পড়ার নোট
অত্যধিক প্রজননের প্রবণতা হলো জীবের এমন স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, যার ফলে পরিবেশে শেষ পর্যন্ত যত সদস্য টিকে থাকতে পারে, তার তুলনায় অনেক বেশি সন্তান উৎপন্ন হয়। ডারউইন লক্ষ করেন, অনুকূল সুযোগ থাকলে জীব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে। পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যরাও প্রজনন করলে সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।
এই সম্ভাব্য বৃদ্ধিকে জ্যামিতিক বৃদ্ধি দিয়ে বোঝানো যায়। এখানে প্রতি ধাপে একই সংখ্যক সদস্য যোগ হওয়ার পরিবর্তে আগের সংখ্যাটি একটি নির্দিষ্ট গুণিতকে বাড়ে। তবে এটি বৃদ্ধির সম্ভাবনা বোঝায়; প্রকৃতিতে সব সন্তান বাঁচে না বলে জীবের সংখ্যা সীমাহীনভাবে বাড়তে থাকে না।
একটি কাল্পনিক হিসাব ধরা যাক। শুরুতে ৪টি জীব আছে এবং প্রতি প্রজন্মে সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে বলে ধরি। এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রাণীর প্রকৃত প্রজননহার নয়।
- প্রথম প্রজন্মে সংখ্যা হবে ।
- দ্বিতীয় প্রজন্মে হবে ।
- তৃতীয় প্রজন্মে হবে ।
এখানে ৪, ৮, ১৬ ও ৩২ হলো জীবের সংখ্যা এবং ২ হলো বৃদ্ধির গুণক; এগুলো গণনা ও এককবিহীন অনুপাত, কোনো SI একক নেই। হিসাবটি দেখায়, একই অনুপাতে বৃদ্ধি চললে অল্প কয়েক প্রজন্মেই সংখ্যা অনেক বাড়ে।
বাংলাদেশের পুকুরে মাছের পোনা বা বর্ষায় ব্যাঙের ডিম দেখলে বিষয়টি সহজে বোঝা যায়। অনেক ডিম বা পোনা থাকলেও সবগুলো পূর্ণবয়স্ক হয়ে বংশবিস্তার করে না। কিছু অন্য জীবের খাদ্য হয়, কিছু খাদ্যের অভাব বা প্রতিকূল পরিবেশে মারা যায়। তাই জন্মানো সদস্যসংখ্যা ও টিকে থাকা সদস্যসংখ্যা এক নয়।
পৃথিবীর আয়তন সীমিত। ফলে জীবের খাদ্য, বাসস্থান ও আশ্রয়ের সুযোগও সীমিত। একটি পুকুরে মাছের সংখ্যা বাড়লেই পুকুরের আয়তন এবং খাদ্য একই অনুপাতে বেড়ে যায় না। বেশি সদস্যকে একই সীমিত সম্পদ ব্যবহার করতে হয় বলে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এখান থেকেই অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামের প্রয়োজন বোঝা যায়।
সাধারণ ভুল হলো অত্যধিক প্রজনন মানেই প্রতিটি প্রজন্মে বাস্তব সংখ্যা নির্দিষ্ট হারে বাড়বেই ধরে নেওয়া। এটি সহজাত প্রজননক্ষমতার কথা; বাস্তব ফল খাদ্য, আশ্রয় ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে।
মনে রাখো: জীবের প্রজননের সম্ভাবনা বেশি হলেও খাদ্য ও আশ্রয় সীমিত; তাই সব সন্তান টিকে থাকতে পারে না।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।