offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১২ · টপিক ১৭

জীবের বাঁচার সংগ্রাম

পড়ার নোট

সীমিত খাদ্য, আশ্রয় এবং প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য জীবের যে প্রতিযোগিতা ও বাধা অতিক্রমের প্রয়োজন হয়, তাকে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলে। জীব অনেক সন্তান উৎপন্ন করলেও পরিবেশ সবার চাহিদা পূরণ করতে পারে না। তাই শুধু জন্মগ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; খাদ্য পাওয়া, অন্য জীবের আক্রমণ এড়ানো এবং পরিবেশ সহ্য করাও প্রয়োজন।

ডারউইনের ব্যাখ্যায় এই সংগ্রাম তিন ধরনের। ধরন চেনার সময় জীবটি কার সঙ্গে বা কোন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে, তা দেখতে হবে।

  • আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম: ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে সংঘটিত সংগ্রাম। যেমন ব্যাঙ পোকা খায়, সাপ ব্যাঙ খায় এবং ময়ূর সাপ ও ব্যাঙ উভয়কেই খেতে পারে। খাদ্যের প্রয়োজনে এখানে বিভিন্ন প্রজাতি খাদ্য ও ভোক্তার সম্পর্কে যুক্ত। যে জীব খাদ্য হচ্ছে, তার জন্য অন্য জীবের আক্রমণ এড়ানো বেঁচে থাকার অংশ।
  • অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম: একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য প্রতিযোগিতা। একই প্রজাতির খাদ্যাভ্যাস ও বাসস্থানের চাহিদা কাছাকাছি হওয়ায় সংখ্যা বাড়লে একই সম্পদের ওপর চাপ বাড়ে। কোনো দ্বীপে একই প্রজাতির তৃণভোজী প্রাণী বেড়ে গেলে খাদ্য ও এলাকা নিয়ে প্রতিযোগিতা হতে পারে। সুবিধাপ্রাপ্ত সদস্যরা সম্পদ দখল করলে দুর্বল সদস্যরা খাদ্যের অভাবে মারা যেতে পারে।
  • পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত বা প্রচণ্ড শীতের মতো প্রতিকূল অবস্থা সহ্য করার সংগ্রাম। এসব ক্ষেত্রে বাধাটি অন্য কোনো প্রতিযোগী প্রাণী নয়, পরিবেশের অবস্থা। যারা সেই অবস্থা সহ্য করতে পারে না, তাদের মৃত্যু হতে পারে।

বাংলাদেশের একটি পুকুরের কথা ভাবো। বড় মাছের ছোট মাছ খাওয়া ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে হলে আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রামের উদাহরণ। একই প্রজাতির পোনাগুলোর সীমিত খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম। খরায় পুকুরের পানি কমে যাওয়ায় মাছের টিকে থাকার সংকট পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম। একই বাসস্থানে তিন ধরনের সংগ্রামই ঘটতে পারে।

সাধারণ ভুল হলো সংগ্রাম বলতে শুধু সরাসরি মারামারি বোঝা। খাদ্য না পাওয়া, শিকারির হাত থেকে বাঁচা বা প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করাও এর অন্তর্ভুক্ত। আবার কিছু সদস্য মারা গেলেই পুরো প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে বলা যায় না।

মনে রাখো: সংগ্রামের তিন ক্ষেত্র হলো ভিন্ন প্রজাতি, একই প্রজাতির সদস্য এবং প্রতিকূল পরিবেশ।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • সবুজ ধানের ক্ষেতে প্রাকৃতিক নির্বাচন: ঘাসফড়িংয়ের অভিযোজনচালিয়ে দেখো

    ময়মনসিংহের একটি সবুজ আমন ধানের ক্ষেতে ঘাসফড়িংয়ের একটি দল বাস করে। শুরুতে প্রকরণ হিসেবে দলের মাত্র ২০% (০.২০) ঘাসফড়িং ছিল সবুজ এবং বাকি ৮০% (০.৮০) ছিল বাদামি। সবুজ ধানের পাতায় সবুজ রঙের ফড়িং মিশে থাকে (ছদ্মবেশ বা ক্যামোফ্লেজ), তাই ফিঙে ও শালিক পাখি সহজে তাদের দেখতে পায় না। ফলে প্রতি প্রজন্মে সবুজ ঘাসফড়িংয়ের বেঁচে থাকার হার ০.৮ (৮০%)। অন্যদিকে বাদামি ঘাসফড়িং সবুজ পাতার ওপর সহজে চোখে পড়ে বলে প্রতি প্রজন্মে তাদের বেঁচে থাকার হার মাত্র ০.৪ (৪০%)। অনুকূল প্রকরণের এই বেঁচে থাকার সুবিধার কারণে ৪ প্রজন্ম পর ঘাসফড়িংয়ের দলটিতে সবুজ ঘাসফড়িংয়ের প্রত্যাশিত অনুপাত কত হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. যশোরের এক কৃষক তাঁর বেগুন ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা দমনে একটি নির্দিষ্ট কীটনাশক প্রয়োগ করলেন। প্রথম বছর প্রায় সব পোকা মারা গেলেও তিন বছর নিয়মিত ব্যবহারের পর দেখা গেল একই মাত্রার কীটনাশক প্রয়োগ সত্ত্বেও পোকার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে এই ঘটনার সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত কারণ কোনটি?

    1. ক

      কীটনাশকের সংস্পর্শে এসে প্রতিটি পোকা নিজের জীবদ্দশায় প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে তা সরাসরি বংশধরে সঞ্চারিত করেছে

    2. খ

      বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছার কারণে পোকাগুলোর দেহে নতুন ধরনের কীটনাশক প্রতিরোধী জিনের তাৎক্ষণিক সৃষ্টি হয়েছে

    3. গ

      আদি পোকার দলের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই কিছু পোকার জিনগত প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল; কীটনাশক সংবেদনশীলদের নির্মূল করায় প্রতিরোধী পোকারা বেঁচে থেকে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে জিনটি ছড়িয়ে দিয়েছে

    4. ঘ

      কীটনাশকের বিষাক্ত রাসায়নিক সহ্য করতে করতে পোকাগুলোর দেহের শারীরবৃত্তীয় বিপাকীয় শক্তি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) আদি পোকার দলের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই কিছু পোকার জিনগত প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল; কীটনাশক সংবেদনশীলদের নির্মূল করায় প্রতিরোধী পোকারা বেঁচে থেকে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে জিনটি ছড়িয়ে দিয়েছে

    1. ডারউইনের বিবর্তন মতবাদ অনুসারে যে কোনো জীবগোষ্ঠীতে প্রাকৃতিকভাবেই বৈশিষ্ট্যের প্রকরণ বা জিনগত ভিন্নতা (variation) আগে থেকেই বিদ্যমান থাকে।
    2. কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পরিবেশগত নির্বাচনের চাপ সৃষ্টি হয়; সংবেদনশীল পোকারা মারা যায় কিন্তু প্রতিরোধী প্রকরণযুক্ত অল্পসংখ্যক পোকা বেঁচে থাকে (যোগ্যতমের উদ্বর্তন)।
    3. প্রকৃতি কর্তৃক নির্বাচিত এই প্রতিরোধী পোকারা অধিক হারে প্রজনন করে পরবর্তী প্রজন্মে প্রতিরোধী অ্যালিলের অনুপাত বৃদ্ধি করে, ফলে পুরো দলটি কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো