পড়ার নোট
দৈনন্দিন জীবনে আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চলবিদ্যুৎ ব্যবহার করি, তবে কিছু বিশেষ কাজে এখনো স্থির বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।
- ফটোকপি: কাগজের লেখার ওপর আলো ফেলে তার প্রতিচ্ছবি একটি বিশেষ রোলারে ফেলা হয়, ফলে লেখার আকারে রোলারে স্থির চার্জ তৈরি হয়। রোলারটিকে পাউডারের মতো সূক্ষ্ম কালির সংস্পর্শে আনলে যেখানে চার্জ আছে শুধু সেখানে কালি লাগে। এরপর নতুন কাগজে চাপ দিয়ে কালি বসিয়ে তাপ দিয়ে স্থায়ী করা হয়।
- ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিন: একটি ঘুরন্ত অপরিবাহী বেল্টে চার্জ স্প্রে করে বেল্টটি একটি ধাতব গোলকের ভেতরে নেওয়া হয়; একটি স্পর্শক চার্জটি গোলকে পৌঁছে দেয়। চার্জ সবসময় বেশি থেকে কম বিভবে যায়, তাই গোলকের ভেতরের চার্জ পৃষ্ঠে চলে যায়। এভাবে বিশাল চার্জ জমিয়ে অনেক উঁচু বিভব তৈরি করা যায়।
- স্থির বৈদ্যুতিক রং স্প্রে: গাড়ি, সাইকেল বা স্টিলের আলমারি রং করতে রঙের ক্ষুদ্র কণাকে চার্জিত করা হয়। কণাগুলো একে অপরকে বিকর্ষণ করে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রং করার জিনিসটি বিপরীত বিভবে বা ভূমির সঙ্গে যুক্ত থাকায় কণাগুলো আকৃষ্ট হয়ে দৃঢ়ভাবে লেগে যায়, এমনকি বলরেখা বরাবর গিয়ে আড়ালের অংশেও পৌঁছায়।
- বজ্রনিরোধক: উঁচু ভবনের ওপর সুচালো ধাতব শলাকা লাগিয়ে মোটা পরিবাহী তার দিয়ে মাটির গভীরে নেওয়া হয়। আবেশের ফলে শলাকায় চার্জ জমে সুচালো মাথায় তীব্র তড়িৎ ক্ষেত্র তৈরি হয়, যা আশপাশের বাতাস আয়নিত করে মেঘের চার্জ কমায়; বজ্রপাত হলেও চার্জ নিরাপদে মাটিতে যায়।
উদাহরণ: রং স্প্রেতে রঙের কণা ধনাত্মক চার্জিত আর আলমারিটি ভূমির সঙ্গে যুক্ত। কণাগুলো সমধর্মী বলে একে অপরকে ঠেলে মসৃণভাবে ছড়ায়, আর আবেশের কারণে আলমারির দিকে আকৃষ্ট হয়; ফলে রং কম নষ্ট হয় এবং আস্তরণ সমান হয়।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে স্থির বিদ্যুৎ শুধু চিরুনি দিয়ে কাগজ টানার মতো খেলনা পরীক্ষা। ফটোকপি থেকে বজ্রনিরোধক পর্যন্ত এর বাস্তব প্রয়োগ আছে।
মনে রাখো: ফটোকপি, ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিন, স্থির বৈদ্যুতিক রং স্প্রে ও বজ্রনিরোধক স্থির বিদ্যুতের আকর্ষণ, বিকর্ষণ ও আবেশ কাজে লাগায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।