পড়ার নোট
জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি জীববিজ্ঞানের একটি ফলিত শাখা। শব্দটি এসেছে biology ও technology থেকে। biology মানে জীব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান, আর technology মানে কারিগরি প্রক্রিয়া, পদ্ধতি বা জ্ঞান ব্যবহার করে কোনো কাজ সম্পন্ন করার কৌশল। এ দুইয়ের সমন্বয়ই জীবপ্রযুক্তি। ১৯১৯ সালে হাঙ্গেরির প্রকৌশলী কার্ল এরেকি প্রথম শব্দটি ব্যবহার করেন।
এ প্রযুক্তিতে কোনো জীব, অণুজীব বা তার কোষ কিংবা কোষের অংশ ব্যবহার করে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ, প্রাণী বা অণুজীব তৈরি করা হয়, অথবা জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত পদার্থ উৎপাদন করা হয়।
জীবপ্রযুক্তি বিজ্ঞানের নতুন সংযোজন নয়। প্রায় ৮০০০ বছর আগেই মানুষ গাঁজন ও মদ্য প্রস্তুতের জ্ঞান অর্জন করে। মেন্ডেলের বংশগতির সূত্র আবিষ্কারের পর এর নতুন অগ্রযাত্রা শুরু হয়, আর ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিকের DNA এর দ্বি-সূত্রক হেলিক্স মডেল আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় আজকের জীবপ্রযুক্তি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে; এর মাধ্যমে ঔষধ সরাসরি আক্রান্ত কোষে পৌঁছে দ্রুত রোগ নিরাময় করা যায়।
জীবপ্রযুক্তির অনেক পদ্ধতির মধ্যে কৃষি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বহুমুখীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে দুটি: টিস্যু কালচার এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
উদাহরণ: ঘরে দই পাতা বা আটার খামিরে ইস্ট দিয়ে রুটি ফোলানো পুরোনো জীবপ্রযুক্তির উদাহরণ, কারণ এখানে অণুজীব ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত করা হয়। অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়ার জিন বেগুনে প্রবেশ করিয়ে পোকা প্রতিরোধী বিটি বেগুন তৈরি আধুনিক জীবপ্রযুক্তির উদাহরণ।
সাধারণ ভুল হলো জীবপ্রযুক্তি মানেই শুধু জিন পরিবর্তন ভাবা। গাঁজন, টিস্যু কালচার ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সবই জীবপ্রযুক্তির অংশ।
মনে রাখো: জীবপ্রযুক্তি হলো জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে জীব বা তার অংশ ব্যবহার করে নতুন জীব বা উপকারী পদার্থ তৈরি; এর প্রধান দুটি পদ্ধতি টিস্যু কালচার ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।