পড়ার নোট
আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবাণুর আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ শ্বেত রক্তকণিকা, যা রোগজীবাণু ধ্বংস করে, এবং অ্যান্টিবডি, যা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।
HIV কীভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নষ্ট করে
- HIV দেহে ঢুকে শ্বেত রক্তকণিকা ধ্বংস করে।
- এতে অ্যান্টিবডি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হয়।
- ফলে দেহে ধীরে ধীরে শ্বেত রক্তকণিকা ও অ্যান্টিবডির ঘাটতি দেখা দেয়।
- ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় দেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং নিঃশব্দে সংখ্যা বাড়ায়।
- শেষে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে; তখন সাধারণ জীবাণুও তাকে সহজে কাবু করে, তাই জ্বর, পাতলা পায়খানা, কাশির মতো সমস্যা দীর্ঘ সময় থাকে।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ফিরিয়ে আনার মতো কার্যকর ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, তাই রোগটির পরিণতি মারাত্মক। এ কারণে প্রতিরোধই এর প্রধান উপায়।
HIV এর গঠন
HIV এর বাইরে ফসফোলিপিডের আবরণ, তাতে GP 120 ও GP 41 গ্লাইকোপ্রোটিন থাকে; GP 120 পোষক কোষের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে। ভেতরে প্রোটিনের ক্যাপসিডে থাকে জিনগত বস্তু RNA এবং রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইম, যা RNA থেকে DNA তৈরি করে।
প্রতিরোধের উপায়
রোগ বিস্তারের কারণগুলো এড়িয়ে চললেই এইডস প্রতিরোধ সম্ভব:
- রক্ত নেওয়ার আগে রক্ত HIV মুক্ত কি না পরীক্ষা করা।
- প্রতিবার নতুন বা জীবাণুমুক্ত সুচ-সিরিঞ্জ ব্যবহার করা; সেলুনে নতুন ব্লেড চাওয়া।
- দাঁতের ও অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা।
- অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আগে দাতার HIV পরীক্ষা করা।
- অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন মেনে চলা।
- আক্রান্ত মায়ের সন্তানের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
উদাহরণ: একজন HIV আক্রান্ত ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে কাশি ও জ্বর সারছে না, অথচ সাধারণ মানুষের একই অসুখ কয়েক দিনে সেরে যায়। কারণ HIV তার শ্বেত রক্তকণিকা ধ্বংস করায় দেহ অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণুর সাথে লড়তে পারছে না।
সাধারণ ভুল হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমাজ থেকে আলাদা করে রাখা। HIV ছড়ায় নির্দিষ্ট উপায়ে, রক্ত ও শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে; সাধারণ মেলামেশায় নয়।
মনে রাখো: HIV শ্বেত রক্তকণিকা ধ্বংস করে ও অ্যান্টিবডি তৈরিতে বাধা দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে দেয়; কার্যকর নিরাময় নেই বলে বিস্তারের পথগুলো এড়িয়ে চলাই প্রতিরোধের উপায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।