পড়ার নোট
একই প্রজাতির সদস্যদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যকে প্রকরণ, ভিন্নতা বা বৈচিত্র্য বলে। একই প্রজাতির জীবের অনেক মিল থাকলেও সব সদস্য হুবহু একরকম হয় না। পার্থক্যটি কখনো সহজে চোখে পড়ে, আবার কখনো খুব সামান্য হয়। এমনকি একই প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার সদস্যদের মধ্যেও পার্থক্য থাকতে পারে।
বাংলাদেশের কোনো গ্রামের গরুগুলো লক্ষ করলে গায়ের রং, আকার ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য দেখা যায়। গ্রামের সব কাঁঠালগাছও একরকম নয়। একই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সবাই মানুষ হলেও তাদের নানা বৈশিষ্ট্যে অমিল আছে। এসব ক্ষেত্রে তুলনাটি একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে হচ্ছে। গরুর সঙ্গে কাঁঠালগাছের পার্থক্যকে এই অর্থে প্রকরণ বলা হবে না।
প্রকরণ প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রথম শর্ত। কারণ সব সদস্যের বৈশিষ্ট্য এক হলে পরিবেশ কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত সদস্যকে অন্যদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিতে পারত না। কিন্তু পার্থক্য থাকলে কোনো পরিবেশে কিছু সদস্য বেশি সফলভাবে বেঁচে থাকে ও বংশবিস্তার করে। তাই প্রকরণ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্য তৈরি করে।
পরিবেশে টিকে থাকা ও বংশবিস্তারের সঙ্গে সম্পর্ক অনুযায়ী বৈশিষ্ট্যগুলোকে মোটামুটি তিন ভাগে বোঝা যায়:
- যোগ্য বৈশিষ্ট্য: পরিবেশের অবস্থা সহ্য করে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
- অযোগ্য বৈশিষ্ট্য: পরিবেশ সহ্য করতে না পারা, মৃত্যু বা বংশবৃদ্ধি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- নিরপেক্ষ বৈশিষ্ট্য: সংশ্লিষ্ট পরিবেশে টিকে থাকার সুবিধা বা অসুবিধার সঙ্গে সম্পর্কহীন।
ধরা যাক, একটি বাগানের মাটিতে সবুজ ও বাদামি বিটল আছে। বাদামি বিটল মাটির সঙ্গে মিশে থাকায় পাখির চোখে কম পড়লে সেই পরিবেশে বাদামি রং সুবিধাজনক প্রকরণ। এখানে রঙের পার্থক্য এবং সেই পার্থক্যের ফল আলাদা করে বুঝতে হবে। শুধু আলাদা রং থাকলেই সব রং সমান সুবিধা দেয় না।
কিছু প্রকরণ বংশগতির মাধ্যমে পরের প্রজন্মে যায়। সুবিধাজনক বংশগত প্রকরণযুক্ত জীব বেশি বংশবিস্তার করলে পরবর্তী প্রজন্মে সেই বৈশিষ্ট্য বেশি দেখা যেতে পারে। এভাবেই প্রকরণ অভিব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়।
সাধারণ ভুল হলো সব প্রকরণকে উপকারী ভাবা, অথবা কোনো পার্থক্য দেখেই নতুন প্রজাতি হয়েছে বলা। প্রকরণ নিরপেক্ষ বা অসুবিধাজনকও হতে পারে; একই প্রজাতির মধ্যেই তা থাকে।
মনে রাখো: একই প্রজাতির সদস্যদের পার্থক্যই প্রকরণ; পরিবেশ নির্ধারণ করে কোন পার্থক্য টিকে থাকতে সুবিধা দেবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।