজিত হতে পারে।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে প্লাজমিড ও দাতা DNA কাটা হয়।
- লাইগেজ এনজাইম আঠার মতো কাজ করে দাতা DNA এর অংশকে প্লাজমিডে জুড়ে দেয়; তৈরি হয় রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিড।
- রিকম্বিনেন্ট DNA গ্রাহক ব্যাকটেরিয়ায় প্রবেশ করানো হয়।
- রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিডযুক্ত ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করানো হয়; প্রতিটিতে কাঙ্ক্ষিত জিন থাকে। জিনের এই প্রতিলিপি তৈরিকে জিন ক্লোনিং বলে।
উদাহরণ: মানুষের ইনসুলিন তৈরির জিন E. coli এর প্লাজমিডে জুড়ে দিলে ব্যাকটেরিয়াগুলো বংশবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ইনসুলিন তৈরি করতে থাকে; এভাবে বাণিজ্যিকভাবে ইনসুলিন উৎপাদন হয়।
সাধারণ ভুল হলো DNA কাটা ও জোড়ার এনজাইম গুলিয়ে ফেলা। কাটে রেস্ট্রিকশন এনজাইম, জোড়া লাগায় লাইগেজ।
মনে রাখো: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে রেস্ট্রিকশন এনজাইমে DNA কেটে লাইগেজ দিয়ে প্লাজমিডে জুড়ে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরি হয় এবং তা গ্রাহক জীবে প্রবেশ করিয়ে নতুন বৈশিষ্ট্য আনা হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।