পড়ার নোট
নিষেকের পর জাইগোট থেকে ধাপে ধাপে মাতৃগর্ভে ভ্রূণ গড়ে ওঠে।
ধাপগুলো
- ক্লিভেজ: নিষেকের পরপরই জাইগোটে কোষ বিভাজন শুরু হয়। নিষিক্ত ডিম্বাণু ধীরে ধীরে ডিম্বনালি বেয়ে জরায়ুর দিকে যায়।
- ব্লাস্টোসিস্ট: ক্লিভেজের শেষ পর্যায়ে বর্ধনশীল ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছায়; এ অবস্থার কোষপিণ্ডকে ব্লাস্টোসিস্ট বলে।
- সংস্থাপন: পরবর্তী বিকাশের জন্য ব্লাস্টোসিস্ট জরায়ুর ভেতরের প্রাচীরে প্রোথিত হয়; একে সংস্থাপন বা ইমপ্লান্টেশন বলে। ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4–5 দিনের মধ্যে এটি সম্পন্ন হয়।
- গর্ভাবস্থা: সংস্থাপন থেকে সন্তান জন্ম পর্যন্ত সময় গর্ভাবস্থা; এ সময় মাসিক হয় না। ভ্রূণ জরায়ুতে 38–40 সপ্তাহ ধরে বড় হয়।
অমরা
যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে জরায়ুর ভ্রূণ মায়ের টিস্যুর সাথে যুক্ত থাকে, তাকে অমরা বলে। ভ্রূণের কিছু কোষ ও জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলে ডিম্বাকার, রক্তনালিসমৃদ্ধ অমরা তৈরি করে; নিষেকের 12 সপ্তাহের মধ্যে এটি গঠিত হয়। এটি একটি অস্থায়ী অঙ্গ, প্রসবের সময় দেহ থেকে বের হয়ে যায়। অমরার কাজ:
- মায়ের রক্ত থেকে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি ও খনিজ লবণ ভ্রূণে পাঠায়।
- ফুসফুসের মতো: মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন নেয় এবং ভ্রূণের কার্বন ডাই-অক্সাইড মায়ের রক্তে দেয়।
- বৃক্কের মতো: ভ্রূণের বিপাকীয় বর্জ্য মায়ের রক্তে পাঠিয়ে অপসারণ করে।
- ভ্রূণ রক্ষা, স্বাভাবিক গঠন, মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন ও প্রসব সহজ করার হরমোন তৈরি করে।
অমরা আম্বিলিক্যাল কর্ড বা নাড়ির মাধ্যমে ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে; এই নালি দিয়েই মা ও ভ্রূণের মধ্যে পদার্থের বিনিময় হয়।
ভ্রূণ আবরণী
ভ্রূণের চারদিকে কয়েকটি ঝিল্লি বা ভ্রূণ আবরণী থাকে, যা ভ্রূণকে রক্ষা করে এবং পুষ্টি, গ্যাসীয় আদান-প্রদান ও বর্জ্য অপসারণে সাহায্য করে। প্রসবের শেষ পর্যায়ে আবরণী ফেটে ভেতরের তরল বের হয় এবং সন্তান জন্ম নেয়।
উদাহরণ: গর্ভাবস্থা গড়ে 40 সপ্তাহ হলে তা কত দিন? দিন, প্রায় 9 মাস। 38 সপ্তাহ হলে দিন।
মনে রাখো: জাইগোট ক্লিভেজে ব্লাস্টোসিস্ট হয়ে জরায়ুর প্রাচীরে সংস্থাপিত হয়; অমরা ও আম্বিলিক্যাল কর্ডের মাধ্যমে ভ্রূণ পুষ্টি ও অক্সিজেন পায় এবং 38–40 সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।