পড়ার নোট
কোনো গলিত ধাতুর সাথে অন্য এক বা একাধিক গলিত ধাতু বা অধাতু মিশিয়ে ঠান্ডা করলে যে কঠিন পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে সংকর ধাতু বা ধাতুসংকর বলে। এটি একটি মিশ্রণ, যৌগ নয়।
সংকর ধাতুর ইতিহাস
খ্রিষ্টপূর্ব 5000 থেকে 3000 অব্দ পর্যন্ত সময়কে তাম্র যুগ বলা হয়। তখন মানুষ কপার দিয়ে গয়না, অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি বানাত। কিন্তু কপার নরম ধাতু, তাই সেসব জিনিস বেশি দিন টিকত না। তখন গলিত কপারের সাথে গলিত টিন মিশিয়ে ঠান্ডা করে কাঁসা (ব্রোঞ্জ) তৈরি করা হয়। সংকর ধাতুর এই আবিষ্কার ছিল যুগান্তকারী। খ্রিষ্টপূর্ব 3000 থেকে 1000 অব্দকে বলা হয় ব্রোঞ্জ যুগ, যখন কাঁসা দিয়ে অস্ত্র ও যন্ত্র তৈরি হতো।
প্রধান ও অপ্রধান উপাদান
সংকর ধাতুতে উপাদানগুলো সমান পরিমাণে থাকে না। যে ধাতু বেশি থাকে তাকে প্রধান ধাতু, বাকিগুলোকে অপ্রধান উপাদান বলে; সংকর ধাতুকে প্রধান ধাতুর নামে পরিচিত করা হয়।
- স্টিল: লোহা 99%, কার্বন 1%; প্রধান ধাতু লোহা, তাই স্টিল লোহার সংকর ধাতু। এখানে অপ্রধান উপাদান কার্বন একটি অধাতু।
- কাঁসা: কপার 90%, টিন 10%; কপারের সংকর ধাতু।
- পিতল: কপার 65%, জিংক 35%; এটিও কপারের সংকর ধাতু। তাই কপারের দুটি পরিচিত সংকর ধাতু পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)।
- স্টেইনলেস স্টিল: লোহা 74%, ক্রোমিয়াম 18%, নিকেল 8%।
- ডুরালুমিন: অ্যালুমিনিয়াম 95%, কপার 4% এবং ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও আয়রন মিলে 1%।
উদাহরণ: 200 g পিতলে কত গ্রাম কপার ও জিংক আছে? কপার g, জিংক g। আর 500 g স্টেইনলেস স্টিলে লোহা g, ক্রোমিয়াম g, নিকেল g; যোগফল 500 g।
সাধারণ ভুল হলো কাঁসা ও পিতল গুলিয়ে ফেলা। দুটিই কপারের সংকর ধাতু, কিন্তু কাঁসায় মেশানো হয় টিন আর পিতলে জিংক।
মনে রাখো: গলিত ধাতুর সাথে অন্য ধাতু বা অধাতু মিশিয়ে ঠান্ডা করে সংকর ধাতু তৈরি হয়, আর যে ধাতু সবচেয়ে বেশি থাকে, সংকর ধাতুটি সেই প্রধান ধাতুর সংকর হিসেবে পরিচিত।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।