পড়ার নোট
জৈব অভিব্যক্তি, বিবর্তন বা ইভোলিউশন হলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জীবসমষ্টির বংশগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন। দীর্ঘকাল ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় পূর্বপুরুষের জীব থেকে বর্তমানের বৈচিত্র্যময় জীবজগৎ গড়ে উঠেছে। আধুনিক অর্থে নির্দিষ্ট এলাকার পপুলেশনে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অ্যালিল ফ্রিকোয়েন্সি, অর্থাৎ কোনো জিনের বিভিন্ন অ্যালিলের আপেক্ষিক অনুপাত বদলানোই অভিব্যক্তি।
একই এলাকার একই প্রজাতির জীবসমষ্টিকে পপুলেশন বলা হয়। সুন্দরবনের বাঘ নিয়ে ধারণাটি বোঝা যায়। এক প্রজন্মের বাঘগুলোর কোনো জিনের অ্যালিলের অনুপাতের সঙ্গে পরের প্রজন্মের অনুপাত তুলনা করতে হবে। অনুপাত বদলালে পপুলেশনে অভিব্যক্তি ঘটেছে। শুধু বাঘের মোট সংখ্যা বেড়েছে বা একটি বাঘ বড় হয়েছে—এ তথ্য দিয়ে অভিব্যক্তি প্রমাণ করা যায় না।
একটি কাল্পনিক হিসাব করি; সংখ্যাগুলো বাস্তব বাঘের তথ্য নয়। একটি নির্দিষ্ট অ্যালিলের প্রতীক, কোনো রাশি নয়; এর SI একক নেই।
- প্রথম প্রজন্মে সংশ্লিষ্ট জিনের মোট ২০০টি অ্যালিলের মধ্যে ৬০টি হলে এর অনুপাত ।
- পরের প্রজন্মে মোট ২০০টির মধ্যে ৮০টি হলে অনুপাত ।
- অনুপাত ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ হয়েছে। এই প্রজন্মগত পরিবর্তন অভিব্যক্তির উদাহরণ। অ্যালিলের সংখ্যা গণনামাত্র এবং অনুপাত এককবিহীন।
মাইক্রোইভোলিউশন হলো প্রজন্মে প্রজন্মে অ্যালিল ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন। ম্যাক্রোইভোলিউশন হলো আদি প্রজাতি থেকে নতুন প্রজাতির উদ্ভব। অনেক প্রজন্মের ক্ষুদ্র পরিবর্তন মিলিয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে, যেমন ক্ষুদ্র বালুকণা জমে বালুকাবেলা গড়ে ওঠে।
জীব অপরিবর্তনীয়—এ ধারণা বদলাতে জেনোফেনের জীবাশ্ম পর্যবেক্ষণ ভূমিকা রাখে। আরিস্টটলও পূর্বপুরুষ থেকে জীবের পরিবর্তনের ধারণা আলোচনা করেন। হার্বার্ট স্পেনসার ইভোলিউশন শব্দটি ব্যবহার করেন; ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেন।
প্রাকৃতিক নির্বাচন ছাড়াও বিশেষ পরিস্থিতিতে মিউটেশন বা পরিযানের ফলে অ্যালিলের অনুপাত বদলাতে পারে। এগুলো অ-ডারউইনীয় জৈব অভিব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ ভুল হলো একটি জীব হঠাৎ অন্য জীবে পরিণত হওয়াকে বিবর্তন ভাবা। এখানে পরিবর্তন বিচার করা হয় পুরো পপুলেশনে, একাধিক প্রজন্মের মধ্যে।
মনে রাখো: অভিব্যক্তি পপুলেশনের প্রজন্মগত বংশগত পরিবর্তন; নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হলেই শুধু অভিব্যক্তি হয় না।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।