পড়ার নোট
বর্ণান্ধতা হলো এমন অবস্থা, যেখানে কোনো ব্যক্তি কিছু রং স্বাভাবিকভাবে চিনতে বা আলাদা করতে পারেন না। চোখে রং শনাক্ত করার জন্য বিশেষ রঞ্জক পদার্থ থাকে। এসব রঞ্জকের ঘাটতি বা ত্রুটি হলে রং চেনায় সমস্যা হয়। সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা হলো লাল ও সবুজ রং আলাদা করতে অসুবিধা। অন্য রঞ্জকের সমস্যা থাকলে নীল ও হলুদ রং চেনাতেও অসুবিধা হতে পারে। বর্ণান্ধতা মানেই সবকিছু সাদা-কালো দেখা নয়।
বাংলাদেশের শ্রেণিকক্ষে মানচিত্রে লাল ও সবুজ রং দিয়ে দুটি অঞ্চল দেখানো হলে কোনো বর্ণান্ধ শিক্ষার্থী অঞ্চল দুটি আলাদা করতে সমস্যায় পড়তে পারে। বস্তু বা লেখা দেখতে পেলেও শুধু রঙের পার্থক্য তার কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে।
বংশগত লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা একটি লিঙ্গ-সংলগ্ন রোগ; এর সংশ্লিষ্ট ত্রুটিপূর্ণ জিন X ক্রোমোজোমে থাকে। ছেলেদের একটি X ও একটি Y ক্রোমোজোম থাকে। একমাত্র X-এ ওই জিন থাকলেই রোগ প্রকাশ পেতে পারে। মেয়েদের দুটি X থাকে; একটিতে ত্রুটিপূর্ণ জিন ও অন্যটিতে স্বাভাবিক জিন থাকলে সাধারণত রোগ প্রকাশ পায় না। এমন ব্যক্তিকে বাহক বলে। তাই ছেলেদের মধ্যে এই বর্ণান্ধতা বেশি দেখা যায়।
বংশধারা বোঝার জন্য স্বাভাবিক এবং ত্রুটিপূর্ণ জিনবাহী X ক্রোমোজোম বোঝাক; হলো Y ক্রোমোজোম। এগুলো পরিচয়সূচক প্রতীক, SI একক নেই।
- বাহক মায়ের বিন্যাস এবং আক্রান্ত বাবার বিন্যাস ।
- মায়ের ডিম্বাণুতে অথবা এবং বাবার শুক্রাণুতে অথবা থাকে।
- মিলনে চারটি সমসম্ভাব্য বিন্যাস হয়: , , ও । এগুলো যথাক্রমে বাহক কন্যা, আক্রান্ত কন্যা, স্বাভাবিক পুত্র ও আক্রান্ত পুত্র।
- প্রতিটির সম্ভাবনা । সম্ভাবনা এককবিহীন। অনুশীলনের জন্য এমন ৮০টি জন্ম ধরলে আক্রান্ত কন্যার প্রত্যাশিত সংখ্যা জন; এটি নিশ্চিত ফল নয়।
সাধারণ ভুল হলো চার সন্তান হলে প্রতিটি ধরনের একজন হবেই ভাবা। প্রতিবার জন্মে সম্ভাবনাটি নতুনভাবে প্রযোজ্য। বংশগতি ছাড়াও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মতো কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রং চেনার সমস্যা হতে পারে। এমন সমস্যায় নিবন্ধিত চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
মনে রাখো: বংশগত লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা X-সংলগ্ন হওয়ায় ছেলেদের বেশি হয়; বংশধারার অনুপাত সম্ভাবনা বোঝায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।