পড়ার নোট
থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তরোগ, যাতে ত্রুটিপূর্ণ লোহিত রক্তকোষ তৈরি হয়ে সহজে ভেঙে যায়। ফলে রোগী রক্তশূন্যতা, অর্থাৎ রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক পরিমাণ কমে যাওয়ার সমস্যায় ভোগে। বাংলাদেশে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বংশগত স্বাস্থ্যসমস্যা। পরিবারের কাউকে নিয়মিত রক্ত নিতে দেখলে বোঝা যায়, এ রোগের প্রভাব শুধু সাময়িক দুর্বলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
লোহিত রক্তকোষের হিমোগ্লোবিনের আলফা ও বিটা প্রোটিন অংশ তৈরির জিন অনুপস্থিত বা ত্রুটিপূর্ণ হলে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়। আলফা অংশের সমস্যায় আলফা থ্যালাসেমিয়া এবং বিটা অংশের সমস্যায় বিটা থ্যালাসেমিয়া হয়। বিটা থ্যালাসেমিয়ার আরেক নাম কুলির থ্যালাসেমিয়া। আলফা ধরন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, চীন ও আফ্রিকায় এবং বিটা ধরন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়; অন্য অঞ্চলেও রোগটি আছে।
এটি অটোজোমীয় প্রচ্ছন্ন রোগ। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট জিন অটোজোমে থাকে এবং প্রচ্ছন্ন রোগের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাবা-মা উভয়ের কাছ থেকে ত্রুটিপূর্ণ অ্যালিল আসতে হয়। তাই এটি শুধু ছেলেদের রোগ নয়। নিকট রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের বিয়েতে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
সরল বংশধারায় উভয় অভিভাবকের কাছ থেকে রোগের অ্যালিল পাওয়াকে থ্যালাসেমিয়া মেজর এবং একজনের কাছ থেকে পাওয়াকে থ্যালাসেমিয়া মাইনর দিয়ে বোঝানো হয়। মাইনর ব্যক্তি সাধারণত লক্ষণহীন বাহক; বাহ্যিকভাবে সুস্থ হলেও অ্যালিল সন্তানে দিতে পারেন।
দুজন বাহকের সন্তানের সম্ভাবনা ধাপে ধাপে দেখা যাক। স্বাভাবিক এবং রোগের প্রচ্ছন্ন অ্যালিল; এগুলো পরিচয়সূচক, SI একক নেই।
- বাবা-মা উভয়ের বিন্যাস ; প্রত্যেকে বা দিতে পারেন।
- সম্ভাব্য মিলন , , , ।
- ফলে আক্রান্তের সম্ভাবনা , বাহকের এবং বাহক নয় এমন সুস্থ সন্তানের । এগুলো এককবিহীন।
- অনুশীলনের জন্য এমন ৬০টি জন্ম ধরলে আক্রান্তের প্রত্যাশিত সংখ্যা জন; বাস্তবে সংখ্যাটি আলাদা হতে পারে।
তীব্র ক্ষেত্রে গর্ভেই মৃত্যু ঘটতে পারে; মেজর শিশুর প্রথম বছরেই জটিল রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসায় নির্দিষ্ট বিরতিতে রক্ত ও নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত লোহা জমে যকৃৎসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ ভুল হলো সব রক্তশূন্যতাকে লৌহের অভাব ধরে নেওয়া; থ্যালাসেমিয়ায় নিজে থেকে লৌহসমৃদ্ধ ওষুধ নেওয়া ঠিক নয়। খাদ্য ও চিকিৎসা চিকিৎসকের নির্দেশনাধীন হওয়া দরকার।
মনে রাখো: দুজন বাহকের প্রতিটি সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা এক-চতুর্থাংশ; বাহক ও রোগী এক নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।