পড়ার নোট
ইনসুলিন ও হরমোন উৎপাদনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহার
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো মানুষের প্রয়োজনীয় হরমোন, যেমন ইনসুলিন, বড় পরিমাণে ও সহজে উৎপাদন করা। আগে ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসায় গরু বা শূকরের প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন আহরণ করা হতো। কিন্তু এটি ছিল ব্যয়বহুল এবং কখনো কখনো এলার্জি সৃষ্টি করতো।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে মানুষের ইনসুলিন তৈরির জিনটি ব্যাকটেরিয়া, বিশেষ করে Escherichia coli (ই. কোলি) বা ছত্রাক Saccharomyces cerevisiae (ইস্ট)-এর কোষে প্রবেশ করানো হয়। এই পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট কোষ মানুষের মতো ইনসুলিন তৈরি করতে শুরু করে। এভাবে বড় ট্যাংকে (বায়োরিয়্যাক্টরে) এদের চাষ করে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর ইনসুলিন উৎপাদন করা হয়।
এছাড়াও, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যেমন বৃদ্ধি হরমোন (Growth Hormone), ইন্টারফেরন (যা ক্যান্সার ও হেপাটাইটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়) এবং ইরিথ্রোপয়েটিন (যা রক্তশূন্যতা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়) উৎপাদন করা হয়।
এই প্রযুক্তির সুবিধা হলো:
- হরমোন উৎপাদন খুব দ্রুত ও কম খরচে হয়।
- উৎপাদিত হরমোন মানুষের হরমোনের সম্পূর্ণ অনুরূপ, তাই দেহে এলার্জি বা প্রতিরোধ কম হয়।
- প্রাণী হত্যা করে হরমোন আহরণের প্রয়োজন হয় না, তাই নৈতিক ও পরিবেশগত সমস্যা এড়ানো যায়।
উদাহরণ: ধরো, একটি বায়োরিয়্যাক্টরে জিন পরিবর্তিত ই. কোলি ব্যাকটেরিয়া চাষ করা হচ্ছে। এরা প্রতিদিন ১০০ মিলিগ্রাম ইনসুলিন তৈরি করে। ৭ দিনে মোট উৎপাদন হবে = ৭ × ১০০ = ৭০০ মিলিগ্রাম।
মনে রাখো: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টকে 'জৈব কারখানা' বানিয়ে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন যেমন ইনসুলিন নিরাপদে ও বৃহৎ পরিমাণে উৎপাদন করা যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।