পড়ার নোট
প্রাকৃতিক নির্বাচন হলো এমন প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো পরিবেশে সুবিধাজনক বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীব অন্যদের তুলনায় বেশি সফলভাবে টিকে থাকে ও বংশবিস্তার করে। ফলে তাদের কিছু বংশগত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে বেশি দেখা যায়। এখানে প্রকৃতি সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেয় না; পরিবেশের অবস্থার কারণে জীবগুলোর সাফল্যে পার্থক্য ঘটে।
বাগানের বাদামি মাটিতে সবুজ ও বাদামি বিটল থাকার কথা ভাবো। সবুজ বিটল পাখির চোখে সহজে পড়লে বেশি খাওয়া পড়তে পারে। বাদামি বিটল মাটির সঙ্গে মিশে থাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকা বিটল বংশবিস্তার করলে এবং রঙের বৈশিষ্ট্য বংশগত হলে পরের প্রজন্মে বাদামি বিটলের অনুপাত বাড়তে পারে। বাংলাদেশের বাড়ির বাগান বা উঠানের মাটি কল্পনা করে এই উদাহরণটি বোঝা যায়।
প্রক্রিয়াটির জন্য তিনটি শর্ত একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ:
- বৈচিত্র্য: একই পপুলেশনের সদস্যদের মধ্যে পার্থক্য থাকতে হবে। বিটলের সবুজ ও বাদামি রং সেই পার্থক্য।
- নির্বাচন: পার্থক্যের কারণে বেঁচে থাকা বা বংশবিস্তারের সাফল্য সমান হবে না। কোনো বৈশিষ্ট্য যোগ্য, কোনোটি অযোগ্য এবং কোনোটি সংশ্লিষ্ট পরিবেশে নিরপেক্ষ হতে পারে।
- বংশগতি: অন্তত কিছু বৈশিষ্ট্য বাবা-মা থেকে সন্তানদের মধ্যে যেতে হবে। তা হলেই সফল সদস্যদের বৈশিষ্ট্য পরের প্রজন্মের গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
একটি পপুলেশনের সব জিন ও তাদের অ্যালিলের সমষ্টিকে জিনপুল বলে। নির্বাচনের ফলে বংশবিস্তারে পার্থক্য হলে এক প্রজন্মের জিনপুলে কোনো অ্যালিলের অনুপাত পরের প্রজন্মের অনুপাতের সঙ্গে নাও মিলতে পারে। এই প্রজন্মগত পরিবর্তন জৈব অভিব্যক্তি। নির্বাচন সদস্যদের ওপর কাজ করে, কিন্তু অভিব্যক্তি বিচার করা হয় পুরো পপুলেশনে।
অনেক প্রজন্ম ধরে সুবিধাজনক বংশগত প্রকরণ নির্বাচিত হতে থাকলে নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটতে পারে। তবে প্রতিবার নির্বাচন ঘটলেই নতুন প্রজাতি তৈরি হয় না। নতুন প্রজাতি তৈরি হলে আদি প্রজাতিটি সবসময় হারিয়ে যাবে, এমনও নয়।
সাধারণ ভুল হলো পাখির আক্রমণ থেকে বাঁচতে সবুজ বিটল ইচ্ছা করে বাদামি হয়ে যায় ভাবা। উদাহরণে আগে থেকেই রঙের বৈচিত্র্য আছে; পরিবেশ সেই বৈচিত্র্যের মধ্যে বেঁচে থাকা ও বংশবিস্তারের পার্থক্য তৈরি করছে।
মনে রাখো: বৈচিত্র্য, নির্বাচনের ফলে অসম সাফল্য এবং বংশগতি একসঙ্গে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে অভিব্যক্তি ঘটায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।