offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১১ · টপিক ১১

মানব ভ্রুণের বিকাশ

পড়ার নোট

নিষেকের পর জাইগোট থেকে ধাপে ধাপে মাতৃগর্ভে ভ্রূণ গড়ে ওঠে।

ধাপগুলো

  1. ক্লিভেজ: নিষেকের পরপরই জাইগোটে কোষ বিভাজন শুরু হয়। নিষিক্ত ডিম্বাণু ধীরে ধীরে ডিম্বনালি বেয়ে জরায়ুর দিকে যায়।
  2. ব্লাস্টোসিস্ট: ক্লিভেজের শেষ পর্যায়ে বর্ধনশীল ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছায়; এ অবস্থার কোষপিণ্ডকে ব্লাস্টোসিস্ট বলে।
  3. সংস্থাপন: পরবর্তী বিকাশের জন্য ব্লাস্টোসিস্ট জরায়ুর ভেতরের প্রাচীরে প্রোথিত হয়; একে সংস্থাপন বা ইমপ্লান্টেশন বলে। ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4–5 দিনের মধ্যে এটি সম্পন্ন হয়।
  4. গর্ভাবস্থা: সংস্থাপন থেকে সন্তান জন্ম পর্যন্ত সময় গর্ভাবস্থা; এ সময় মাসিক হয় না। ভ্রূণ জরায়ুতে 38–40 সপ্তাহ ধরে বড় হয়।

অমরা

যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে জরায়ুর ভ্রূণ মায়ের টিস্যুর সাথে যুক্ত থাকে, তাকে অমরা বলে। ভ্রূণের কিছু কোষ ও জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলে ডিম্বাকার, রক্তনালিসমৃদ্ধ অমরা তৈরি করে; নিষেকের 12 সপ্তাহের মধ্যে এটি গঠিত হয়। এটি একটি অস্থায়ী অঙ্গ, প্রসবের সময় দেহ থেকে বের হয়ে যায়। অমরার কাজ:

  • মায়ের রক্ত থেকে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি ও খনিজ লবণ ভ্রূণে পাঠায়।
  • ফুসফুসের মতো: মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন নেয় এবং ভ্রূণের কার্বন ডাই-অক্সাইড মায়ের রক্তে দেয়।
  • বৃক্কের মতো: ভ্রূণের বিপাকীয় বর্জ্য মায়ের রক্তে পাঠিয়ে অপসারণ করে।
  • ভ্রূণ রক্ষা, স্বাভাবিক গঠন, মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন ও প্রসব সহজ করার হরমোন তৈরি করে।

অমরা আম্বিলিক্যাল কর্ড বা নাড়ির মাধ্যমে ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে; এই নালি দিয়েই মা ও ভ্রূণের মধ্যে পদার্থের বিনিময় হয়।

ভ্রূণ আবরণী

ভ্রূণের চারদিকে কয়েকটি ঝিল্লি বা ভ্রূণ আবরণী থাকে, যা ভ্রূণকে রক্ষা করে এবং পুষ্টি, গ্যাসীয় আদান-প্রদান ও বর্জ্য অপসারণে সাহায্য করে। প্রসবের শেষ পর্যায়ে আবরণী ফেটে ভেতরের তরল বের হয় এবং সন্তান জন্ম নেয়।

উদাহরণ: গর্ভাবস্থা গড়ে 40 সপ্তাহ হলে তা কত দিন? 40×7=28040 \times 7 = 280 দিন, প্রায় 9 মাস। 38 সপ্তাহ হলে 38×7=26638 \times 7 = 266 দিন।

মনে রাখো: জাইগোট ক্লিভেজে ব্লাস্টোসিস্ট হয়ে জরায়ুর প্রাচীরে সংস্থাপিত হয়; অমরা ও আম্বিলিক্যাল কর্ডের মাধ্যমে ভ্রূণ পুষ্টি ও অক্সিজেন পায় এবং 38–40 সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মানবদেহে জরায়ুর ভেতরে ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য অমরা (placenta) গঠিত হয়। অমরা সম্পর্কিত শারীরতাত্ত্বিক ক্রিয়াকলাপের ক্ষেত্রে নিচের কোন ব্যাখ্যাটি যথার্থ?

