offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১১ · টপিক ১৩

এইডস ও দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা

পড়ার নোট

আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবাণুর আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ শ্বেত রক্তকণিকা, যা রোগজীবাণু ধ্বংস করে, এবং অ্যান্টিবডি, যা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।

HIV কীভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নষ্ট করে

  1. HIV দেহে ঢুকে শ্বেত রক্তকণিকা ধ্বংস করে।
  2. এতে অ্যান্টিবডি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হয়।
  3. ফলে দেহে ধীরে ধীরে শ্বেত রক্তকণিকা ও অ্যান্টিবডির ঘাটতি দেখা দেয়।
  4. ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় দেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং নিঃশব্দে সংখ্যা বাড়ায়।
  5. শেষে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে; তখন সাধারণ জীবাণুও তাকে সহজে কাবু করে, তাই জ্বর, পাতলা পায়খানা, কাশির মতো সমস্যা দীর্ঘ সময় থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ফিরিয়ে আনার মতো কার্যকর ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, তাই রোগটির পরিণতি মারাত্মক। এ কারণে প্রতিরোধই এর প্রধান উপায়।

HIV এর গঠন

HIV এর বাইরে ফসফোলিপিডের আবরণ, তাতে GP 120 ও GP 41 গ্লাইকোপ্রোটিন থাকে; GP 120 পোষক কোষের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে। ভেতরে প্রোটিনের ক্যাপসিডে থাকে জিনগত বস্তু RNA এবং রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইম, যা RNA থেকে DNA তৈরি করে।

প্রতিরোধের উপায়

রোগ বিস্তারের কারণগুলো এড়িয়ে চললেই এইডস প্রতিরোধ সম্ভব:

  • রক্ত নেওয়ার আগে রক্ত HIV মুক্ত কি না পরীক্ষা করা।
  • প্রতিবার নতুন বা জীবাণুমুক্ত সুচ-সিরিঞ্জ ব্যবহার করা; সেলুনে নতুন ব্লেড চাওয়া।
  • দাঁতের ও অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা।
  • অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আগে দাতার HIV পরীক্ষা করা।
  • অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন মেনে চলা।
  • আক্রান্ত মায়ের সন্তানের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

উদাহরণ: একজন HIV আক্রান্ত ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে কাশি ও জ্বর সারছে না, অথচ সাধারণ মানুষের একই অসুখ কয়েক দিনে সেরে যায়। কারণ HIV তার শ্বেত রক্তকণিকা ধ্বংস করায় দেহ অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণুর সাথে লড়তে পারছে না।

সাধারণ ভুল হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমাজ থেকে আলাদা করে রাখা। HIV ছড়ায় নির্দিষ্ট উপায়ে, রক্ত ও শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে; সাধারণ মেলামেশায় নয়।

মনে রাখো: HIV শ্বেত রক্তকণিকা ধ্বংস করে ও অ্যান্টিবডি তৈরিতে বাধা দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে দেয়; কার্যকর নিরাময় নেই বলে বিস্তারের পথগুলো এড়িয়ে চলাই প্রতিরোধের উপায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. এইচআইভি (HIV) ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করলে কেন দেহের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায়? কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের অনাক্রম্যতা ব্যবস্থার প্রধান নিয়ামক শ্বেত রক্তকণিকার টি-সহায়ক লিম্ফোসাইটকে (T-helper lymphocyte / CD4+ cell) আক্রমণ করে এবং এই কোষের জিনোমে প্রবেশ করে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে দেহে অন্যান্য জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরির সমন্বয় ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। পরিণতিতে রোগীর স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং সাধারণ সুযোগসন্ধানী সংক্রমণেও (opportunistic infections) প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দেয়।

    1. এইচআইভি (HIV) একটি রেট্রোভাইরাস যা সুনির্দিষ্টভাবে দেহের অনাক্রম্যতার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী টি-সহায়ক লিম্ফোসাইট (CD4+ T-cell) কোষকে ধ্বংস করে।
    2. টি-কোষ ধ্বংসের ফলে অ্যান্টিবডি উৎপাদনের সংকেত বন্ধ হয়ে যায় এবং দেহ সুযোগসন্ধানী সংক্রমণের (opportunistic infections) বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
  2. মানবদেহে প্রবেশের পর এইচআইভি (HIV) ভাইরাস মূলত কোন রক্তকণিকাকে আক্রমণ ও ধ্বংস করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে?

    1. ক

      টি-লিম্ফোসাইট

    2. খ

      বি-লিম্ফোসাইট

    3. গ

      মনোসাইট

    4. ঘ

      নিউট্রোফিল

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) টি-লিম্ফোসাইট

    1. এইচআইভি (HIV) মানবদেহে প্রবেশ করে রক্তের শ্বেত রক্তকণিকার টি-লিম্ফোসাইটকে (T-lymphocyte) নির্দিষ্টভাবে আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে।
    2. টি-লিম্ফোসাইট ধ্বংস হওয়ার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়, যা এইডস (AIDS) রোগের মূল কারণ।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো