তামায় টিন মেশালে কী হয়?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
ধামরাইয়ের কাঁসারিরা তামার সঙ্গে প্রায় ২২% টিন গলিয়ে কাঁসার থালা-বাটি আর ঘণ্টা বানান। বিশুদ্ধ তামা নরম, সহজে বেঁকে যায়। টিন মেশালে ধাতুর কাঠিন্য আর গলনাঙ্কের কী হয়?
২২% টিন মেশালে কাঁসা কেমন হয়?
- অনেক শক্ত, গলনাঙ্ক কম, আর আঘাতে ঘণ্টার মতো বাজে
- নরম, কারণ টিন তামার চেয়ে নরম
- শক্ত, কিন্তু গলাতে আরও বেশি তাপ লাগে
- তামার মতোই, অল্প টিনে কিছু বদলায় না
যা বদলাতে পারবে
- কোন ধাতু মেশানো: তামা + টিন, তামা + জিংক
- মেশানো ধাতুর ভাগ: ০ থেকে ৪৫ %
যা মেপে দেখাবে
- নাম
- কাঠিন্য (HB)
- গলনাঙ্ক (°C)
- ঘণ্টার মতো বাজে?
- রং
চালানোর সময় খেয়াল করো
- টিনের ভাগ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে কাঠিন্য আর গলনাঙ্ক দেখো।
- জিংক মেশালে কী হয়? কোন ভাগে রং সোনালি?
নিজে করে দেখো
- তামার চেয়ে অন্তত তিন গুণ শক্ত (১৫০ HB) সংকর তৈরি করো।
ইঙ্গিত
টিন জিংকের চেয়ে বেশি শক্ত করে।
- ১০০০ °C এর নিচে গলে এমন সোনালি পিতল তৈরি করো।
ইঙ্গিত
অন্তত এক-পঞ্চমাংশ জিংক।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
সংকর ধাতু
দুই বা ততোধিক ধাতু (বা ধাতু ও অধাতু) গলিয়ে মিশিয়ে যে সমসত্ত্ব পদার্থ তৈরি হয় তাকে সংকর ধাতু বলে। বিশুদ্ধ ধাতুতে একই আকারের পরমাণু সারি সারি স্তরে থাকে; বল পড়লে স্তরগুলো সহজে পিছলে যায়, তাই ধাতু নরম ও নমনীয়। অন্য আকারের পরমাণু মেশালে স্তরে বাধা পড়ে, পিছলানো কঠিন হয়: সংকর শক্ত হয়, আর সাধারণত গলনাঙ্ক কমে, ঢালাই সহজ হয়। তামা ও টিনের সংকর ব্রোঞ্জ, প্রায় ২০ থেকে ২৫% টিনে কাঁসা বা বেল মেটাল, যা শক্ত ও বাজে; তামা ও জিংকে পিতল, সোনালি ও মরিচারোধী, তালা ও কলকব্জায় লাগে। লোহা ও কার্বনে ইস্পাত।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
সংকরের ধর্ম দুই ধাতুর গড় নয়। টিনের পরমাণু তামার স্তরে বাধা দেয়, তাই কাঁসা দুটোর চেয়েই শক্ত, আর মিশ্রণ বলে গলনাঙ্ক তামার চেয়ে কম।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- সংকরের কাঠিন্য উপাদান ধাতুগুলোর গড়
- ধাতু মেশালে গলনাঙ্ক বাড়ে
- অল্প পরিমাণ মেশালে ধর্ম বদলায় না
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- পিতলের দরজার কব্জা আর কল মরিচা ধরে না, তাই গোসলখানায় ব্যবহার হয়।