    1. ক

      মাতা ও ভ্রূণের রক্তনালিকা সরাসরি উন্মুক্ত হয়ে পরস্পরের সাথে মিশে যায় যাতে পুষ্টি উপাদান ও রক্তকোষ সরাসরি স্থানান্তরিত হতে পারে

    2. খ

      ব্যাপন ও সক্রিয় শোষণ পদ্ধতিতে পুষ্টি ও গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে, তবে সূক্ষ্ম পর্দার ব্যবধান থাকায় মা ও ভ্রূণের রক্ত সরাসরি মিশ্রিত হয় না

    3. গ

      অমরা কেবল রেচন বর্জ্য অপসারণ করে, তবে গর্ভাবস্থা বজায় রাখার মতো কোনো হরমোন ক্ষরণে অংশ নেয় না

    4. ঘ

      ভ্রূণের রক্ত সঞ্চালন ও হৃদস্পন্দন সরাসরি মাতৃদেহের হৃদপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণ দ্বারা পরিচালিত হয়

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ব্যাপন ও সক্রিয় শোষণ পদ্ধতিতে পুষ্টি ও গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে, তবে সূক্ষ্ম পর্দার ব্যবধান থাকায় মা ও ভ্রূণের রক্ত সরাসরি মিশ্রিত হয় না

    1. অমরা (Placenta) হলো একটি বিশেষ অস্থায়ী জৈবিক অঙ্গ যা ভ্রূণের রক্তজালিকা ও জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামের রক্তবাহী নালিকার সংযোগস্থলে গড়ে ওঠে। এখানে একটি সূক্ষ্ম রক্ত অন্তরায় (placental barrier) সার্বক্ষণিকভাবে বজায় থাকে।
    2. অমরার এই সূক্ষ্ম পর্দার মধ্য দিয়ে ব্যাপন ও পরিবহন প্রক্রিয়ায় মা থেকে ভ্রূণে অক্সিজেন ও খাদ্যসার প্রবেশ করে এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও রেচন বর্জ্য মাতৃরক্তে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু মা ও ভ্রূণের রক্তকোষ কখনো সরাসরি মিশে যায় না, যা রক্তগ্রুপের অমিলজনিত প্রতিক্রিয়া ও অনাক্রম্যতা রক্ষা করে।
  2. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে জন্ম নেওয়া একটি সুস্থ নবজাতকের দৈহিক ভর পরিমাপ করে ৩.০ kg পাওয়া গেল। চিকিৎসা শারীরবিদ্যা ও পাঠ্যপুস্তকের তথ্য অনুসারে, গর্ভাবস্থার শেষে জরায়ুতে ভ্রূণকে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহকারী পূর্ণাঙ্গ অমরা বা গর্ভফুলের (placenta) ভর স্বাভাবিকভাবে নবজাতকের মোট দৈহিক ভরের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ (১৬\frac{১}{৬} অংশ) হয়। সূত্র: অমরার ভর = নবজাতকের ভর ÷ ৬। ওই নবজাতকটির অমরার ভর কত কিলোগ্রাম (kg)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ০.৫ kg

    1. নবজাতকের মোট দৈহিক ভর Mbaby=3.0 kgM_{\text{baby}} = 3.0\text{ kg} এবং নবজাতকের ভরের সাথে অমরার ভর অনুপাত = 16\frac{1}{6}।
    Mbaby=3.0 kg,Ratio=16M_{\text{baby}} = 3.0\text{ kg}, \quad \text{Ratio} = \frac{1}{6}
    1. নবজাতকের অমরার আনুমানিক ভর Mplacenta=3.0 kg6=0.5 kgM_{\text{placenta}} = \frac{3.0\text{ kg}}{6} = 0.5\text{ kg}।
    Mplacenta=3.06=0.5 kgM_{\text{placenta}} = \frac{3.0}{6} = 0.5\text{ kg}
  3. জরায়ুর প্রাচীরে সফলভাবে প্রোথিত (ইমপ্লান্টেশন) হওয়ার জন্য ভ্রূণটিকে কোন দশায় থাকতে হবে এবং নিষেকের কত দিন পর স্বাভাবিকভাবে এ ঘটনা ঘটে?

    1. ক

      জাইগোট দশা — নিষেকের ১–২ দিন পর

    2. খ

      নিরেট মরুলা দশা — নিষেকের ৩–৪ দিন পর

    3. গ

      দ্বিস্তরী গ্যাস্ট্রুলা দশা — নিষেকের ১২–১৪ দিন পর

    4. ঘ

      ফাঁপা ব্লাস্টোসিস্ট দশা — নিষেকের ৬–৭ দিন পর

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) ফাঁপা ব্লাস্টোসিস্ট দশা — নিষেকের ৬–৭ দিন পর

    1. নিষেকের পর জাইগোট ক্লিভেজ বিভাজনের মাধ্যমে প্রথমে নিরেট বলের মতো মরুলা (morula) এবং পরবর্তীতে একক স্তরে সজ্জিত ফাঁপা গোলকাকৃতি ব্লাস্টোসিস্ট (blastocyst) দশায় পরিণত হয়।
    2. এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তক অনুসারে, নিষেকের প্রায় ৬–৭ দিন পর (প্রায় এক সপ্তাহ পর) ভ্রূণটি ব্লাস্টোসিস্ট দশায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে এসে স্থায়ীভাবে সংলগ্ন বা প্রোথিত হয়, যাকে ইমপ্লান্টেশন (implantation) বলে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো