offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১৪ · টপিক ২

জীবপ্রযুক্তির ধারণা ও গুরুত্ব

পড়ার নোট

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বংশগতিবিদ্যা নানাভাবে বিকশিত হতে থাকে। জিনের প্রকৃতি, রাসায়নিক ও আণবিক গঠন এবং জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেন, কীভাবে এক জীবকোষ থেকে আরেক জীবকোষে জিন প্রতিস্থাপন করা যায়। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয় জীববিজ্ঞানের নতুন শাখা জীবপ্রযুক্তি। এর মূল ধারণা হলো জীবের কোষ, অণুজীব বা জিন কাজে লাগিয়ে মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান করা।

জীবপ্রযুক্তির গুরুত্ব: বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বাস্তব সমস্যা সমাধানে এ প্রযুক্তি ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

  • স্বাস্থ্য: জিন পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট থেকে ইনসুলিন, হেপাটাইটিস বি এর ঔষধ এবং বিভিন্ন হরমোন তৈরি হচ্ছে।
  • উন্নত ফসল: রোগ ও পোকা প্রতিরোধী এবং উচ্চফলনশীল জাত তৈরি, ফসলের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি।
  • চারা উৎপাদন: টিস্যু কালচারে অল্প সময়ে রোগমুক্ত, একই বৈশিষ্ট্যের অসংখ্য চারা।
  • পরিবেশ সংরক্ষণ: তেল ও হাইড্রোকার্বন ভাঙতে সক্ষম Pseudomonas ব্যাকটেরিয়া দিয়ে দূষণ কমানো; শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
  • বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণ: টিস্যু কালচারে দুর্লভ উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি।

উদাহরণ: বাংলাদেশের জুট জিনোম প্রকল্প পাটের জীবন রহস্য (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেছে। কোন জিন পাটের কোন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তা জানা গেলে উন্নত আঁশ ও বেশি ফলনের জাত তৈরির পথ খোলে। আবার বাংলাদেশে বর্তমানে বিটি বেগুন ও বিটি কটন চাষ হচ্ছে, যা ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করে।

জীবপ্রযুক্তির ঝুঁকিও আছে: জিন পরিবর্তিত জীব পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত জীবনিরাপত্তা (Biosafety) নির্দেশিকা মেনে চলা হয়।

সাধারণ ভুল হলো জীবপ্রযুক্তিকে শুধু গবেষণাগারের বিষয় ভাবা। এর ফসল, ঔষধ ও চারা ইতোমধ্যে মাঠে, হাসপাতালে ও বাজারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মনে রাখো: জীবপ্রযুক্তির ধারণা হলো জীব ও জিন কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান; স্বাস্থ্য, ফসল, চারা উৎপাদন ও পরিবেশ রক্ষায় এর গুরুত্ব অপরিসীম, তবে জীবনিরাপত্তা নিয়ম মানতে হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো