পড়ার নোট
উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের কোষে টোটিপোটেন্সি থাকে, অর্থাৎ একটি কোষ থেকেই পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ গড়ে উঠতে পারে। তাই উদ্ভিদের যেকোনো অংশ থেকে হুবহু একই রকম উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব; এটিই টিস্যু কালচারের মূলনীতি। উদ্ভিদ থেকে টিস্যু আলাদা করে পুষ্টিকর মাধ্যমে বাড়তে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে টিস্যু কালচার বলে। এর জন্য আলাদা করা অংশকে এক্সপ্ল্যান্ট বলে, যেমন পরাগরেণু, শীর্ষমুকুল বা পার্শ্বমুকুল, মূলের অংশ।
ধাপসমূহ:
- মাতৃউদ্ভিদ নির্বাচন: সুস্থ, রোগ প্রতিরোধী ও উন্নত মানের উদ্ভিদ বেছে নেওয়া।
- আবাদ মাধ্যম তৈরি: খনিজ পুষ্টি, ভিটামিন, ফাইটোহরমোন, সুক্রোজ এবং অর্ধকঠিন করার জন্য অ্যাগার মিশিয়ে মাধ্যম তৈরি।
- জীবাণুমুক্ত মাধ্যম ও এক্সপ্ল্যান্ট স্থাপন: কাচের পাত্রে মাধ্যম রেখে অটোক্লেভ যন্ত্রে তাপমাত্রা ও lb/বর্গ ইঞ্চি চাপে মিনিট রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়। মাধ্যম ঠান্ডা ও অর্ধকঠিন হলে এক্সপ্ল্যান্ট বসিয়ে তাপমাত্রা ও নিয়ন্ত্রিত আলোর ঘরে রাখা হয়। বারবার কোষ বিভাজনে এটি সরাসরি চারা বা অবিভেদিত কোষগুচ্ছ ক্যালাস তৈরি করে।
- মূল উৎপাদনকারী মাধ্যমে স্থানান্তর: চারায় মূল না হলে বিটপ কেটে মূল উৎপাদনকারী মাধ্যমে রাখা হয়।
- প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানান্তর: চারাকে টবে রেখে বাইরের পরিবেশে খাপ খাওয়ানো হয়, সতেজ ও শক্ত হলে মাটিতে লাগানো হয়।
ব্যবহার: অল্প সময়ে একই বৈশিষ্ট্যের অসংখ্য চারা, ভাইরাসমুক্ত চারা, মৌসুমের সীমাবদ্ধতা ছাড়া চারা উৎপাদন, বীজ সংরক্ষণের সমস্যা এড়ানো, বীজ হয় না এমন উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ তৈরি। বাংলাদেশে অর্কিড, কলা, বেল, কাঁঠাল, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস, ডাল, চিনাবাদাম, সরিষা, বেগুন, পাট এবং আলুর রোগমুক্ত চারা ও মাইক্রোটিউবার উৎপাদন হচ্ছে।
উদাহরণ: ফরাসি বিজ্ঞানী জর্জ মোরেল (১৯৬৪) দেখান, Cymbidium অর্কিডের একটি ভাজক টিস্যু থেকে এক বছরে হাজার চারা পাওয়া সম্ভব, যা প্রাকৃতিক উপায়ে অসম্ভব।
সাধারণ ভুল হলো টিস্যু কালচারের চারাকে জিন পরিবর্তিত উদ্ভিদ ভাবা। টিস্যু কালচারে সাধারণত মাতৃউদ্ভিদের একই বৈশিষ্ট্যের চারা উৎপাদন করা হয়; তবে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ তৈরিতেও এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখো: টোটিপোটেন্সির কারণে এক্সপ্ল্যান্ট থেকে জীবাণুমুক্ত পুষ্টি মাধ্যমে পূর্ণ উদ্ভিদ জন্মানো যায়; এতে অল্প সময়ে মাতৃউদ্ভিদের মতো অসংখ্য রোগমুক্ত চারা মেলে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।