পড়ার নোট
গৃহপালিত পশুর উন্নয়ন ও রোগ নিরাময়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং দুইভাবে কাজে লাগে: পশুর নিজের জিনে পরিবর্তন এনে, এবং জিন পরিবর্তিত অণুজীব দিয়ে ঔষধ ও টিকা তৈরি করে।
পশুর জিনগত উন্নয়ন:
- গরুর দুধে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে প্রোটিন C জিন স্থানান্তর করা হয়েছে, যদিও এটি এখনো গবেষণা পর্যায়ে।
- ভেড়ার আকার ও মাংস উৎপাদন বাড়াতে মানুষের বৃদ্ধি হরমোন তৈরির জিন ভেড়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
- ভেড়ার পশমের পরিমাণ ও মান বাড়াতে দুটি ব্যাকটেরিয়ার জিন, CysE ও CysM, ভেড়ার জিনোমে যুক্ত করা হয়েছে।
ঔষধ ও টিকা তৈরি: জিন প্রকৌশলে জিন পরিবর্তিত E. coli ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট থেকে ইনসুলিন, বৃদ্ধি হরমোন, ইন্টারফেরন ও টিকার উপাদান বিপুল পরিমাণে তৈরি করা যায়। যে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিতে মানুষের রোগের ঔষধ ও টিকা তৈরি হয়, সেই একই কৌশল পশুর রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের জন্য ঔষধ ও টিকা তৈরিতেও প্রয়োগ করা যায়। এতে কম খরচে ও দ্রুত বেশি পরিমাণ ঔষধ পাওয়া যায়।
মাছ: স্যামনের বৃদ্ধি হরমোন জিন ক্যাটফিশ, কার্প, লইট্টা ও নাইলোটিকায় স্থানান্তর করে আকার প্রায় শতাংশ বাড়ানো যায়।
উদাহরণ: একটি খামারের গাভী দিনে লিটার দুধ দেয়, এবং ধরো দুধে প্রোটিন আছে প্রতি লিটারে গ্রাম। জিন প্রকৌশলে প্রোটিনের পরিমাণ শতাংশ বাড়ানো গেলে প্রতি লিটারে প্রোটিন হবে গ্রাম, আর দিনে মোট গ্রাম। এখানে সংখ্যাগুলো শুধু হিসাব বোঝানোর জন্য ধরে নেওয়া।
সব প্রয়োগেই আন্তর্জাতিক জীবনিরাপত্তা নির্দেশিকা মানতে হয়, কারণ জিন পরিবর্তিত জীব পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে উল্লিখিত সব প্রয়োগ এখনই খামারে ব্যবহৃত হচ্ছে। গরুর দুধে প্রোটিন বাড়ানোর কাজটি যেমন এখনো গবেষণা পর্যায়ে আছে।
মনে রাখো: পশুর ক্ষেত্রে জিন প্রকৌশল দুধ, মাংস ও পশমের মান বাড়ায় এবং জিন পরিবর্তিত অণুজীব দিয়ে ঔষধ ও টিকা তৈরির পথ খোলে; সবক্ষেত্রে জীবনিরাপত্তা নিয়ম মানতে হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।