পড়ার নোট
সীমিত খাদ্য, আশ্রয় এবং প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য জীবের যে প্রতিযোগিতা ও বাধা অতিক্রমের প্রয়োজন হয়, তাকে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলে। জীব অনেক সন্তান উৎপন্ন করলেও পরিবেশ সবার চাহিদা পূরণ করতে পারে না। তাই শুধু জন্মগ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; খাদ্য পাওয়া, অন্য জীবের আক্রমণ এড়ানো এবং পরিবেশ সহ্য করাও প্রয়োজন।
ডারউইনের ব্যাখ্যায় এই সংগ্রাম তিন ধরনের। ধরন চেনার সময় জীবটি কার সঙ্গে বা কোন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে, তা দেখতে হবে।
- আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম: ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে সংঘটিত সংগ্রাম। যেমন ব্যাঙ পোকা খায়, সাপ ব্যাঙ খায় এবং ময়ূর সাপ ও ব্যাঙ উভয়কেই খেতে পারে। খাদ্যের প্রয়োজনে এখানে বিভিন্ন প্রজাতি খাদ্য ও ভোক্তার সম্পর্কে যুক্ত। যে জীব খাদ্য হচ্ছে, তার জন্য অন্য জীবের আক্রমণ এড়ানো বেঁচে থাকার অংশ।
- অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম: একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য প্রতিযোগিতা। একই প্রজাতির খাদ্যাভ্যাস ও বাসস্থানের চাহিদা কাছাকাছি হওয়ায় সংখ্যা বাড়লে একই সম্পদের ওপর চাপ বাড়ে। কোনো দ্বীপে একই প্রজাতির তৃণভোজী প্রাণী বেড়ে গেলে খাদ্য ও এলাকা নিয়ে প্রতিযোগিতা হতে পারে। সুবিধাপ্রাপ্ত সদস্যরা সম্পদ দখল করলে দুর্বল সদস্যরা খাদ্যের অভাবে মারা যেতে পারে।
- পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত বা প্রচণ্ড শীতের মতো প্রতিকূল অবস্থা সহ্য করার সংগ্রাম। এসব ক্ষেত্রে বাধাটি অন্য কোনো প্রতিযোগী প্রাণী নয়, পরিবেশের অবস্থা। যারা সেই অবস্থা সহ্য করতে পারে না, তাদের মৃত্যু হতে পারে।
বাংলাদেশের একটি পুকুরের কথা ভাবো। বড় মাছের ছোট মাছ খাওয়া ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে হলে আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রামের উদাহরণ। একই প্রজাতির পোনাগুলোর সীমিত খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম। খরায় পুকুরের পানি কমে যাওয়ায় মাছের টিকে থাকার সংকট পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম। একই বাসস্থানে তিন ধরনের সংগ্রামই ঘটতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো সংগ্রাম বলতে শুধু সরাসরি মারামারি বোঝা। খাদ্য না পাওয়া, শিকারির হাত থেকে বাঁচা বা প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করাও এর অন্তর্ভুক্ত। আবার কিছু সদস্য মারা গেলেই পুরো প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে বলা যায় না।
মনে রাখো: সংগ্রামের তিন ক্ষেত্র হলো ভিন্ন প্রজাতি, একই প্রজাতির সদস্য এবং প্রতিকূল পরিবেশ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।