পড়ার নোট
পৃথিবীতে জীবের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত অনুমান এরকম।
আদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড, জলীয় বাষ্প, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ছিল, কিন্তু অক্সিজেন ছিল না। এরপর ঘটনাগুলো ক্রমে এভাবে ঘটে:
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বজ্রপাত ও অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে এই যৌগগুলো মিলে অ্যামাইনো এসিড ও নিউক্লিক এসিড তৈরি করে।
- এ দুটি মিলে নিউক্লিওপ্রোটিন অণু তৈরি হয়। এই অণু ক্রমে নিজের প্রতিরূপ গঠনের (replication) ক্ষমতা অর্জন করে এবং জীবনের সূত্রপাত ঘটায়।
- নিউক্লিওপ্রোটিন থেকে প্রোটোভাইরাস, তা থেকে ভাইরাস সৃষ্টি হয়। ভাইরাস জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা নির্দেশ করে।
- এরপর সম্ভবত ব্যাকটেরিয়া এবং আরও পরে প্রোটোজোয়ার উদ্ভব হয়। ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লিয়াস আদি প্রকৃতির, তাই একে আদি কোষ বলা হয়। প্রোটোজোয়ার দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস দেখা যায়।
- কিছু এককোষী জীবের দেহে ক্লোরোফিল সৃষ্টি হলে খাদ্য সংশ্লেষ শুরু হয় এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন তৈরি হতে থাকে। ফলে শ্বসনকারী জীবের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
- এককোষী থেকে বহুকোষী জীবের উদ্ভব হয়, এবং এরপর জটিল জীবের অভিব্যক্তি শুরু হয়।
জৈব অভিব্যক্তি সরলরেখায় ঘটে না। অসংখ্য জটিল শাখা-প্রশাখায় একসাথে পরিবর্তন ঘটে চলে। পৃথিবীর উৎপত্তি এবং তার ধারাবাহিকতায় জীবনের উৎপত্তির এই ঘটনাপ্রবাহকে রাসায়নিক অভিব্যক্তি বলে।
মনে রাখো: আদি পৃথিবীর অক্সিজেনহীন বায়ুমণ্ডলের গ্যাস থেকে প্রথমে অ্যামাইনো এসিড ও নিউক্লিক এসিড, তারপর নিউক্লিওপ্রোটিন, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও এককোষী জীব, শেষে বহুকোষী জীব তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।