পড়ার নোট
বর্তমানে এইডস পৃথিবীর একটি পরিচিত মরণব্যাধি। রোগটি 1981 সালে শনাক্ত হয়। Acquired Immune Deficiency Syndrome এর প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে এর নাম এইডস। HIV (Human Immunodeficiency Virus) নামের ভাইরাসের আক্রমণে মানবদেহে এ রোগ হয়।
বিস্তার
UNAIDS এর 2023 সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে 3 কোটি 99 লক্ষের (39.9 মিলিয়ন) বেশি মানুষ এইডসে আক্রান্ত, যাদের প্রায় 53% নারী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে রোগটি প্রায় 164টি দেশে ছড়িয়েছে।
কীভাবে সংক্রমিত হয়
একজন সুস্থ মানুষ নিচের উপায়ে আক্রান্ত হতে পারে:
- আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক।
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত সুস্থ ব্যক্তির দেহে সঞ্চালন; দুর্ঘটনা, প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, রক্তস্বল্পতা, থ্যালাসেমিয়া বা ক্যান্সারের কারণে রক্ত নিতে হলে এ ঝুঁকি থাকে।
- আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে সন্তানে, যেমন বুকের দুধের মাধ্যমে।
- আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুচ, সিরিঞ্জ, দাঁতের ও অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ব্যবহার; এমনকি সেলুনে একই ব্লেড ব্যবহার করলেও।
- আক্রান্ত ব্যক্তির অঙ্গ বা টিস্যু অন্যের দেহে প্রতিস্থাপন।
লক্ষণ
জীবাণু দেহে ঢোকার প্রায় 6 মাস পর লক্ষণ দেখা দেয়, তখন তা খুব মৃদু এবং কিছুদিনে মিলিয়ে যায়। এরপর কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর রোগী আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ থাকে, কিন্তু দেহে ভাইরাস বাড়তে থাকে; তখন সে যে বাহক তা বোঝা কঠিন। ভাইরাস যথেষ্ট বাড়লে হঠাৎ রোগ মারাত্মক রূপে ফিরে আসে। প্রধান লক্ষণ:
- দ্রুত ওজন কমা।
- এক মাসের বেশি একটানা জ্বর বা জ্বর জ্বর ভাব।
- এক মাস বা বেশি সময় ধরে পাতলা পায়খানা।
- অনেক দিন ধরে শুকনো কাশি।
- ঘাড় ও বগলে ব্যথা, মুখমণ্ডল খসখসে হওয়া।
- মুখমণ্ডল, চোখের পাতা, নাক হঠাৎ ফুলে যাওয়া, যা সহজে কমে না।
- সারা দেহে চুলকানি।
উদাহরণ: 39.9 মিলিয়ন আক্রান্তের 53% নারী হলে নারী আক্রান্ত প্রায় মিলিয়ন, অর্থাৎ প্রায় 2 কোটি 11 লক্ষ।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে কাউকে দেখে সুস্থ মনে হলে তার HIV নেই। দীর্ঘ সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই একজন ব্যক্তি ভাইরাস বহন করতে পারে।
মনে রাখো: এইডস HIV ভাইরাসের কারণে হয় এবং আক্রান্তের রক্ত, অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, আক্রান্ত মা থেকে সন্তান, দূষিত সুচ-ব্লেড ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ছড়ায়; লক্ষণ প্রকাশ পেতে অনেক সময় লাগে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।